One Piece protest: জাঁকজমকপূর্ণ অ্যানিমে সংস্কৃতি থেকে প্রতিবাদের ভাষা, দিল্লির রাজপথে নজর কাড়ল ‘ওয়ান পিস’ প্রতীক
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: জাপানি অ্যানিমে সিরিজ ‘ওয়ান পিস’-এর বিখ্যাত স্ট্র হ্যাট পাইরেটস-এর পতাকা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, নেপাল এবং ভারতের মতো বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মঞ্চে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে পপ সংস্কৃতি এবং অ্যানিমে যেভাবে সীমানা ছাড়িয়ে তরুণদের রাজনৈতিক অসন্তোষ ও মতামত প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠছে, এই নতুন ট্রেন্ডটি তারই এক অনন্য উদাহরণ ফুটিয়ে তুলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে চিরাচরিত স্লোগানের পাশাপাশি আধুনিক গ্লোবাল পপ কালচারের বিভিন্ন উপাদানকে অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে এই বিশেষ অ্যানিমে সংস্কৃতির প্রতীকটি প্রতিবাদের এক নতুন ভাষ্য তৈরি করেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দিল্লির বুকে সম্প্রতি যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। সেই আন্দোলনে আইসা (AISA)-র সভাপতি নেহা বোরা লাল রঙের একটি ‘ওয়ান পিস’ লেখা টি-শার্ট পরে উপস্থিত হন, যা তৎক্ষণাৎ গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর কাড়ে। রাজধানী দিল্লির মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ময়দানে তরুণ ছাত্রনেত্রীর এই ধরনের প্রতীকী পোশাক পরিধান করে প্রতিবাদে শামিল হওয়া প্রমাণ করে যে বিশ্ব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ভারতীয় রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রেও গভীর ছাপ ফেলছে।

বিশিষ্ট মাঙ্গা স্রষ্টা এইচিরো ওডা (Eiichiro Oda) কর্তৃক সৃজিত ‘ওয়ান পিস’ অ্যানিমে মূলত স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব এবং যেকোনো ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো চিরন্তন থিম বা ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজের পরিচিত সেই মাথার খুলি এবং খড়ির টুপি সংবলিত প্রতীকটি বা লোগোটি বর্তমানে প্রতিবাদী তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, একনায়কতন্ত্র এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে এই কাল্পনিক সংস্কৃতির প্রতীক ব্যবহার করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হলো এর ভেতরের মুক্তির বার্তা। তরুণ সমাজ মনে করে যে এই প্রতীকটি তাদের ভেতরের অদম্য জেহাদ ও সাহসিকতাকে প্রকাশ করার এক আদর্শ মাধ্যম।
অবশ্য নির্বাচন কমিশন এবং শাসক দল বা ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এই সমস্ত নির্বাচনী কারচুপি ও পরিচালনার অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে এই ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ এবং নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আধুনিক গণসংস্কৃতি ও অ্যানিমের প্রভাব গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। বিশ্বায়নের এই যুগে রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদের ধরন যে কতটা বদলে গেছে, এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট বার্তা বহন করে চলেছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলির বাইরে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তরুণরা যখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক পপ কালচারের প্রতীককে নিজেদের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন, তখন তা সমাজতাত্ত্বিকদের কাছেও গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সব মিলিয়ে, নেপাল থেকে শুরু করে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথ পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’-এর এই আত্মপ্রকাশ বর্তমান যুগের গ্লোবাল ইয়ুথ কালচারের এক অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রথাগত স্লোগান বা প্রতিবাদের পাশাপাশি পপ কালচারের এই প্রতীকগুলিকে ব্যবহার করে তরুণরা যেভাবে নিজেদের প্রতিবাদকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে, তা সমাজবিজ্ঞানীদের কাছেও এক নতুন গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের এই অভিনব আন্দোলনের ধারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং প্রশাসনের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এখন সেটাই দেখার মূল বিষয়। পপ কালচার ও রাজনীতির এই অপূর্ব সংমিশ্রণ আগামী দিনে যুব আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিকে কোন দিকে চালিত করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।




