Abhijeet Dipke CJP Protest Delhi: তেরঙ্গা ওড়ানোর দায়ে তিহাড় জেলে সৌরভ-আশুতোষ, শুক্রবার কনট প্লেসে বড় প্রতিবাদের হুঙ্কার সিজেপি প্রধানের
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান তথা প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আগামী শুক্রবার দিল্লির অত্যন্ত ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে সমস্ত দেশপ্রেমিক নাগরিকদের জড়ো হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমানোর জন্য যতই কড়াকড়ি করা হোক না কেন, সিজেপি নেতৃত্ব যে পিছু হঠতে নারাজ, তা এই নতুন ঘোষণার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই আকস্মিক ও উত্তেজক পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীও চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ সরাসরি অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে দলের দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে শুধুমাত্র দেশের তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর তথাকথিত ‘অপরাধেই’ জোর করে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন যে তাঁরা যে কোনো মূল্যে বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করে ছাড়বেন যে নিজেদের দেশের মাটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনো আইনি বা নৈতিক অপরাধ হতে পারে না। যাঁরা সশরীরে দিল্লির নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন যে তারা যেন নিজ নিজ শহরের অন্দরেই সমমর্যাদায় ‘তেরঙ্গা মিছিল’ বের করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এমনকি এই জোরালো প্রতিবাদের জেরে তাঁকেও যে আগামী দিনে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তিনি প্রকাশ্যেই তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু দিল্লি পুলিশ কমিশনারের পূর্বনির্ধারিত কঠোর নির্দেশিকা অনুযায়ী যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে নিষিদ্ধ করায় পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় এবং ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার অপরাধে সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলে। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর পাশাপাশি দলের অপর সদস্য অজিনক্য শিন্ডেকে ছয় মাস শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার শর্তে এবং পাঁচ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা বা বন্ডের বিনিময়ে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে যন্তর মন্তর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য আর স্বীকৃত বা অনুমোদিত নয়, তা সত্ত্বেও ধৃত নেতারা নির্দিষ্ট ১৪৪ ধারা ও পূর্বে সই করা ‘শান্তি বন্ড’ বা পিস বন্ডের শর্ত সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছেন। কিন্তু সিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে পুলিশের এই সমস্ত আইনি যুক্তিকে সম্পূর্ণ একপেশে ও দমনমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সাফ কথা, দেশের রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করা এবং জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ জানানো প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। প্রশাসনের এই অনৈতিক ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আগামী শুক্রবারের কনট প্লেসের জমায়েত এক বিরাট রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

সব মিলিয়ে, সিজেপি নেতাদের তিহাড় জেলবাস এবং তার পরবর্তীতে অভিজিৎ দীপকের এই নতুন আন্দোলনের আহ্বানে জাতীয় রাজধানীর রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং অন্যদিকে রাজপথে নেমে জাতীয় পতাকাকে সামনে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেহাদ—এই দুইয়ের দ্বৈরথে আগামী শুক্রবারের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের একাংশ যেভাবে এই আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠছে, তাতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন রূপ নেয় এবং প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশ।




