Supreme Court Gyanesh case: জ্ঞানেশ কাণ্ড-সহ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ, আজ সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ মামলার শুনানির সম্ভাবনা

Published:

Supreme Court Gyanesh case: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পিটিশন থেকে পুলিশি নির্যাতন, আজ সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ মামলার মেগা শুনানি

রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ

দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর এই পবিত্র আবহেই গোটা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলের প্রধান নজর গিয়ে ঠেকেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে, কারণ আজ সুপ্রিম কোর্টে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই সুপ্রিম কোর্ট জ্ঞানেশ কেস (Supreme Court Gyanesh case) দেশজুড়ে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার ফলে আগামী দিনের বিচারব্যবস্থার পর্যবেক্ষণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশ। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী দিল্লিতে যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিরোধীদের আন্দোলন দমনে প্রশাসন যেভাবে কঠোর পদক্ষেপ করেছে, তার প্রতিটি দিক আজ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে বিচার্য বিষয় হিসেবে উঠতে চলেছে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি থেকে শুরু করে রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর চলা পুলিশি নির্যাতন এবং গত ১০ অক্টোবর দিল্লির ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগগুলির ওপর সর্বোচ্চ আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Advertisement
Advertisement of Burger4u

এই হাইভোল্টেজ শুনানির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিরোধী দলের এগারোজন শীর্ষ নেতা-নেত্রীর করা একটি যৌথ পিটিশন, যা ‘বিরোধী-ইলেভেন’ মামলা হিসেবে পরিচিত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবিতে গত সোমবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এক প্রতিবাদী মিছিল করেছিলেন এবং পরবর্তীতে রাহুল গান্ধী, সৌগত রায়, এম এ বেবি, অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবসহ মোট ১১ জন বিরোধী নেতা এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিক পিটিশন দাখিল করেন। এই পিটিশনে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সান্ধুকে পক্ষ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই পিটিশনে দশটিরও বেশি ত্রুটি থাকায় আদালত ভুল সংশোধন করে পুনরায় তা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিল, যা আজ শুনানির জন্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

Mamata Banerjee Attack Claims: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে ছুরি হাতে হামলার চেষ্টা! পুলিশের বয়ানের সঙ্গে সংঘাত তৃণমূলের

এর পাশাপাশি, গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ যেভাবে রাজধানী শহরকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করেছিল, তা নিয়েও একাধিক মামলা আজ শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সেদিন আন্দোলন প্রতিহত করতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন প্রধান রাস্তায় কড়া ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। যদিও প্রধান বিচারপতি আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ওইদিন ট্রেন বা মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না, কিন্তু দিল্লি পুলিশ সেই নির্দেশ পুরোপুরি মান্য করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বহু প্রতিবাদীকে জোর করে আটক করা হয় এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও সামনে আসে, যা নিয়ে অন্তত বারোটি পৃথক পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে।

Advertisement
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy

আইনি লড়াইয়ের পরিসর আরও বাড়িয়ে দিয়ে ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩’-এর ১৬ নম্বর ধারাটিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি স্বতন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিতর্কিত ধারাটি মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন করা যেকোনো কাজের জন্য বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ বা ইমিউনিটি প্রদান করে থাকে। আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে এই মামলাটিরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের আইনি সুরক্ষা এবং ক্ষমতার পরিধি নিয়ে নতুন করে বড়সড় আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে বিরোধীরা যখন মাটি কামড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Abhijeet Dipke CJP Protest Delhi: বন্দি সৌরভ-আশুতোষ, প্রতিবাদে দিল্লিতে ফের আন্দোলনের ডাক অভিজিৎ দীপকের

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজের মাঝেই আজকের এই ‘সুপ্রিম’ শুনানি জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা এই লড়াইয়ের মধ্যে দেশের শীর্ষ আদালত কী রায় বা পর্যবেক্ষণ দেয়, তা আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে নির্ধারণ করে দেবে। একদিকে রাজপথের তরজা এবং অন্যদিকে বিচারব্যবস্থার কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে চলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই সংবেদনশীল মামলাগুলিতে কী রায় বা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়।

Advertisement
Advertisement of S. Bhattacharya & Associate
Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img