Sandip Ghosh bail: সন্দীপ ঘোষের জামিন মানেই কি তিনি নির্দোষ? সিবিআইয়ের ভূমিকা ও আদালতের রায় নিয়ে মুখ খুললেন সমীক ভট্টাচার্য

Published:

Sandip Ghosh bail: সন্দীপ ঘোষের জামিন মানেই কি নির্দোষ হওয়া? আদালতের রায় ও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সমীক ভট্টাচার্যের

রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ

 

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও চিকিৎসকমহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও, এই রায়কে ঘিরে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মাঝে এই বিষয়ে মুখ খুলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়াই মানে এই নয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে গেছেন। আদালতের এই রায় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ধীর গতি নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তখন এই মন্তব্য বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

Flyover Accident Kolkata: চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পরপর বাইক দুর্ঘটনা, রাতভর বন্ধ রেখে বসানো হল ক্যাটস আই

Kolkata: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে, আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষের জামিন মঞ্জুর হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না বা তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, আইন কখনোই মানুষের আবেগ বা জনমত দ্বারা চালিত হয় না, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রবিধানের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সুপ্রিম কোর্ট মূলত সন্দীপ ঘোষের দীর্ঘ দুই বছরের কারাবাস এবং মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় চরম দীর্ঘসূত্রিতা ও সাক্ষ্যগ্রহণের শ্লথ গতিকে বিবেচনা করেই এই স্বস্তি প্রদান করেছে। কিন্তু এর ফলে জনমানসে বা জনসাধারণের গঠিত আদালতে তাঁর অপরাধের দায় কোনোভাবেই মুছে যায় না বলে তিনি স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন।

Advertisement Andaman Vibes
Advertisement of Andaman vibes

এদিকে সন্দীপ ঘোষের এই জামিন পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন খোদ নির্যাতিতার বাবা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, ১৪৭ কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক এই কেন্দ্রীয় সংস্থা যদি এমন চরম গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রিতা প্রদর্শন করে, তবে সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখবে? সিবিআইয়ের এই অপদার্থতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া বা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। যদিও তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে সিবিআই একটি স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা হওয়ায় রাজ্য সরকারকে সরাসরি এর জন্য দায়ী করা চলে না, তবুও এই ধরনের ঘটনায় বিচার পাওয়ার আশাহত পরিবার আরও বেশি যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছে।

Kolkata Metro Night Service: মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সারারাত মেট্রো চালুর সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের সুরক্ষায় কি বিশেষ ব্যবস্থা নিল রেল?

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হলের অন্দরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই এই দুর্নীতি মামলাটি আইনি জাঁতাকলে পড়েছিল। সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই সন্দীপ ঘোষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে সিবিআই চার্জশিট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শিয়ালদহ আদালত তাঁকে জামিন দিলেও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তিনি জেলবন্দি ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং বিভিন্ন উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এই জামিন মিলল। তবে এই আইনি মুক্তি যে মামলার মূল সত্যতা বা জনসাধারণের ধারণাকে বদলাতে পারেনি, তা বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন ও প্রতিবাদী মুখগুলির ক্ষোভ থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Advertisement
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy

সব মিলিয়ে, আর জি কর কাণ্ডের ছায়া এবং আর্থিক দুর্নীতির এই আইনি অধ্যায় বাংলার রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার সামনে এক দীর্ঘমেয়াদী প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। একদিকে আইনগত অধিকার হিসেবে জামিন পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া এবং অন্যদিকে জনমানসে বিচার পাওয়ার অন্তহীন অপেক্ষা—এই দুইয়ের সংঘাত আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করবে। আদালতের এই রায়ের ফলে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হলেও, প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি থেকে যে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরা একচুলও সরে দাঁড়াবেন না, তা তাঁদের লাগাতার প্রতিবাদের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই মামলার পরবর্তী বিচারপর্ব কীভাবে এগোয় এবং সিবিআই বা আদালত এই নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।

Advertisement
Advertisement of S. Bhattacharya & Associate
Taniya Roy
Taniya Roy
Taniya Roy (Asst. Editor) Website Management, Page:3 & Cultural News, Semi Political News Maker and mainly Social Media Publisher.

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img