Calcutta High Court CPM stall: যাদবপুরে সিপিএমের বুক স্টল ভাঙা নিয়ে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার সংঘর্ষের পর কী নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট?

Published:

Calcutta High Court CPM stall: যাদবপুরে সিপিএমের বুক স্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে ১২ ঘণ্টার খণ্ডযুদ্ধ, বড় স্বস্তি দিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়

Kolkata: কলকাতার যাদবপুরে সিপিএমের ঐতিহ্যবাহী বুক স্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বাম কর্মীদের মধ্যে টানা ১২ ঘণ্টা ধরে চলা খণ্ডযুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার আবহে অবশেষে বড় ধরনের আইনি স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের পর আদালত আগামী ২০ অক্টোবর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে এবং তক্ষুনি স্টল ভাঙার ওপর এক প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার যৌথ দল এক্সকাভেটর বা জেসিবি নিয়ে রাতারাতি ওই অস্থায়ী কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাম নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের তীব্র প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পুজোর মরশুমে এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি করেছে।

Shardwat Mukherjee patient shifting: ‘রেফার নয়, রোগীদের ইচ্ছেতেই বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর’, বিতর্কে মুখ খুলে দাবি শারদ্বতের

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত শনিবার গভীর রাতে পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা এক্সকাভেটর বা জেসিবি নিয়ে যাদবপুরের ওই সিপিএমের বুক স্টলটি ভেঙে ফেলার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু খবর পেয়েই সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত ও সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শত শত বাম সমর্থক ও কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বুলডোজারের সামনে শুয়ে পড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সুচি (SUCI) ও এপিডিআর (APDR)-এর কিছু স্টল প্রশাসন ভেঙে দিতে সক্ষম হলেও সিপিএমের বুক স্টলের সামনে পুলিশকে দীর্ঘ বারো ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়। রবিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির জেরে পুলিশ একাধিকবার লাঠিচার্জ করলেও বামেদের অনমনীয় প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক কাঠামো ভাঙার কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

Advertisement Andaman Vibes
Advertisement of Andaman vibes

এই ঘটনার পরেই আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে সিপিএম রবিবারই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়, এবং আদালত আগামী ২০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দলটির নেতৃত্ব। হাই কোর্টের এই নির্দেশকে আইনি ভাষায় ‘পেন্ডিং ম্যাটার’ বা স্থিতাবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করে সিনিয়র আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে এর ফলে পুলিশ আপাতত ওই বুক স্টলটি ভাঙতে পারবে না। আদালতের এই রায়ের পর সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সামাজিক মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে সমস্ত বইপ্রেমী ও লড়াকু কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে আইনি কোনো নোটিস বা পূর্বানুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে পুলিশ এই বুলডোজার রাজ চালিয়েছিল।

Chorbagan Stampede Inquiry: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, বিচারপতির নেতৃত্বে কি হবে আসল সত্য উন্মোচন?

এদিকে যাদবপুরের এই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকেও সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর বা রাজনৈতিক সংঘাতের একাধিক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। বারাসতের নবপল্লী এলাকায় একটি বাম বুক স্টলে দুষ্কৃতী বা বিজেপি আশ্রিত কিছু লোক হামলা চালালে অন্তত পাঁচ জন সিপিএম সমর্থক গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি মালদার চাঁচল এলাকায় নেত্রাচৌহদ্দির কাছে একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপের পাশে সিপিএমের একটি মার্ক্সবাদী সাহিত্য বিক্রির স্টল বজরং দলের কর্মীদের হুমকির মুখে পড়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মালদহ শহরেও ঐতিহ্যবাহী বুক স্টলের জায়গা অন্য কোনো সংস্থাকে বরাদ্দ করায় সিপিএম কর্মীরা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তির সামনে প্রতীকী প্রতিবাদ ও বই বিক্রি কর্মসূচি পালন করেন।

Advertisement
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর ও উৎসবের আবহে বুক স্টল বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ধারাবাহিক সংঘর্ষ এবং আইনি লড়াই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানকে ফের এক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে প্রশাসন যখন অবৈধ জবরদখল ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী কাঠামো হঠাতে তৎপর হয়েছে, অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি একে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত বলে অভিহিত করে রাজপথের আন্দোলন তীব্রতর করার হুঙ্কার দিয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর হাই কোর্টে এই মামলার শুনানির দিকে এখন শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, বরং সাধারণ মানুষও তাকিয়ে রয়েছে, যা এই উত্তাল পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় কোন দিকে নেয় তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেবে।

Advertisement
Advertisement of S. Bhattacharya & Associate
Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img