Mohan Bhagwat Chorbagan Stampede: কলকাতার চোরবাগান মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার জন্য সরকার ও পুজো কমিটিকে তীব্র আক্রমণ করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Nagpur: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ঘটে যাওয়া বেনজির ও মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দৈবদুর্বিপাক নেই, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকার, প্রশাসন ও পুজো কমিটির মানুষের ভুল এবং চরম গাফিলতির অনিবার্য ফল—এমনটাই অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ও জোরালো ভাষায় দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। নাগপুর মেট্রোপলিটনে আয়োজিত বিজয়া দশমী বা দশেরার এক ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি কলকাতার এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রশাসনিক ত্রুটির দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন। এদিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় এবং কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকড়ির মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি সমগ্র সভার তাৎপর্যকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
বিজয়া সম্মিলনীর পবিত্র ও গাম্ভীর্যপূর্ণ মঞ্চ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত অত্যন্ত কঠোর সুরে জানান যে, কলকাতার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে সাধারণ মানুষের এই মর্মান্তিক অপমৃত্যুর জন্য প্রকৃতিকে কোনোভাবেই দায়ী করা চলে না, কারণ এটি পুরোপুরি মানুষের তৈরি অব্যবস্থা, ভুল সিদ্ধান্ত ও ভিড় ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার মাশুল। উৎসবের মরশুমে পুজো মণ্ডপগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে মারাত্মক ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি ও উদাসীনতা কাজ করেছিল, তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা প্রকারান্তরে রাজ্য প্রশাসন এবং স্থানীয় পুজো কমিটিগুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার কথা মাথায় না রেখে কেবল জাঁকজমক ও লোকদেখানো প্রচার প্রদর্শনের যে অসুস্থ প্রবণতা বিভিন্ন পুজো মণ্ডপগুলিতে জাঁকিয়ে বসেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অবিলম্বে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

শুধু কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনাই নয়, এর পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রসঙ্গটিও অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন আরএসএস প্রধান। হিমালয় পর্বতমালা একাধিক দেশজুড়ে বিস্তৃত থাকা সত্ত্বেও সেখানে বিশেষ কয়েকটি দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেভাবে নির্বিঘ্নে পরিবেশ শোষণ করে চলেছে এবং উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর অবর্ণনীয় ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে, তারই অনিবার্য ফল হিসেবে আজ বিভিন্ন পাহাড়ি ও সংলগ্ন অঞ্চলে বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেশী দেশ নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিপর্যয়ের উদাহরণ টেনে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে সেখানেও প্রকৃতির কোনো নিজস্ব দোষ বা রোষ ছিল না, বরং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করার পেছনে কিছু প্রভাবশালী দেশের মানুষের ভুল নীতি ও অবিবেচনাপ্রসূত কাজকর্মই প্রধানত দায়ী ছিল।

বর্তমান আধুনিক ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহার এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সংস্কার বজায় রাখার ক্ষেত্রেও দেশের যুব সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মোহন ভাগবত। তিনি তাঁর বক্তব্যে জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজকে সঠিক নৈতিক মূল্যবোধ, শালীনতা ও আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা বর্তমান সমাজের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি উপস্থাপনের সময় তরুণদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল, পরিপক্ব ও সংযত হওয়া উচিত। কলকাতার চোরবাগান ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা বিভিন্ন পরিবেশগত বিপর্যয়—সর্বত্রই মানুষের ভুলভ্রান্তি, দূরদর্শিতার অভাব এবং সচেতনতার চরম সংকট যে আজকের দিনে সমাজকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাঁর এই তাত্পর্যপূর্ণ বক্তব্যে সেই গভীর সত্যতাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।




