Suvendu Adhikari Sanatan Dharma: প্রতিমা স্পর্শে মানতে হবে ধর্মীয় নিয়ম, বাবুঘাটে বিসর্জন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Kolkata: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের বিপর্যয়ের পর প্রতিমা বিসর্জনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বাবুঘাটে উপস্থিত হয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গঙ্গার জলে প্রতিমা নামানো এবং বিসর্জনের সময় কেবলমাত্র ‘সনাতন ধর্ম’-এর অনুগামীরাই প্রতিমা স্পর্শ করার অনুমতি পাবেন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দ এবং পৌর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে সঙ্গে নিয়ে বাবুঘাটের সমস্ত প্রস্তুতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে এটি কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় নিয়মকানুন রক্ষার একটি পবিত্র ব্যাপার।
বিসর্জনের পবিত্রতা বজায় রাখার প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে যে সমস্ত শাস্ত্রীয় নিয়ম, ঐতিহ্য ও পঞ্জিকা মেনে দুর্গোৎসব পরিচালিত হয়ে আসছে, বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সেই সুশৃঙ্খল নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করা অনিবার্য। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যাতে প্রতিমা বহন করে গঙ্গার জলে নামার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঠিক পরিচিতি ও পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহুমুখী ও সুদৃঢ় বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এমনকি পূর্বে অভিযোগ ওঠা ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলির সুব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুজোয় নিরপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-কেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে ইছামতী নদীতে নৌকায় চড়ে প্রতিমা বিসর্জন ও দর্শনের সময় দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান যে সেখানে প্রায় দুশোরও বেশি দেশি নৌকা বা ডিঙি দর্শনার্থীদের নিয়ে জলে নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা প্রশাসন নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও সেন্টিমেন্টকে মান্যতা দিতে হয়েছে। তবে যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট এবং নৌকার ওজন সমতা বজায় রাখার মতো কঠোর সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এবং বিএসএফ (BSF)-কে বিশেষভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। বারাসত রেঞ্জের ডিআইজি এবং একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চোরবাগানের সেই অভিশপ্ত মহাশপ্তমীর সন্ধ্যার মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর থেকে রাজ্য জুড়ে আইনশৃঙ্খলা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গঙ্গার ঘাটগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজও ত্বরান্বিত করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী তিনটি পুলিশ কমিশনারেট এলাকার প্রতিটি ঘাটে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালাতে মোট ১৮ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে ময়দানে নামানো হয়েছে। পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং পুরসভার পাশাপাশি পোর্ট ট্রাস্ট সহ অন্যান্য সংস্থাও প্রয়োজনে এই উদ্ধার ও সুরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর শেষলগ্নে প্রতিমা বিসর্জনের এই পবিত্র অনুষ্ঠানকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল করার জন্য রাজ্য প্রশাসন যে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ। সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য রক্ষা এবং জননিরাপত্তার এই দ্বিমুখী প্রচেষ্টায় প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজে মাঠে নেমে তদারকি করছেন। আগামী দিনে এই সমস্ত কড়া নিরাপত্তা বিধি ও নির্দেশিকা মেনে সুষ্ঠুভাবে বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন হওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্যবাসী।




