Swapan Dasgupta condemns CPM bookstall vandalism: বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরে লজ্জিত অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, তীব্র নিন্দা করে তুললেন রাজনৈতিক ঝড়
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Kolkata: দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর আবহে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামেদের ঐতিহ্যবাহী বুকস্টল ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তীব্র চাপানউতোর চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই ঘটনার অত্যন্ত জোরালো ও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দিক থেকে বামেদের সঙ্গে তাঁদের চিরকালীন তীব্র অমিল ও নৈতিক বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও, পুজোর বাজারে বই বিক্রির স্টলে হামলা চালানোর এই বর্বরোচিত ঘটনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ‘লজ্জিত’ করেছে এবং এটি তাঁর ‘মাথা নত করে দিয়েছে’ বলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন। অর্থমন্ত্রীর এই অপ্রত্যাশিত ও সৎ অবস্থানের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
অষ্টমীর পবিত্র সকালে অঞ্জলি দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা কেবল একটি জায়গায় ঘটলে তা তাও খতিয়ে দেখা যেত, কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে যে একই দিনে তিন-চারটি ভিন্ন জায়গায় এমন হামলা হয়েছে, তখন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বামেদের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং তাত্ত্বিক লড়াই রাজনৈতিক ময়দানেই হওয়া উচিত, কিন্তু কাউকে বই বিক্রি করতে না দেওয়ার অধিকার বা ঔদ্ধত্য কে বা কারা দিল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে এই ধরনের অসহিষ্ণুতা ও তাণ্ডব কোনো সুস্থ সমাজে বরদাস্ত করা যায় না এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা না করে তিনি পারছেন না।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর এই খোলাখুলি নিন্দার পরেই শাসক শিবিরের দিকে আঙুল তুলে পালটা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিশিষ্ট বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে দাবি করেছেন যে, এই পুরো বিতর্কের বীজ বা সূত্রপাত আসলে বিধানসভার অন্দ থেকেই রোপিত হয়েছিল। শতরূপ ঘোষের অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিক এর আগের বিধানসভা অধিবেশনেই বা প্রায় এক মাস আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী পুজোর সময় বামেদের বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না বলে একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন বা বার্তা দিয়েছিলেন, আর তারই ফলশ্রুতি হিসেবে আজ তৃণমূল বা তাদের আশ্রিতরা এই ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ চালানোর সাহস পাচ্ছে। বাম নেতার এই পালটা মন্তব্যে রাজনৈতিক তরজা আরও অনেক বেশি তুঙ্গে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর থেকে শুরু করে বারাসত ও মালদার চাঁচল সহ বিভিন্ন জেলায় সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর, বাধা দেওয়া এবং অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। একদিকে যখন প্রশাসন অবৈধ জবরদখল ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কড়া পদক্ষেপ করছে, অন্যদিকে তখন রাজনৈতিক দুষ্কৃতীরা এই সুযোগে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন একটি সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খোদ মন্ত্রিপরিষদের হেভিওয়েট সদস্য স্বপন দাশগুপ্তের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও নিরপেক্ষ প্রতিবাদী অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক দুর্লভ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা নিয়ে দলের অন্দরেও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দকে ম্লান করে দিয়ে বুকস্টল ভাঙচুরের এই রাজনৈতিক হিংসা এবং তার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর এই সাহসী মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত পোষণ করার অধিকার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নটি আজ আবার সবচেয়ে বড় হয়ে সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই বুকস্টল বিতর্ক কোন রাজনৈতিক মোড় নেয় এবং এর জেরে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।




