CJP leaders case Crime Branch: তিহাড়ে বন্দি সিজেপি নেতাদের আইনি লড়াই আরও কঠিন, সৌরভ-আশুতোষের দ্বিতীয় মামলা গেল ক্রাইম ব্রাঞ্চে
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: যন্তর মন্তর চত্বরে নিয়ম ভেঙে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের অভিযোগে কারাবন্দী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও একটি নতুন মামলা ক্রাইম ব্রাঞ্চ বা অপরাধদমন শাখার কাছে হস্তান্তর করল দিল্লি পুলিশ [cite: ]. পুলিশ সূত্র মারফত মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যার ফলে এই বিশেষ বিশেষায়িত তদন্তকারী ইউনিটের হাতে ধৃত সিজেপি নেতাদের মোট মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুটিতে [cite: ]. এর আগে গত সোমবার যন্তর মন্তর চত্বরে অনধিকার প্রবেশ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রথম মামলাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, আর এবার দ্বিতীয় মামলাটিও তাদের হাতে তুলে দেওয়ায় এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তের পরিধি আরও অনেক বেশি ঘনীভূত হলো
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিন্য শিন্ডে সহ মোট ১৪ জন সদস্য এমন একটি এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন যা ইতিমধ্যেই প্রতিবাদস্থল হিসেবে ডিনোটিফাই বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে [cite: ]. ওই সমস্ত আন্দোলনকারীরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির সীমানা দিয়ে জোরপূর্বক বা ট্রেসপাস করে যন্তর মন্তর চত্বরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালান [cite: ]. এই ঘটনায় পুলিশ মোট ১৪ জনকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল [cite: ]. শান্তিভঙ্গ সংক্রান্ত বন্ড লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এই দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল, এবং পরবর্তীতে গত সোমবার তাঁদের সেই জুডিশিয়াল কাস্টডি বা হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়

যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করা এবং পুলিশের কঠোর ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলার অপরাধে এই দুই নেতা বর্তমানে তিহাড় জেলের অন্তরালে দিন কাটাচ্ছেন [cite: ]. এদিকে কারাবন্দী এই দুই সহ-সংযোজক বা কো-কনভেইনারদের দলের মূল চালিকাশক্তি বলে অভিহিত করেছেন স্বয়ং সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে [cite: ]. সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ প্রকাশিত একটি দীর্ঘ ষোলো মিনিটের ভিডিও বার্তায় দীপকে আবেগঘন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সৌরভ ও আশুতোষই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন এবং তিনি মূলত তাঁদের নির্দেশ মেনেই চলতেন [cite: ]. দলের এই সংকটজনক পরিস্থিতির মাঝেও দীপকে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে দীপাবলি পর্যন্ত সিজেপির পক্ষ থেকে আর কোনো বড়সড় প্রতিবাদ বা আন্দোলন সংগঠিত করা হবে না
উৎসবের মরশুম তথা দুর্গাপুজো ও দীপাবলির পবিত্র দিনগুলিকে সামনে রেখে তিনি ককরোচ জনতা পার্টির সমস্ত সমর্থক ও কর্মীদের সাময়িকভাবে এই আন্দোলন থেকে বিরতি নেওয়ার এবং নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন [cite: ]. এক প্রকার স্বস্তি ও পারিবারিক পরিসরের কথা মাথায় রেখেই আপাতত রাজপথের লড়াই কিছুদিনের জন্য থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন [cite: ]. তবে অন্যদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে জোড়া মামলার তদন্তভার চলে যাওয়ায় আইনি জাঁতাকলে পড়া সিজেপি নেতাদের ওপর আইনি চাপ যে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য [cite: ]. আগামী দিনে এই বিশেষ তদন্তকারী দল ধৃতদের জেরা করে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য বের করে আনে এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে এই মামলার মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল

সব মিলিয়ে, ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন ও পুলিশি কড়াকড়ির ঘটনা জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক পারদকে লাগাতার চড়িয়ে রেখেছে [cite: ]. একদিকে যখন দলের প্রধান সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে কর্মীদের পরিবারকে সময় দিতে বলেছেন, অন্যদিকে তখন আইনি লড়াইয়ের গ্যাঁড়াকলে বন্দি নেতারা জেলের ভেতরেই দিন কাটাচ্ছেন [cite: ]. আইনের কড়া নজরদারি এবং পুলিশের এই বিশেষ তদন্তের ফলে আগামী দিনে সিজেপির আন্দোলন কোন রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়




