Tiger Shroff Juhu Firing: জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা, অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Mumbai: মুম্বইয়ের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকা জুহুতে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলি চালানোর ঘটনায় গোটা বিনোদন জগতে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটা এই সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়ার পরেই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সোজাসুজি অভিনেতার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার সমস্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে যে টাইগার শ্রফ গায়ে জামা না পরে সোফায় বসে রয়েছেন এবং তাঁর বুক ও বাঁ হাতে স্পষ্ট ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে। এই আকস্মিক ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করে উপমুখ্যমন্ত্রী একে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন এবং ইতিমধ্যে মুম্বই পুলিশের কমিশনার ও স্বয়ং অভিনেতার সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
পুলিশ ও নানাবতী হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যে জানা গিয়েছে যে, রবিবার সন্ধ্যায় একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে নিজের দামী বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে সপরিবারে বাড়ি ফেরার পথেই পুস্প পার্কের সংলগ্ন এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত তিন রাউন্ড গুলি চালায় সশস্ত্র বন্দুকবাজেরা। এই বর্বরোচিত হামলায় অভিনেতার ব্যক্তিগত গাড়িচালক গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাঁর বাঁ হাতে সরাসরি গুলি লাগায় চিকিৎসকদের মতে তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, টাইগার শ্রফ নিজে সরাসরি বন্দুকের গুলির আঘাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেও, গাড়ি ভাঙচুরের সময় ওড়া কাঁচের ধারালো টুকরো এবং বিস্ফোরকের গানপাউডারের সংস্পর্শে এসে তাঁর বুক ও হাতে সামান্য জখম হয়। ঘটনার পরপরই তাঁকে দ্রুত স্থানীয় নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়, এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বলিউড অন্দরে এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এবং অভিনেতার জুহুর বাসভবনে একে একে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আত্মীয় ও সহকর্মীরা এসে পৌঁছাতে শুরু করেন। ঘটনার দিনই তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছেছিলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি, যাঁকে পাপারাজ্জির ক্যামেরায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অভিনেতার বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে টাইগার ও দিশার সম্পর্কের নানা গুঞ্জন বলিউড চত্বরে প্রচলিত থাকলেও তাঁরা কখনোই জনসমক্ষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি, তবে এই বিপদের দিনে দিশার এই উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জুহুর মতো একটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও অভিজাত এলাকায় এমন ফিল্মি কায়দায় বন্দুকবাজদের নির্বিঘ্নে হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব অনুধাবন করে মুম্বই পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে একাধিক বিশেষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসন এবং রাস্তার ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা, যাতে হামলাকারীদের সঠিক যাতায়াতের রুট এবং ব্যবহৃত যানবাহনের সুনির্দিষ্ট হদিশ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই সশস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ওই দাবির সত্যতা এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে অপ্রমাণিত ও যাচাইহীন রয়েছে। সাইবার অপরাধ দমন শাখার বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন যে এই ভাইরাল পোস্টের পেছনে আসল সত্যিটা ঠিক কী।

সব মিলিয়ে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর গুলি চালানোর ঘটনা বর্তমান সময়ে মুম্বইয়ের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে নতুন করে তীব্র জল্পনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে নিজে সরাসরি পুরো ঘটনার তদারকি করায় পুলিশ প্রশাসনের ওপর অপরাধীদের পাকড়াও করার চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত অগ্রগতি, হামলাকারীদের আসল পরিচয় এবং তাদের গ্রেপ্তারের খবরের দিকেই এখন সমগ্র দেশের নজর নিবদ্ধ রয়েছে। অনুরাগীরা টাইগার শ্রফের দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন, আর পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে অপরাধীদের জালে তোলার প্রক্রিয়া এখন একেবারে অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে।




