পেট্রোলের গুণমানে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের! দেশজুড়ে ২,৫৭৩টি পাম্পে বিক্রি বন্ধের নির্দেশ, চলছে বিশেষ অভিযান

Published:

পেট্রোলের গুণমান এবং গাড়ির ইঞ্জিনের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। ফুয়েলে জল ঢোকা, রাসায়নিক দূষণ এবং নির্ধারিত মানদণ্ড না মানার মতো নানা অভিযোগ সামনে আসার পর দেশের মোট ২,৫৭৩টি রিটেল ফুয়েল আউটলেটে পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও দেশের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMC) প্রত্যক্ষ নজরদারিতে দেশজুড়ে চলছে এই বিশেষ ‘কোয়ালিটি-কন্ট্রোল’ অভিযান।

আরও পড়ুন: চাপ বাড়ল NCPI শিবিরে! অভিষেকের আবেদনের জেরে ২০ তৃণমূলত্যাগী সাংসদকে স্পিকারের নোটিস 

সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের তিনটি প্রধান তেল সংস্থার পাম্পে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যার মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েলের (IOCL) সর্বাধিক ১,২৫৭টি পাম্প, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (HPCL) ৯১৫টি পাম্প এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের (BPCL) ৪০১টি পাম্প রয়েছে। অর্থাৎ এই তিন সংস্থা মিলিয়ে মোট ২,৫৭৩টি আউটলেটে আপাতত বিক্রি স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কে হতে চলেছেন মন্ত্রিসভার নতুন মুখ? ২০২৯-এর লক্ষ্যে সংগঠনে আমূল পরিবর্তনের পর এবার বড় রদবদল কেন্দ্রে 

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে E20 পেট্রোলে জল ও ক্লোরাইড দূষণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। এর ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির ফুয়েল পাম্প, ফুয়েল ইনজেক্টর বিকল হওয়া, স্টার্ট নিতে সমস্যা, অস্বাভাবিক মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই দেশজুড়ে প্রায় ৮৯ হাজার আউটলেটের ভূগর্ভস্থ স্টোরেজ ট্যাঙ্কে দিনে ৮ থেকে ১২ বার পর্যন্ত ‘ওয়াটার-ইনগ্রেস টেস্টিং’ চালানো হচ্ছে। এছাড়া ৮৫ হাজারের বেশি পাম্পে স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও ওয়াটার-প্রোবের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। শুধু পাম্পেই নয়, ইথানল বহনকারী ট্যাঙ্কার, ডিপো ও টার্মিনালসহ গোটা সাপ্লাই চেনে সালফার ও ক্লোরাইড পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিক্রি বন্ধ মানেই সব ক’টি পাম্পে ক্ষতিকর ভেজাল পাওয়া গিয়েছে এমন নয়; বরং মনিটরিং সরঞ্জামের ত্রুটি, ট্যাঙ্কে জল জমা বা অপারেশনাল নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণেও এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে দেশে E20 পেট্রোলের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির গুণমান রক্ষায় আগামী দিনে এই নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img