কিংশুক সিংহ রায়, কলকাতা: তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদ-এর সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূল। এনসিপিআই (NCPI) শিবিরে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল লোকসভার সচিবালয়। শীর্ষ আদালতের পর এবার তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদ কে নোটিস পাঠালেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদ-কে ৭ দিনের মধ্যে জবাবদিহির নির্দেশ।
লোকসভার সেক্রেটারিয়েটের তরফে একটি চিঠি দিয়ে ওই ২০ জন সাংসদকে বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাংসদপদ বাতিলের এই পিটিশন ফাইল করেন অভিষেক। এতদিন লোকসভার স্পিকার অপেক্ষা করলেও, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়। স্পিকার এখনও এনসিপিআই-কে স্বীকৃতি দেননি। তাই এখন তাঁদের সদস্যপদ কেন খারিজ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা।
কেন এই দলবদল এবং আইনি লড়াই?
গত বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অধিকাংশই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে তৃণমূল ত্যাগ করেন লোকসভার ২০ জন সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী বলে পরিচিত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাঁরা NCPI-তে যোগ দেন।
এই দলত্যাগের পরই চুপচাপ বসে থাকেনি কালীঘাট। শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলত্যাগের অভিযোগে ওই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নোটিস জারির পর স্পিকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে দলত্যাগী NCPI সাংসদদের উপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেল।



