Allahabad High Court: ‘আনুগত্য সংবিধানের প্রতি হওয়া উচিত, ক্ষমতার প্রতি নয়’, নয়ডায় ছাত্রীর ওপর এনএসএ প্রয়োগে কর্তাদের ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদালতের
VIKASH VYAS, LUCKNOW: ইলাহাবাদ হাই কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নয়ডা জেলার জেলাশাসক (DM) থেকে শুরু করে এসএইচও (SHO) স্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত কড়া ও নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। চলতি বছর নয়ডায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে হওয়া শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে এক তরুণী সমাজকর্মী তথা ছাত্রীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) গ্রেফতার করেছিল প্রশাসন। এই পদক্ষেপেরই এবার তীব্র সমালোচনা করল আদালত।
আরও পড়ুন: PM Modi: মোদির জন্মদিনে রাজ্যে একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, প্রদীপ জ্বালাবে ১ কোটি পরিবার
শুনানি চলাকালীন আদালত মন্তব্য করে, আমলাতন্ত্রের এই ধরনের বাড়াবাড়ি যেকোনো শাসন ব্যবস্থাকেই জর্জ অরওয়েল বর্ণিত ‘ডিস্টোপিয়ান স্টেট’ বা স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করে। অরওয়েলের বিখ্যাত ‘১৯৮৪’ উপন্যাসের প্রসঙ্গ টেনে আদালত ‘থট-পুলিশ’-এর মাধ্যমে জনতার চিন্তাভাবনার ওপর নজরদারি চালানোর উদাহরণও তুলে ধরে।

ক্ষতিপূরণ ও কড়া নির্দেশ:
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে এবং সেই টাকা ডিএম থেকে এসএইচও— ওই ঘটনায় জড়িত সমস্ত আধিকারিকের বেতন থেকে কাটা হবে। পাশাপাশি, জেলাশাসকের সার্ভিস বুকে বা নথিতে আদালতের এই তীব্র অসন্তোষ লিপিবদ্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এই আধিকারিকদের স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তাঁদের নিষ্কলুষ আনুগত্য কেবল সংবিধানের প্রতি হওয়া উচিত, অন্ধভাবে ক্ষমতার প্রতি নয়।
প্রসঙ্গত, শ্রমিক আন্দোলনের পর প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে এর সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ রয়েছে। এই ঘটনায় ওই ছাত্রী ছাড়াও এক ৬০ বছর বয়সী সাংবাদিক তথা সমাজকর্মীকে জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়, যিনি এখনও বন্দি রয়েছেন। একটি স্থানীয় মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে এতটা বড় রূপ দিয়ে দেশদ্রোহিতার তকমা দেওয়ায় সারা দেশে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা হয়েছিল। হাই কোর্টের এই রায় বুঝিয়ে দিল যে, সত্য ও সংবিধানের পক্ষে থাকাই প্রশাসনিক কর্তাদের মূল কাজ, ক্ষমতার সামনে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ নয়।




