Annapurna Yojana Camp: ফের অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের সুযোগ! কাল থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু জনকল্যাণ শিবির
Annapurna Yojana Camp: সাধারণ মানুষের দুয়ারে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে আরও একবার এক বিরাট উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। যে সমস্ত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কারণে এখনো পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফের এক বিরাট সুযোগ নিয়ে আসা হচ্ছে। আসন্ন উৎসবের মরশুম অর্থাৎ দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর সেই পুরভোটের আগেই সাধারণ মানুষের মন জয় করতে এবং সরকারি পরিষেবা আরও নিবিড়ভাবে প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে আগামীকাল শুক্রবার, অর্থাৎ 2রা অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে এক বিশেষ জনকল্যাণ শিবির, যার গালভরা নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবা সেতু অভিযান’। জানা গিয়েছে যে, কলকাতার মোট ষোলোটি বরো এলাকা-সহ গোটা রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে টানা তিন দিন ধরে চলবে এই মেগা জনকল্যাণ শিবির। রাজ্য প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই ‘সেবা সেতু অভিযান’-এ শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, বরং রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা এক ছাতার তলায় পাওয়া যাবে। এই বিশেষ শিবিরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাশ্রী, আদিবাসী সমাজের জন্য জয় জোহার, কৃষকদের জন্য পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পিএম কিষান স্বনিধি-সহ মোট কুড়িটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ফর্ম এবং অন্যান্য যাবতীয় সুবিধা উপলব্ধ থাকবে। ফলে কেন্দ্র এবং রাজ্যের এই সমস্ত জনমুখী প্রকল্পে যাঁরা আগে আবেদন করতে পারেননি, তাঁরা এবার সম্পূর্ণ নতুন করে আবেদন করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, সমাজের একদম প্রান্তিক স্তরের মানুষ, যাঁদের কাছে বিভিন্ন কারণে সরকারি প্রকল্পের খবর পৌঁছয় না বা যাঁরা অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে পারেন প্রশাসনিক হয়রানির কারণে, তাঁদের বাড়ির কাছেই এই সমস্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।

এই শিবিরের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশাসন জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই বিশেষ সেবা সেতু অভিযান চলবে। সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম বিতরণের জন্য এই শিবিরগুলিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। শুধু সরকারি আধিকারিকরাই নন, সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ যেমন অ্যাকাউন্ট খোলা বা কেওয়াইসি আপডেট করার সুবিধার জন্য একাধিক ব্যাঙ্কের তরফ থেকেও শিবির চত্বরে বিশেষ কাউন্টার খোলার কথা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভা এলাকায় এই অভিযানকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতায় প্রতিটি দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে এই সেবা সেতু অভিযানের বিশেষ সহায়তা শিবির খোলা হচ্ছে, যাতে মানুষ সহজে এবং কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি এই পরিষেবা গ্রহণ করতে পারেন।

পুরভোটের ঠিক আগে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রকল্প যাতে প্রতিটি পরিবারের কাছে আরও নিবিড়ভাবে এবং দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি নির্দেশে এবারের এই বিশেষ সেবা সেতু অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই জনকল্যাণ শিবিরগুলির খবর যাতে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে যায়, তার জন্য এলাকার বিধায়ক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। যেহেতু এই শিবিরে একাধারে কুড়িটি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, তাই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাউন্টারে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় এবং ভিড় যাতে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার জন্য তিনদিনই কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে প্রতিটি শিবিরে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে লালবাজারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই শিবিরের জায়গাগুলিতে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

তবে এই ব্যাপক আয়োজনের মাঝেও পুরকর্মীদের একাংশের মনে একটা বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা সবথেকে বেশি। তাই এই তিন দিনের শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ এবং পূরণ করা নিয়ে কাউন্টারগুলিতে আচমকা একটি প্রবল এবং বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক জায়গায় ফর্মের জোগান কমে যাওয়া বা ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। তাই প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে এই নির্দিষ্ট প্রকল্পটির কাউন্টারগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত ফর্ম মজুত রাখা থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণে সাহায্য করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করার মতো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী তিন দিন রাজ্য প্রশাসন যে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




