BJP Organization Expansion West Bengal: ভাড়া বাড়ির দিন শেষ, দুর্গাপুজোর তৃতীয়ায় বাংলায় একযোগে ১১টি নতুন জেলা কার্যালয়ের ভূমিপূজন বিজেপির
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Kolkata: আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হওয়ার পর রাজ্যের ক্ষমতায় আসীন হলেও রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও বেশি সুসংহত ও শক্তিশালী করে তোলার পথে হাঁটছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দল রাজ্যে সরকার গঠন করেছে মানেই যে সাংগঠনিক কাজ শেষ হয়ে গেছে, এমনটা মোটেই ভাবছে না গেরুয়া শিবির। বরং ক্ষমতায় থাকাকালীন সংগঠনের শিকড়কে বুথ স্তর থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলার অন্দরে আরও গভীরে পৌঁছে দিতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই দেবীপক্ষের পবিত্র আবহে দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার দিন রাজ্যের মোট ১১টি সাংগঠনিক জেলায় একযোগে নতুন জেলা কার্যালয় বা পার্টি অফিস নির্মাণের ঐতিহাসিক কাজের শুভ সূচনা করা হলো। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার একাধিক জেলায় মহাসমারোহে নতুন কার্যালয়ের ভূমিপূজন সম্পন্ন হয়েছে।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উলুবেড়িয়া, আসানসোল, হুগলি, বহরমপুর, ব্যারাকপুর, কলকাতা উত্তর শহরতলি এবং ঝাড়গ্রামসহ রাজ্যের মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলায় এই নতুন পার্টি অফিসগুলি নির্মিত হচ্ছে। এর আগে বেশ কিছু জেলায় দলের নিজস্ব কার্যালয় থাকলেও বহু জেলাতেই ভাড়া বাড়ি বা অত্যন্ত অপরিসর জায়গা থেকে দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতে হতো, যা বর্তমান বর্ধিত কাজের পরিধির সঙ্গে বেমানান ছিল। তাই কালক্ষেপ না করে পুজোর তৃতীয়ার্থেই এই সমস্ত জায়গায় স্থায়ী ও আধুনিক পরিকাঠামোযুক্ত ভবন তৈরির কাজ শুরু করে দেওয়া হলো। প্রত্যেকটি সাংগঠনিক জেলাতেই যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, তার জন্য রাজ্য স্তর থেকে বিশিষ্ট পদাধিকারীদের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির সুনির্দিষ্ট ‘ভবন নির্মাণ টিম’-এর সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল। বিশেষ করে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।

রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এদিন বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এই মহাযজ্ঞের তদারকি করেছেন। উলুবেড়িয়ার ভূমিপূজনের অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সঙ্গে ছিলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী এবং ভবন নির্মাণ টিমের সমন্বয়ক তথা যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ বিদ্যাসাগর মন্ত্রী। অন্যদিকে, চুঁচুড়ায় হুগলি জেলা কার্যালয়ের ভূমিপূজন পর্বে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং রাজ্য সম্পাদক মনোজ পাণ্ডে। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলার নতুন পার্টি অফিসের ভূমিপূজনে অংশ নেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ ও সর্বভারতীয় সহ-সভানেত্রী মধুছন্দা কর। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলায় এই দায়িত্বে ছিলেন রাজ্য সহ-সভাপতি রামপদ দাস।
তবে একমাত্র ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার ক্ষেত্রে ভূমিপূজনের দিনক্ষণ কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই জেলার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর। কিন্তু সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী সমিতির সদস্য হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে যেতে হয়। সেই কারণে ঝাড়গ্রামে নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপূজনের কাজ দু’দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৫ অক্টোবর অর্থাৎ পঞ্চমীর দিন সেখানে এই শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে বিজেপি সূত্রের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। সুনীল বনসল এ রাজ্যে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বুথ স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার যে নীতি নিয়েছিলেন, তার সুফল ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাতেনাতে মিলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে যে এই নতুন ভবনগুলির পরিকাঠামো অত্যন্ত আধুনিক ও সুপরিসর হবে। এ বিষয়ে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা জানিয়েছেন যে বিগত দিনে দলের কাজের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট বা ভাড়া বাড়ি থেকে কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি নতুন কার্যালয়ে পৃথক ওয়েটিং রুম, মিটিং রুম, কনফারেন্স রুম এবং জেলা সভাপতির বসার সুনির্দিষ্ট ঘরসহ সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এ রাজ্যের ক্ষমতায় বসার পরও আত্মতুষ্টিতে না ভুগে যেভাবে বিজেপি বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত নিজেদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো স্থায়ী ও শক্তিশালী করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জোরালোভাবে প্রভাবিত করবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।




