Mamata TMC Protest Kolkata: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস মিছিল, পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের
Kolkata: সমস্ত প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশি কড়াকড়িকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরবেলা কলকাতার রাজপথ কাঁপাল মমতা তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠন। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসূচিকে আটকে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল এবং রাজাবাজার এলাকাকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত বাধা ও ব্যারিকেড পেরিয়ে নির্ধারিত সময় দুপুর দুটো নাগাদই রাস্তায় নেমে পড়েন হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক। এই হাইভোল্টেজ বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংসদ দোলা সেন, তৃণমূলের রাজ্য নেতা কুণাল ঘোষ, যুবনেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল, অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব, যা রাজ্য রাজনীতির পারদকে মুহূর্তের মধ্যে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিছিল শুরুর আগেই পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই ধরনের কোনো মিছিলের বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো পূর্বানুমতি চাওয়া হয়নি এবং নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের সঙ্গে আলোচনা না করে এই জমায়েত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু পুলিশের এই আপত্তির জবাবে অত্যন্ত চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন যে একটি সাধারণ ছাত্র-যুবদের মিছিল আটকানোর জন্য রাজ্য জুড়ে যেভাবে পুলিশি তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, তাতেই পরিষ্কার প্রমাণ হয়ে যায় যে শাসক দল আজ কতটা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। উপাসনা ও প্রতিবাদের অধিকারকে খর্ব করতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি গোঁসাইদার বিখ্যাত ছবি গুগাবাবার গান উদ্ধৃত করে কটাক্ষ ছুড়ে দেন যে, ‘ওরে হাল্লা রাজার সেনা, তোরা যুদ্ধ করে করবি কী তা বল!

রাজাবাজার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুবরা একটি সুসজ্জিত ম্যাটাডোরের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় স্লোগান তুলতে শুরু করেন। চারপাশের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে একটানা ধ্বনিত হতে থাকে “ভোট চোর, গদি ছোড়” স্লোগান, যা রাস্তায় দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের নজর কেড়ে নেয়। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তাকে এক নতুন গণআন্দোলনের সূচনা বলে দাবি করছেন আয়োজকরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে চলা এই মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল জনস্রোতের সামনে পুলিশি কড়াকড়ি অনেকটাই নমনীয় হতে বাধ্য হয়।
![]()
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে বিশাল প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় কলকাতার রাজপথে মমতা তৃণমূলের এই মারমুখী ও অনমনীয় অবস্থান এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিরোধীরা যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সী ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির অপব্যবহার নিয়ে সরব, তখন বাংলার শাসক দল সরাসরি রাজপথে নেমে কমিশনের শীর্ষ কর্তার অপসারণ দাবি করে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করল। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুমতি না দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা হলেও তৃণমূল নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এই চক্রান্তকে তাঁরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না। আগামী দিনে এই আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর স্তরে নিয়ে যাওয়ার হুঙ্কারও দিয়েছেন উপস্থিত নেতারা।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার দুপুরের এই রক্ত গরম করা প্রতিবাদ মিছিল এবং কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনের নেতৃত্বাধীন ছাত্র-যুবদের এই প্রতিরোধ কলকাতার রাজনৈতিক ময়দানে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে পুলিশের আইনি হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে রাজপথের স্লোগান—এই দুইয়ের দ্বৈরথে শহর কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই লড়াই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে এই সংঘাত কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।




