Cyclone Arnab: ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব! মেগা দুর্যোগের আশঙ্কায় রাজ্যের সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা

Published:

Cyclone Arnab: ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব! মেগা দুর্যোগের আশঙ্কায় রাজ্যের সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা

KOLKATA: Cyclone Arnab বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আগমনে এবার রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে এক চরম আতঙ্ক ও প্রবল উদ্বেগ। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া গভীর নিম্নচাপটি অবশেষে শক্তি সঞ্চয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বা আইএমডি (IMD)-এর সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই মেগা সাইক্লোনটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তিরের এই চরম লাল সতর্কতার জেরে রাজ্য প্রশাসনও আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে আপৎকালীন ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই প্রকৃতির এই ভয়াবহ রুদ্ররোষ সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল ভয়ের সঞ্চার করেছে। কলকাতা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে এবং ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত।

Advertisement Andaman Vibes

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি গত ২৪ ঘণ্টায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে এটি একটি অতি-গভীর নিম্নচাপের স্তর পেরিয়ে ‘সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী এই নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘অর্ণব’। হাওয়া অফিসের রাডারে ধরা পড়া স্যাটেলাইট ছবি অনুযায়ী, এই মেগা সাইক্লোনটি ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি মূলত বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের দিকেই সরাসরি ধেয়ে আসছে। সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসার সময় এর গতিবেগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় বা ল্যান্ডফলের মুহূর্তে এর হাওয়ার গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, যা উপকূলবর্তী এলাকাগুলির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: Kolkata Weather: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত গভীর নিম্নচাপ! আজ কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে? 

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রত্যক্ষ ও সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব পড়তে চলেছে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলির ওপর। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হাই অ্যালার্ট বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, বকখালি এবং সুন্দরবনের মতো নিচু ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলিতে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি, খাস কলকাতা শহরেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একটানা বৃষ্টির জেরে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই ব্যাপক জল জমার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে দেবে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে উপড়ে পড়তে পারে বড় বড় গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ ও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। যাঁরা সমুদ্রে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে অবিলম্বে উপকূলে ফিরে আসার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে নবান্নের তরফ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেগা প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছে। নবান্নে ২৪ ঘণ্টার একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি জেলাশাসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি, উপকূলবর্তী নিচু এলাকার কাঁচা বাড়ির বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে সাইক্লোন শেল্টার বা ফ্লাড সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। যেকোনো ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)-এর একাধিক দলকে আগে থেকেই উপকূলীয় জেলাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ পর্ষদকেও হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে, যাতে তার ছিঁড়ে বা খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে তা দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে এবং গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: পুলিশের সামনেই মুকুন্দপুরে আক্রান্ত হুমায়ুন কবীর! পার্টি অফিস দখল ঘিরে ধুন্ধুমার 

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের এই আকস্মিক হানায় রাজ্যের সার্বিক জনজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির ওপর। পুজো আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, এই সময়ে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে প্যান্ডেল তৈরির কাজ একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। কিন্তু এই মেগা নিম্নচাপ ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বহু জায়গায় বাঁশ ও কাপড়ের নির্মীয়মাণ প্যান্ডেলগুলি ভেঙে পড়ার বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুমোরটুলিতেও মৃৎশিল্পীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ এই প্রবল স্যাঁতসেঁতে ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রতিমা শুকানোর কাজ সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের পুজোর কেনাকাটাও আক্ষরিক অর্থেই লাটে উঠেছে। আপাতত আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজ্যবাসীর কাছে একটি অত্যন্ত বড় অগ্নিপরীক্ষা। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আছড়ে পড়ে দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গকে এই মেগা প্রাকৃতিক তাণ্ডবের প্রমাদ গুণতেই হবে।

Ad

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img