Kolkata Weather: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত গভীর নিম্নচাপ! আজ কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?
KOLKATA: Kolkata Weather বা কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া আজ অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর কেমন থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রবল উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পুজো আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, আর তার ঠিক আগেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি মেগা নিম্নচাপ রাজ্যের আবহাওয়াকে সম্পূর্ণ রূপে বদলে দিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আজ সকাল থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলির আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দিনভর দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে সাধারণ মানুষ রীতিমতো হাঁসফাঁস করছিলেন, তবে এই নিম্নচাপের জেরে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও বৃষ্টির কারণে উৎসবের মুখে পুজোর কেনাকাটায় যে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হাওয়া অফিসের সতর্কতা অনুযায়ী, আজ বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অবশ্যই ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখা জরুরি।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই নতুন নিম্নচাপটিকে কেন্দ্র করে আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রবল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছিল, যা গত ২৪ ঘণ্টায় শক্তি বাড়িয়ে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপটি ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে একটি গভীর নিম্নচাপে (Deep Depression) পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি অনুকূল পরিস্থিতি পেলে এই গভীর নিম্নচাপটি একটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের রূপ নিতে পারে বলেও কিছু আবহাওয়া মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও সাইক্লোনের চূড়ান্ত গতিপথ বা ল্যান্ডফল নিয়ে আবহাওয়া দপ্তর এখনই কোনো নিশ্চিত বার্তা দেয়নি, তবে এই শক্তিশালী সিস্টেমের কারণে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আজ থেকে আগামী দু-তিন দিন প্রবল ঝড়-বৃষ্টির হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Bandel: ব্যান্ডেলের বেসরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটের লক্ষ লক্ষ টাকা উধাও! পুলিশের জালে ব্যাংক কর্মী
এই নিম্নচাপের প্রত্যক্ষ প্রভাবে আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতার ক্ষেত্রে আজ মূলত আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকবে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপটও বাড়তে পারে। শহরের নিচু এলাকাগুলিতে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে নিত্যযাত্রীদের যানজটের প্রবল ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। হাওয়া অফিসের মতে, এই নিম্নচাপটি যতদিন না স্থলভাগে প্রবেশ করে দুর্বল হচ্ছে, ততদিন দক্ষিণবঙ্গের এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে যখন নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টির ভ্রূকুটি, তখন উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে কিছুটা শান্ত থাকবে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো পাহাড়ি ও তরাইয়ের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের মতো কোনো একটানা ভারী দুর্যোগ বা প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কোনো পূর্বাভাস উত্তরবঙ্গের জন্য নেই। মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে বেশ ভালো পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে আপাতত আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। তবে পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ করে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে ধস নামার যে একটা চিরকালীন আশঙ্কা থাকে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Pranati Nayak: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস বাংলার মেয়ের! জিমন্যাস্টিক্সের ভল্ট ফাইনালে প্রণতি নায়েক
সব মিলিয়ে, ২৩ সেপ্টেম্বরের আবহাওয়া রাজ্যের দুই প্রান্তের জন্য দুই রকম ছবি তুলে ধরছে। পুজোর ঠিক মুখে বঙ্গোপসাগরের এই খামখেয়ালি নিম্নচাপ রাজ্যবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। একদিকে যেমন শহরের পুজোর আয়োজকরা প্যান্ডেল তৈরির কাজে বাধা পাওয়ার আশঙ্কা করছেন, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষ কেনাকাটা করতে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা প্রতিনিয়ত স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এই নিম্নচাপটির গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছেন। সিস্টেমটি যদি সত্যি সত্যিই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলিতে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, সেই বিষয়ে প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক ঘণ্টায় এই নিম্নচাপটি ঠিক কোন দিকে বাঁক নেয় এবং কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ কবে এই দুর্যোগের মেঘ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।




