Delhi PG Building Collapse: দিল্লির মৃত্যুকূপ ‘হস্টেল ডেজ’! ৭ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য মাত্র ৮ হাজার সিট, মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে আসল সত্য
NEW DELHI: দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা পিজি বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত কয়েক দশকের পুরনো ওই জীর্ণ পেয়িং গেস্ট আবাসনে ধস নেমে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের, আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই প্রকাশ্যে এসেছে দিল্লির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার চরম পরিকাঠামোগত ব্যর্থতা ও হস্টেল সংকটের এক ভয়ংকর খতিয়ান।

কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন মৃত্যুকূপে থাকতে বাধ্য হন পড়ুয়ারা?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত, পেশাগত এবং দূরশিক্ষা মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লক্ষেরও বেশি। অথচ সেই তুলনায় গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্টেল রুমের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৭,০০০ থেকে ৮,০০০-এর কাছাকাছি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন সরকারি হস্টেলে থাকার সুযোগ পান। ২০২৫ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থী হস্টেলের জন্য আবেদন করলেও সিট পেয়েছেন মাত্র ১০ শতাংশেরও কম পড়ুয়া। এই চরম ঘাটতির সুযোগ নিয়েই গড়ে উঠেছে বেসরকারি পিজি সিন্ডিকেট। বাধ্য হয়েই দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপরিকল্পিত ও বিপজ্জনক বাড়িগুলিতে চড়া ভাড়ায় আশ্রয় নেন।
পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত:
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল বহুতলটির মালিক হরিরাম গুপ্ত। ঘটনার পর পরই তার বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে দিল্লি পুলিশ। অবশেষে একাধিক পুলিশি দলের তল্লাশি অভিযানের পর হরিরাম গুপ্তকে গুরুগ্রামের কাছে ভিওয়াদি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

- জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ওই ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রদের জন্য ‘পেয়িং গেস্ট’ চলত। রবিবার বহুতলটিতে যখন মেরামতির কাজ চলছিল, তখনই হঠাৎ তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সরকারি নজরদারির অভাব এবং হস্টেল স্বল্পতার মাশুল দিতে গিয়ে পড়ুয়াদের এমন অকালমৃত্যু রাজধানী দিল্লির শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।




