Gujarat UCC Bill 2026: সম্পত্তি বণ্টনেও নয়া নিয়ম, উত্তরাখণ্ডের পর এবার ইউসিসি চালুর পথে মোদীর রাজ্য
Gujarat UCC Bill 2026: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিজের রাজ্য গুজরাটে এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ সম্পূর্ণভাবে প্রশস্ত হলো। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ১টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সম্প্রতি ‘গুজরাট ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি বিল ২০২৬’-এ চূড়ান্ত আইনি সম্মতি প্রদান করেছেন ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ঠিক কবে থেকে এই নয়া এবং ঐতিহাসিক আইন ওই রাজ্যে কার্যকর হবে, তা এখন নির্ধারণ করবে গুজরাট রাজ্য সরকার। গত ১লা অক্টোবর সরকারের তরফ থেকে প্রকাশিত ১টি বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হয়েছে যে, ‘গুজরাট ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল ২০২৬’ গত ১৭ই সেপ্টেম্বর খোদ রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। এই বিলটিকে আইনে পরিণত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জোরদার প্রস্তুতি চলছিল। এর আগে, গত মার্চ মাসে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে বিস্তারিত এবং তর্ক-বিতর্কপূর্ণ আলোচনার পর গুজরাট বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই ঐতিহাসিক বিলটি সফলভাবে পাস হয়েছিল।

Gujarat UCC Bill 2026: মূলত উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির একেবারে হুবহু আদলে তৈরি করা এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো গুজরাটের সমস্ত সাধারণ বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত ও দেওয়ানি বিষয়গুলিকে ১টি নির্দিষ্ট এবং অভিন্ন আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এই বিষয়গুলির মধ্যে মূলত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, পৈতৃক উত্তরাধিকার, সন্তান দত্তক গ্রহণ এবং বর্তমান প্রজন্মের লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়গুলি কড়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন ১টি বিশেষ কমিটি রাজ্যে এই আইনের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে ১টি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই সরকারের তরফ থেকে এই আইনের প্রস্তাব বিধানসভায় আনা হয়েছিল। তবে এই নতুন আইনের আওতা থেকে বেশ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণিকে বা গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। তফসিলি উপজাতিভুক্ত সদস্য এবং ভারতের সংবিধানের ২১শ অংশের অধীনে যাঁদের প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে, এমন কোনো ব্যক্তি বা আদিবাসী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই নতুন বিধি কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুনঃ Bigg Boss Bangla Prosenjit: বিগ বসের ঘরে ‘ইন্ডাস্ট্রি’, প্রসেনজিৎকে দেখেই কেন অঝোরে কাঁদলেন দুর্নিবার?
Gujarat UCC Bill 2026: ‘গুজরাট ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল ২০২৬’-এর প্রধান বিষয়গুলি অত্যন্ত কড়া এবং সামাজিক দিক থেকে বৈপ্লবিক। এই নতুন আইনে যেকোনো বিয়েতে সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা আইনি স্বীকৃতি একেবারে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে, যেখানে পুরুষদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মহিলাদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যে যেকোনো প্রকার বহুবিবাহ প্রথায় সম্পূর্ণ আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দাম্পত্য কলহ বা বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সোজা আদালতে যাওয়ার আগে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত মিটিয়ে ফেলার জন্য দম্পতিদের বাধ্যতামূলক ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ বা প্রি-লিটিগেশন মেডিয়েশনের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া চাকরি বা যেকোনো প্রকার সরকারি নথিপত্রে নিজের বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে গেলে এই নতুন আইনের অধীনে পাওয়া বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে সমাজে আইনি স্বচ্ছতা আসবে বলে জোরালো দাবি করেছে প্রশাসন।

এই নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত এবং চর্চিত অংশটি হলো ‘লিভ-ইন সম্পর্ক’-এর ক্ষেত্রে নিয়ে আসা নির্দিষ্ট কড়া আইনি বিধি। বর্তমান সমাজে লিভ-ইন সম্পর্কের প্রবণতা প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেলেও, এবার থেকে গুজরাটে এই সম্পর্ককে সম্পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং এর জন্য কড়া নিয়ম মানতে হবে। ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীদের ১ ছাদের নিচে থাকার আগে সরকারের তরফ থেকে নিযুক্ত নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে যৌথভাবে আবেদনপত্র জমা দিয়ে নিজেদের সম্পর্ককে আইনিভাবে রেজিস্ট্রি করাতে হবে। শুধু তাই নয়, যদি কোনো কারণে তাঁদের এই লিভ-ইন সম্পর্ক ভেঙেও যায়, তবুও নির্দিষ্ট সরকারি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রেক-আপের বিষয়টি অবিলম্বে রেজিস্ট্রি অফিসে জানাতে হবে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সুরক্ষিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গোপনে লিভ-ইন করলে আইনি শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে।

উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রেও এই ইউসিসি বিলে যুগান্তকারী রদবদল ঘটানো হয়েছে, যা সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে। নতুন আইন অনুযায়ী পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের একেবারে সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সম্পত্তি বণ্টনের সময় মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, তাঁর সন্তান এবং পিতামাতাকে ‘১ম শ্রেণির উত্তরাধিকারী’ হিসেবে আইনিভাবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি, সব ধরনের সন্তানের অধিকারও সমান করা হয়েছে। আইনি বিবাহের বাইরে জন্ম নেওয়া সন্তান, আইনিভাবে দত্তক নেওয়া সন্তান এবং আইভিএফ-এর মতো আধুনিক সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশু—সবাই সমান সম্পত্তির আইনি অধিকার লাভ করবে। এই বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর গুজরাট ভারতের ২য় রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পথে ১ ধাপ এগিয়ে গেল। প্রসঙ্গত, ভারতে এখনও পর্যন্ত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি আইন সফলভাবে চালু আছে ১মাত্র উত্তরাখণ্ড রাজ্যে। এবার সেই একই পথে হেঁটে নিজেদের রাজ্যে বড়সড় সমাজ সংস্কার আনল মোদী-শাহের রাজ্য।




