Gyanesh Kumar: বিজেপিতেই যোগ দিন নির্বাচন কমিশনার! জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র কটাক্ষ ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দিপকের

Published:

Gyanesh Kumar: বিজেপিতেই যোগ দিন নির্বাচন কমিশনার! জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র কটাক্ষ ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দিপকের

NEW DELHI: Gyanesh Kumar বা ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এবার সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চরম ব্যঙ্গাত্মক প্রস্তাব দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। দেশে যখন একের পর এক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বারবার বিরোধীরা সরব হচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে অভিজিৎ দিপকের এই তীক্ষ্ণ কটাক্ষ জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে, তাতে তাদের আর নিরপেক্ষ সংস্থা বলার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, বরং তারা পুরোপুরি শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনেই পরিচালিত হচ্ছে। এই মেগা বিতর্কের জেরে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও সাধারণ মানুষের মনে একাধিক বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Ad

ককরোচ জনতা পার্টি বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটিরিকাল রাজনৈতিক উদ্যোগ, যা বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং সিস্টেমের ত্রুটিগুলিকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও ব্যাঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে। এই দলের প্রতিনিধি অভিজিৎ দিপকে সম্প্রতি একটি পডকাস্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের আর আড়ালে থেকে কাজ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁরা যেভাবে প্রতিটি সিদ্ধান্তে পরোক্ষভাবে শাসকদল বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাতে তাঁদের সরাসরি বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করাই শ্রেয়। অভিজিৎ দিপকের এই মন্তব্যটি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও তাঁর এই সুরের সঙ্গে সুর মেলাতে শুরু করে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিলেও, শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের বিদ্বেষমূলক ভাষণ বা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের ক্ষেত্রে কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আর ঠিক এই জায়গাতেই জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্নটি খাড়া করেছে ককরোচ জনতা পার্টি।

আরও পড়ুন: Donald Trump: হোয়াইট হাউসে সিএনএন-কে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বয়কটের ডাক আমেরিকার টিভি চ্যানেলগুলির 

জ্ঞনেস কুমারের নিয়োগ এবং তাঁর কার্যকাল নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশের নতুন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত প্যানেল থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করার পর কেন্দ্র সরকার যেভাবে একতরফাভাবে তাঁকে এই পদে বসিয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়িয়েছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই নতুন নিয়মের ফলে নির্বাচন কমিশন কার্যত সরকারের একটি নিজস্ব দপ্তরে পরিণত হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে তাঁর বক্তব্যে সেই পুরনো ক্ষোভকেই আবার নতুন করে উসকে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে ইভিএম (EVM) নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন একপেশে আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশনের এই সন্দেহজনক নীরবতা এবং শাসকদলের প্রতি অতি-আনুগত্য প্রমাণ করে যে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়িত করতেই বেশি আগ্রহী। তাই তাঁদের আর নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে থাকার কোনো মানেই হয় না।

Advertisement Andaman Vibes

অভিজিৎ দিপকের এই মন্তব্যের পর দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ককরোচ জনতা পার্টি একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হলেও তারা যে কথাটি বলেছে, তা দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মনের কথা। বিরোধী নেতারা বারবার অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই একটি স্বাধীন সংস্থা হতো, তবে নির্বাচনের সময় শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের বিভাজনমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র বিরোধীদের নোটিস পাঠিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং শাসকদলের অন্যান্য শরিকরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্রদের দাবি, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এটি বিরোধীদের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তাঁদের মতে, অভিজিৎ দিপকে বা তাঁর দলের মতো কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠী সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্যই দেশের সম্মানিত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করছে এবং এর সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মেগা বৈঠক! বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ টানতে মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রীর 

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টির এই ব্যঙ্গাত্মক অথচ বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক গভীর সংকটের দিকটিকেই উন্মোচিত করেছে। একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন। কিন্তু যখন সেই কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধেই শাসকদলের হয়ে কাজ করার এবং বিরোধী শূন্য করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির অভিযোগ ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই ধরনের সমালোচনাগুলিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে না দেখে, নিজেদের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করার জন্য আরও বেশি সচেষ্ট হওয়া। আগামী দিনে দেশে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই নির্বাচনগুলিতে যদি কমিশন নিজেদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে অভিজিৎ দিপকের মতো সমালোচকদের অভিযোগগুলি আরও বেশি জোরালো হবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই প্রবল সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, নাকি এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও বড় কোনো আকার ধারণ করে।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img