Suvendu Adhikari: অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মেগা বৈঠক! বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ টানতে মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রীর
MUMBAI: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থান আনতে এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। মুম্বই সফরে গিয়ে তিনি সরাসরি দেশের শীর্ষ শিল্পপতি তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (RIL) কর্ণধার মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে গিয়ে তাঁর সঙ্গে এক মেগা বৈঠক সেরেছেন। রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিপুল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক বাংলার অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক বিরাট পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীরা শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও, খোদ আম্বানির বাসভবনে গিয়ে এমন একান্ত আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই খবরের জেরে রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে শিল্প মহলে প্রবল উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিল্পের যে খরা চলছিল, তা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ আক্ষরিক অর্থেই এক গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে বলে দাবি করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এই মেগা বৈঠকে মূলত বাংলায় রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং শিল্পস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রিলায়েন্সের কর্ণধারের কাছে বাংলার বর্তমান শিল্প-বান্ধব পরিবেশ, উন্নত পরিকাঠামো এবং সরকারের বিনিয়োগকারী-বান্ধব নীতিগুলি তুলে ধরেছেন। রাজ্যে টেলিকম, রিটেল, গ্রিন এনার্জি এবং আইটি (IT) সেক্টরে রিলায়েন্সের আরও সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো উপকূলীয় জেলাগুলিতে ডেটা সেন্টার এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্ল্যান্ট স্থাপনের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। মুকেশ আম্বানিও বাংলার এই নতুন শিল্প সম্ভাবনায় যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং আগামী দিনে তাঁর সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে খবর। এই প্রতিনিধিদল রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পতালুক ঘুরে দেখে বিনিয়োগের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রস্তুত করবে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাকে ভারতের এক নম্বর শিল্পরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা। বিগত সরকারগুলির আমলে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ নিয়ে যে অনীহা বা ভীতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মুম্বই সফরকে এক মেগা মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মেধাবী যুবক-যুবতী ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে মুকেশ আম্বানির মতো বিশ্বমানের শিল্পপতির বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। অ্যান্টিলিয়ায় এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, বাস্তবে শিল্পায়নের চাকা ঘোরাতে কতটা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। প্রশাসনিক লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে সরাসরি শীর্ষ স্তরে এই আলোচনা বিনিয়োগকারীদের মনে রাজ্য সরকার সম্পর্কে এক নতুন এবং ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মুম্বই সফর এবং মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মেগা বৈঠক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে শাসক বনাম বিরোধীর রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলগুলির কটাক্ষ, এর আগেও বহুবার শিল্পপতিদের সঙ্গে এমন বৈঠক বা বিজনেস সামিট হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বাংলায় কোনো বড় শিল্প আসেনি বা কর্মসংস্থান হয়নি। বিরোধীদের দাবি, সামনেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, তাই শিল্পায়নের নামে এটি শাসকদলের একটি নতুন রাজনৈতিক চমক মাত্র। যদিও শাসকদলের শীর্ষ নেতারা এই সমালোচনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্ট। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে দেশের সেরা শিল্পপতির কাছে বাংলার ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরেছেন, যা প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার শিল্পায়নের বিষয়ে একশো শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধীরা যখন নেতিবাচক রাজনীতিতে ব্যস্ত, তখন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।
আগামী দিনে এই বৈঠকের সুফল হিসেবে বাংলায় সত্যিই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ আম্বানি এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা বৈঠকের ছবি বাংলার যুবসমাজের মনে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। যদি রিলায়েন্স গোষ্ঠী তাদের রিটেল হাব, ৫জি (5G) নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের জন্য বাংলাকে বেছে নেয়, তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি অন্যান্য বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিও বাংলায় বিনিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহী হবে। আপাতত রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প মহল, সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই মেগা বৈঠকের কোনো সরকারি ঘোষণা বা নির্দিষ্ট বিনিয়োগের খতিয়ান জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। বাংলার শিল্পায়নের ইতিহাসে এই দিনটি এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে কি না, তার উত্তর খুব শীঘ্রই দেবে সময় এবং আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্র।




