India vs Brazil Football Match 2026: ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে বিরাট ছাড়! যুবভারতীতে ১টি কিনলে ১টি ফ্রি অফার
India vs Brazil Football Match 2026: পুজোর আগেই কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় খবর সামনে এল। শহরের বুকেই আয়োজিত হতে চলেছে বহু কাঙ্ক্ষিত ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ। আর সেই মহাযুদ্ধের টিকিটের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য অফার নিয়ে এল আয়োজক সংস্থা। একটা টিকিট কিনলে আর একটা টিকিট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার সুবিধা চালু হয়েছে। পুজোর কোনো বিজ্ঞাপনী চমক নয়, বরং এই দুর্দান্ত অফারটি শুধুমাত্র ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের দর্শকদের জন্যই প্রযোজ্য বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। যারা এখন থেকে অনলাইনে টিকিট কাটবেন, তারাই মূলত এই বিশেষ ছাড়ের সুবিধাটি পাবেন। যদিও আয়োজকদের তরফ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে মঙ্গলবার রাত থেকেই অনলাইনে এই বিশেষ অফারটি শুরু হয়ে গিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কুপন কোড ব্যবহার করে একটি টিকিটের দামেই অনায়াসে দুটি টিকিট হাতে পেয়ে যাচ্ছেন ফুটবল অনুরাগীরা।
টিকিট বিক্রির এই অভিনব পন্থার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এসে পৌঁছনোর কথা ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং রাফিনহাদের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকাদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দলের। কিন্তু সূত্র জানাচ্ছে যে, তার আগে টিকিট বিক্রির সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ভারত-পানামা ম্যাচের ক্ষেত্রে মাত্র ১০ হাজার দর্শক আসনও পুরোপুরি ভরেনি। সেই জায়গায় কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের দর্শক ধারণক্ষমতা ৬০ হাজারের অনেক বেশি। তার ওপর টিকিটের দামও বেশ চড়া রাখা হয়েছে। ঠিক কত টিকিট বিক্রি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বা ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে মুখ না খুললেও, দর্শক ঠাসা যুবভারতীতেই ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করার ব্যাপারে তাঁরা বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই মূলত এই ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ কৌশলটি গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Indian Football Team: বেঙ্গালুরুতে ইতিহাস! সদ্য বিশ্বকাপ খেলা শক্তিশালী পানামাকে রুখে দিল ভারত
এই মেগা ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে একেবারে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী, স্পোর্টস সেক্রেটারি এবং বিধাননগর পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়েছে যে, ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে স্টেডিয়ামে সম্পূর্ণ নতুন পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। মাঠে নতুন ডাগ আউট তৈরির পাশাপাশি গোল পোস্টের দুই ধারে বিশালাকার জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন বসানোর কাজ চলছে। এবারই প্রথম অনলাইন ডিজিটাল টিকিটে সিট নাম্বারিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে মাঠে প্রবেশ বা আসন গ্রহণ নিয়ে কোনো প্রকার কারচুপি বা জালিয়াতির সুযোগ না থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাজিল থেকে আসা বিশেষ প্রতিনিধি দল মাঠ পরিদর্শন করে এই উন্নত পরিকাঠামো দেখে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এমনকি দর্শকদের জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স এবং হুইলচেয়ারেরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

আয়োজকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ অক্টোবর শহরে পা রাখবে ব্রাজিল দল এবং ২ অক্টোবর যুবভারতীতে তারা অনুশীলনে নামবে। ওই দিন রাতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং ভারতীয় দলের ফুটবলারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ভারতের মেয়েদের সঙ্গে রাশিয়ার মেয়েদের আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচও কিশোর ভারতী থেকে সরিয়ে যুবভারতীতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচের প্রবল উন্মাদনা যাতে শুধুমাত্র কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি এই আন্তর্জাতিক ম্যাচটি সম্প্রচার করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: Cristian Romero: মেসির অবসরের পর নতুন অধিনায়ক পেল আর্জেন্টিনা! নেতার নাম ঘোষণা স্কালোনির
এই আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং তার আশেপাশের এলাকায় একেবারে ত্রিস্তরীয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হচ্ছে। দর্শকদের মূল এন্ট্রি পয়েন্ট, মূল বিল্ডিংয়ে প্রবেশের আগে এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢোকার আগে—মোট তিন ধাপে টিকিটের পুঙ্খানুপুঙ্খ চেকিং হবে। স্টেডিয়াম, মাঠ এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিভাগে মোট ২০০০ দক্ষ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশের তরফ থেকে সম্পূর্ণ ‘ফুল প্রুফ’ বা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষার স্বার্থে স্টেডিয়ামের ভেতরে জল, খাবার, ছাতা বা কোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি কোনো প্রকার টিফো, ফেস্টুন বা বড় পোস্টার নিয়েও মাঠে ঢোকা যাবে না। তবে দর্শকদের সুবিধার্থে স্টেডিয়ামের ভেতরেই পানীয় জল এবং পর্যাপ্ত খাবারের স্টল থাকবে। সব মিলিয়ে কলকাতার বুকে একটি সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনে আশাবাদী রাজ্য সরকার।




