Indian Football Team: বেঙ্গালুরুতে ইতিহাস! সদ্য বিশ্বকাপ খেলা পানামাকে রুখে দিল ভারতীয় দল
BENGALURU: Indian Football Team বা ভারতীয় ফুটবল দলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশের আপামর ক্রীড়াপ্রেমীরা। ফিফা ক্রমতালিকায় ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা এবং সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা শক্তিশালী পানামার বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে ১-১ গোলে এক অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ড্র করল ভারত। শুক্রবার রাতে রেফারি যখন চূড়ান্ত বাঁশি বাজালেন, তখন ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস, আনন্দ এবং তৃপ্তি ছিল একেবারে চোখে পড়ার মতো। খাতায় কলমে এই মেগা ম্যাচটি ড্র হলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলা একটি প্রথম সারির দলের বিরুদ্ধে যেভাবে ভারত গোটা ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে, তা এক বিরাট নৈতিক জয়ের সমান বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। এই অভাবনীয় এবং লড়াকু পারফরম্যান্স আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল তা বলাই বাহুল্য।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমদিকে পানামা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ভারতীয় রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করলেও, ভারতীয় ডিফেন্ডাররা তা অত্যন্ত শক্ত হাতে রুখে দেন। এরপর ধীরে ধীরে নিজেদের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে শুরু করে ব্লু টাইগাররা। আট মিনিটের মাথায় আনোয়ার আলির একটি দুরন্ত পাস থেকে আশিক কুরুনিয়ান হয়ে বল পান আকাশ মিশ্র। তাঁর কাট-ব্যাক থেকে সুযোগ পেলেও প্রথমদিকে রায়ান উইলিয়ামস শট নিতে ব্যর্থ হন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠে উইলিয়ামসের আধিপত্য বাড়তে থাকে এবং পনেরো ও আঠারো মিনিটের মাথায় তিনি পানামার গোলরক্ষক মার্কোস দে লিওন রেয়েসকে রীতিমতো চাপের মুখে ফেলে দেন। ছাব্বিশ মিনিটে আশিক কুরুনিয়ানের একটি দুর্দান্ত শট অল্পের জন্য সাইড-নেটিং হয়ে যায়। অন্যদিকে পানামার জোসেফ জোনস দূর থেকে শট নিলেও আকাশ মিশ্র এবং আনোয়ার আলির কড়া ট্যাকলিংয়ে তা প্রতিহত হয়।
খেলার প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে, অর্থাৎ ৪১ মিনিটে আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিজয় ভার্গিসের থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে আকাশ মিশ্র একটি অসাধারণ লম্বা পাস বাড়ান, যা পানামার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে দেয়। নিজের দৌড়ের সময় একদম নিখুঁত রেখে রায়ান উইলিয়ামস বলটি অসাধারণ দক্ষতায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডার জোনস ও ভিক্টর গ্রিফিথের মাঝখান দিয়ে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক রেয়েসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই দর্শনীয় গোলের সঙ্গে সঙ্গেই কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক আনন্দে ফেটে পড়েন। বিশ্বকাপের মতো মেগা মঞ্চে খেলা একটি দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই গোল করে লিড নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরাটা ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাসকে এক লহমায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা তাদের শরীরী ভাষাতেই অত্যন্ত স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

তবে পিছিয়ে পড়ার এই চরম ধাক্কা সামলাতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পানামার কোচ একসঙ্গে তিনটি বড়সড় পরিবর্তন করেন এবং আজারিয়াস লোন্দোনিও, আমির মুরিলো ও ওমর ভ্যালেন্সিয়াকে মাঠে নামিয়ে দলের আক্রমণের ধার মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেন। এই সময় ভারতীয় দল বাধ্য হয়েই কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু পঞ্চাশ মিনিটে জিওভানি হার্বার্টের একটি দুরন্ত প্রচেষ্টা রুখে দিলেও, শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরাতে সক্ষম হয় পানামা। বক্সের বাইরে থেকে বদলি খেলোয়াড় ওমর ভ্যালেন্সিয়ার নেওয়া একটি অনবদ্য বাঁকানো শট সরাসরি গুরপ্রীতকে পরাস্ত করে জালের ডানদিকের ওপরের কোণায় জড়িয়ে যায়। সমতা ফেরার পর পানামা আরও মরিয়া হয়ে ওঠে এবং ৭১ মিনিটে ফের ভ্যালেন্সিয়ার আক্রমণ রুখে দেন বিক্রম প্রতাপ সিং। এরপর একটি কর্নার থেকে পানামার শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে অল্পের জন্য বেঁচে যায় ভারত।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan: এবার থেকে ক্লাবেই থাকবে ট্রফি! কলকাতা লিগ হাতে পেয়ে বিরাট ঘোষণা মোহনবাগান কর্তাদের
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন ভারতীয় কোচ জামিল এবং রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে বেশ কিছু পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ দু’বছর পর জাতীয় দলে কামব্যাক করা অনিরুদ্ধ থাপাকেও মাঠে নামানো হয়। ইনজুরি টাইমে সাহাল আব্দুল সামাদের দুরন্ত পাস থেকে মনবীর সিং একটি গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেননি। উল্লেখ্য, এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে মনবীরের ৫০তম ম্যাচ। তবে এই ড্রয়ের ফলে ভারতীয় দল যে অমূল্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করল, তা আগামী দিনের কঠিন লড়াইয়ের জন্য এক বিরাট পুঁজি হয়ে থাকবে। এই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এবার কলকাতার বুকে খোদ ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের মতো বিশ্বজয়ী হেভিওয়েট দলগুলির মুখোমুখি হতে চলেছে ব্লু টাইগাররা। সেই মেগা লড়াইয়ে ভারত কতটা চমক দেখাতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ক্রীড়ামহল।




