India vs Brazil Match: শনিবারের ভারত-ব্রাজ়িল মহারণের আগে চরম বিস্ফোরক ‘সবুজ তোতা’ ব্যারেটো
India vs Brazil Match: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আগামী শনিবার ১টি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং স্মরণীয় দিন হতে চলেছে, কারণ ওই দিন বহু প্রতীক্ষিত ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত এবং ৫ বারের বিশ্বজয়ী শক্তিশালী দল ব্রাজ়িল। আর এই মেগা মহারণের ঠিক আগে ব্রাজ়িলের মতো ১টি বিশ্বমানের দলের আচমকা ভারতে খেলতে আসার নেপথ্যের আসল কারণ প্রকাশ্যে এনে আক্ষরিক অর্থেই শোরগোল ফেলে দিয়েছেন খোদ মোহনবাগান কিংবদন্তি হোসে র্যামিরেজ ব্যারেটো। ১৯৯৯ সালে ১ম বার সুদূর ব্রাজ়িল থেকে ভারতে শুধুমাত্র ফুটবল খেলতে এসেছিলেন তিনি, আর তারপর দেখতে দেখতে জীবনের দীর্ঘ ২৭টি অমূল্য বছর তিনি এই দেশেই কাটিয়ে দিয়েছেন। ভারত এবং বিশেষ করে কলকাতাকে নিজের ২য় বাড়ি হিসেবে মেনে নেওয়া এই ভিনদেশি তারকা স্ট্রাইকার আজও আপামর ফুটবলপ্রেমী এবং মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে ‘সবুজ তোতা’ নামেই তুমুল জনপ্রিয়। শনিবারের এই মেগা হাইভোল্টেজ ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আইএম বিজয়নের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে ব্যারেটোকেও বিশেষ গুডউইল অ্যাম্বাসাডর বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের ১টি বিরাট বড় সম্মান এবং স্বীকৃতি।

আরও পড়ুন: India vs Pakistan Hockey: উনপঞ্চাশ সেকেন্ড বাকি থাকতে গোল! পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াডের ফাইনালে ভারত
ফিফার ক্রমতালিকায় ভারতের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ব্রাজ়িল কেন আচমকা ভারতে এসে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলছে, সেই বহু চর্চিত প্রশ্নের অত্যন্ত স্পষ্ট, নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মত উত্তর দিয়েছেন খোদ ব্যারেটো। তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন যে, ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ক্রমতালিকায় অনেকটাই পিছিয়ে থাকা দেশগুলির বিরুদ্ধে খেললে ব্রাজ়িলের মতো বিশ্বমানের বড় দলগুলি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে পায়। তাঁর মতে, ব্রাজ়িল যদি ফ্রান্স, জার্মানি বা অন্য কোনো শীর্ষস্থানীয় ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করবে, ভারতের মতো পিছিয়ে থাকা ফুটবল খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে খেললে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আর্থিক লাভ হবে তাদের স্পনসর এবং ফেডারেশনের। বিপুল আর্থিক লাভের দিক ছাড়াও এই ধরনের অপেক্ষাকৃত সহজ ম্যাচে ব্রাজ়িলের কোচেরা নিজেদের দলের রিজার্ভ বেঞ্চ পরখ করে নেওয়ার এবং ১ সঙ্গে অনেক নতুন প্রতিভাবান ফুটবলারকে মাঠে নামিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান। অন্যদিকে, ভারতীয় দলও এই ধরনের বিশ্বমানের প্রথম সারির দলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করে নিজেদের প্রস্তুত করার এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবলের ট্যাকটিক্স শেখার দারুণ সুযোগ পেয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে লাভজনক।
![]()
বিশ্ব ফুটবলের ২ মহাতারকা রোনাল্ডিনহো এবং রোনাল্ডোর সঙ্গে ব্যারেটোর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অমূল্য স্মৃতিও অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। মাত্র ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ব্রাজ়িলের বাহঝে শহরের অলিগলিতে বন্ধুদের সঙ্গে প্লাস্টিকের বলে ফুটবল খেলার পর তিনি নিজের ফুটবল স্বপ্ন পূরণ করতে পোর্তো অ্যালেগ্রে শহরে চলে আসেন এবং সেখানকার বিখ্যাত গ্রেমিয়ো ক্লাবে পেশাদার অনুশীলন শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানান যে, গ্রেমিয়োতে ২০ থেকে ২১ বছর বয়সে তিনি যখন পেশাদার মূল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তখন তাঁর চেয়ে ৪ বছরের ছোট, অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সী রোনাল্ডিনহোও সেই একই দলের সঙ্গে পেশাদার হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। অত কম বয়সেই রোনাল্ডিনহো যে ১ জন সম্পূর্ণ আলাদা রকমের বিরল প্রতিভাবান ফুটবলার ছিলেন এবং বড়দের সঙ্গে অনায়াসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলতেন, তা ব্যারেটোর স্মৃতিচারণায় পরিষ্কার হয়ে যায়। শুধু রোনাল্ডিনহোর সঙ্গেই নয়, ব্রাজ়িলের আরেক বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনাল্ডোর বিরুদ্ধেও ক্লাব স্তরে মুখোমুখি ফুটবল খেলার দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্যারেটোর, যা তাঁকে ১ জন পরিণত এবং ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে গড়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল।

দীর্ঘ ২৭ বছর ভারতের মাটিতে কাটানোর সুবাদে এদেশের ভাষা, সংস্কৃতি এবং বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এই ব্রাজিলীয় তারকা। ১ম যখন তিনি ভারতে এসেছিলেন, তখন তিনি ইংরেজি ভাষা একেবারেই বুঝতেন না এবং অনুশীলন শেষে মাঠের ধারে নিভৃতে বসে শুধুমাত্র বাইবেল পড়তেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের অদম্য চেষ্টায় ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করেছেন এবং এখানকার মানুষদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছেন। কলকাতার খাবারের প্রতি তাঁর ১টি সম্পূর্ণ আলাদা রকমের দুর্বলতা রয়েছে, বিশেষ করে বিরিয়ানি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ১টি খাবার। ব্যারেটো হাসিমুখে জানান যে, ১ সময় ক্লাবে তাঁর জন্য বিরিয়ানি সব সময় তৈরি করা থাকত এবং বাঙালি বন্ধুদের বাড়িতে গেলে তিনি আজও মন ভরে মটন কষা খেতে অত্যন্ত ভালোবাসেন। মোহনবাগান সমর্থকদের দেওয়া ‘সবুজ তোতা’ নামটির প্রতি তাঁর গভীর আবেগ রয়েছে এবং তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, সবুজ-মেরুন ভক্তদের কাছ থেকে তিনি যে নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং সম্মান পেয়েছেন, তা তিনি বিশ্বের অন্য কোনো নামিদামি ক্লাবে কখনও পাননি।

পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার এত বছর পরেও ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে চান এই জনপ্রিয় ব্রাজিলীয় তারকা। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে শনিবারের ঐতিহাসিক ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচে বল হাতে মাঠে নামার জন্য গুডউইল অ্যাম্বাসাডর হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি দেশের ফুটবল নিয়ামক সংস্থার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ব্যারেটো মনে করেন যে, ভারতে অনেক নামিদামি তারকা ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের ভারতীয় ফুটবল কেরিয়ারের ১টি অত্যন্ত বড় স্বীকৃতি। তাঁকে যদি কখনও ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে বলা হতো, তবে তিনি সেই ডাক পেলে অবশ্যই ভেবে দেখতেন বলে জানিয়েছেন। তবে বর্তমানে শরীর ও মন কোনো দিক থেকেই তিনি আর পেশাদার ফুটবল খেলতে চান না, বরং কোচিংয়ের মাধ্যমেই ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকতে চান। এটিকে দলের সহকারী কোচ হিসেবে ইতিমধ্যেই ট্রফি জেতার স্বাদ পাওয়া ব্যারেটো আগামী দিনেও ভারতীয় ফুটবলে কোচিংয়ের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা তুলে আনার কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যেতে চান বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।




