Kiran Dutta: টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক ভিডিও বানাই না, ইনফ্লুয়েন্সরদের বিতর্ক নিয়ে সরব কিরণ
KOLKATA: Kiran Dutta বা বাংলার ইউটিউব দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রথম সারির ইনফ্লুয়েন্সর ‘দ্য বং গাই’ খ্যাত কিরণ দত্ত এবার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোল নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাংলার বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সরের সঙ্গে বিজেপির আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক যোগসাজশ নিয়ে এক বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্যের বিরোধী দলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচার চালিয়েছেন এই ইউটিউবার বা ক্রিয়েটররা। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি লম্বা এবং আবেগময় পোস্ট করে নিজের অবস্থান একেবারে জলের মতো স্পষ্ট করে দিলেন বাংলার সবথেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার কিরণ দত্ত।

নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে করা ওই পোস্টে কিরণ দত্ত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি কোনোদিনও কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিডিও বানাননি এবং ভবিষ্যতেও এমন কাজ করবেন না। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে না কোনওদিন একটাও ভিডিও বানিয়েছি, না ভবিষ্যতেও কোনওদিন বানাবো। ফার্স্টবয়কে এটুকু বিশ্বাস করতেই পারেন।” দর্শকদের কাছে তাঁর এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমানে ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সরদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কিরণ দত্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর বিপুল টাকার প্রলোভন থাকলেও তিনি নিজের নীতি এবং দর্শকদের ভালোবাসার সঙ্গে কোনোদিন আপস করবেন না। তাঁর এই স্পষ্ট কথা ইতিমধ্যেই তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে নতুন করে সম্মান ও ভরসা জুগিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ওই বার্তায় কিরণ দত্ত তাঁর শিকড় এবং দর্শকদের ভালোবাসার কথা অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তিনি নিজেকে নদিয়ার এক সাধারণ ঘরের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, “আমি ভাই নদিয়ার একটা ছোটো জায়গার ছেলে। সেই ছেলেকে তোমরা যেই জায়গা দিয়েছো, যেভাবে আমার খারাপ দিনে পাশে থেকেছো আমি চাইলেও তোমাদের সাথে বেইমানি করতে পারবো না গুরু। যা পেয়েছি অনেক বেশি পেয়েছি। এভাবেই ভালো আছি।” একজন ইনফ্লুয়েন্সর হিসেবে তাঁর এই মেগা সাফল্য যে সম্পূর্ণভাবে দর্শকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ফসল, সেটাই তিনি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি মনে করেন, দর্শকরা ভালোবেসে তাঁকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। তাই দর্শকদের অন্ধ বিশ্বাসকে ভেঙে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো তাঁর পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু কেন হঠাৎ করে এই ইনফ্লুয়েন্সরদের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো? আসলে, চলতি বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ঝড় তুলেছিল ‘বাটন’ নামের একটি বিশেষ ভিডিও। ওই ভিডিওটিতে তৃণমূল জমানার বিভিন্ন দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া বিভিন্ন ঘটনার ছবি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এই সাহসিকতার জন্য ‘বাটন’ ভিডিওটির মূল স্রষ্টা ক্রিয়েটর শমীক অধিকারীকে সেই সময় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা কুর্নিশ জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে তিনি তাঁর বান্ধবীর করা যৌন হেনস্থার মারাত্মক অভিযোগে পুলিশের হাতে ধৃত হয়েছিলেন এবং এক মাসেরও বেশি সময় তাঁকে জেলবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছিল। সেই সময়েই কলকাতায় গোমাংস কাণ্ড নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, যার জেরে অলি পাবের একজন সাধারণ ওয়েটারকেও জেল খাটতে হয়েছিল। এই ঘটনাগুলির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, মানুষের মনে সেই ভিডিওটির প্রভাব রয়ে গিয়েছিল।
তবে সম্প্রতি বাংলার ভোটে বিজেপির খরচের একটি গোপন তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণটাই যেন বদলে গিয়েছে। সেই চাঞ্চল্যকর তালিকায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, ‘বাটন’ খ্যাত ক্রিয়েটর শমীক অধিকারীকে রাজনৈতিক ভিডিও তৈরির জন্য সরাসরি ১৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোমাংস কাণ্ডে যাঁর নাম জড়িয়েছিল সেই ক্রিয়েটর পেয়েছেন আড়াই লক্ষ টাকা। খরচের এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ একসময় যে ভিডিওটিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক সমালোচনা বলে মনে করেছিলেন, তা যে আদতে রাজনৈতিক দলের টাকায় তৈরি একটি প্রচার ছিল, তা প্রমাণিত হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। এই কারণেই শমীক অধিকারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ভাষায় তুলোধোনা করছেন সকলে। ইনফ্লুয়েন্সরদের সমাজের প্রতি যে একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে, তা এই ঘটনায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই কিরণ দত্তর মতো প্রথম সারির ইনফ্লুয়েন্সরদের এই স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে ইউটিউব কমিউনিটির প্রতি হারানো বিশ্বাস ফেরাতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




