Kumarganj: কুমারগঞ্জে মহিলাদের বিক্ষোভে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেলেন বিজেপি নেতা! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল শোরগোল
KOLKATA: Kumarganj বা দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে সম্প্রতি এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, মহিলাদের একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভে খোদ এক স্থানীয় বিজেপি নেতা রীতিমতো লাঠি উঁচিয়ে তাঁদের দিকে অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে তেড়ে যাচ্ছেন। এই অভাবনীয় এবং নিন্দনীয় দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মহিলাদের ওপর এহেন রোষপূর্ণ আচরণের ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), বিজেপির নারী সুরক্ষা নীতি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাতে শুরু করে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে, যেখানে নারী সুরক্ষা, আরজি কর কাণ্ড এবং মহিলাদের অধিকার নিয়ে প্রতিনিয়ত শাসক ও বিরোধীর মধ্যে তুমুল তরজা চলছে, সেখানে কুমারগঞ্জের এই ঘটনা আক্ষরিক অর্থেই বিরোধীদের হাতে একটি নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটির সূত্রপাত কুমারগঞ্জ এলাকার একটি স্থানীয় সমস্যা এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, এলাকার বেশ কয়েকজন সাধারণ মহিলা কোনো একটি স্থানীয় ইস্যুতে নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে এবং প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁদের সেই বিক্ষোভ চলাকালীন হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন স্থানীয় ওই দাপুটে বিজেপি নেতা সেখানে সদলবলে উপস্থিত হন। অভিযোগ, তিনি মহিলাদের অভাব-অভিযোগ শোনার বা শান্ত করার বদলে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে তাঁদের ওপর চড়াও হন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, ওই বিজেপি নেতার হাতে একটি বড় লাঠি বা ডান্ডা রয়েছে এবং তিনি সেটি উঁচিয়ে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় মহিলাদের হুমকি দিচ্ছেন ও তাঁদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। উপস্থিত মহিলারাও আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন এবং আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন, কিন্তু ওই নেতার রোষ বা লাঠি উঁচিয়ে ভয় দেখানোর দাপট তাতে বিন্দুমাত্র কমেনি। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাও রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান এবং কেউ একজন নিজের মোবাইলে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন।
এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয় শাসক বনাম বিরোধীর মেগা রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাটিকে হাতিয়ার করে বিজেপির নারীবিদ্বেষী মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা এবং মুখপাত্ররা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যাঁরা কথায় কথায় ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং নারী সুরক্ষার বড় বড় স্লোগান দেন, তাঁদের দলের নেতারাই কেন প্রকাশ্যে মহিলাদের গায়ে হাত তুলতে বা লাঠি নিয়ে তেড়ে যেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না? তৃণমূলের দাবি, এটাই হলো বিজেপির আসল রূপ এবং বাংলার মহিলারা কখনোই এমন গুন্ডামি বা পেশিশক্তিকে সমর্থন করবেন না। শাসকদলের মহিলা সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই কুমারগঞ্জের ওই বিজেপি নেতার অবিলম্বে গ্রেপ্তারি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবিতে ময়দানে নেমে জোরালো প্রতিবাদ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অন্যদিকে, কুমারগঞ্জের এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলেও চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি এত দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে যে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় সরাসরি এড়িয়ে যেতে পারছে না। দলের একাংশের মতে, ওই নেতা যদি সত্যিই এমন কাজ করে থাকেন, তবে তা দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে পালটা সাফাই দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটির একটি ছোট অংশ মাত্র কেটে দেখানো হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে শাসকদলের সুপরিকল্পিত কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই মহিলারা আসলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ছিলেন এবং তাঁরাই প্রথমে বিজেপি নেতার ওপর চড়াও হয়ে প্ররোচনা দিচ্ছিলেন, যার জেরে আত্মরক্ষার্থেই তিনি এমনটা করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও সাধারণ নেটিজেনরা বিজেপির এই সাফাই মানতে নারাজ এবং তাঁরা মনে করছেন যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, একজন রাজনৈতিক নেতার কখনোই মহিলাদের প্রতি এমন হিংস্র আচরণ করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, কুমারগঞ্জের এই লাঠি উঁচিয়ে মহিলাদের তেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি আগামী দিনে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর। ওই বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো ঘটনাই খুব দ্রুত মেরুকরণের রূপ নেয়, আর সেখানে খোদ মহিলাদের ওপর হামলার এই অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখন এটাই দেখার বিষয় যে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ওই অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কোনো কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না। আর অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে আগামী নির্বাচনগুলিতে মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে কতটা টেনে আনতে পারে, এখন গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহল সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে।




