Kunal Ghosh: উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়িতে হা*মলা! ভবানী ভবনেও ঢুকতে বাধা দিয়ে তালা পুলিশের

Published:

Kunal Ghosh: উত্তরপাড়ায় গাড়িতে হা*মলা! ভবানী ভবনেও ঢুকতে বাধা দিয়ে তালা পুলিশের

KOLKATA: Kunal Ghosh-কে ঘিরে শনিবার এক নজিরবিহীন এবং চূড়ান্ত উত্তেজনাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো রাজ্য রাজনীতিতে। শ্রীরামপুরে আয়োজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মেগা সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার কাছে চরম হা*মলার শিকার হলেন বেলেঘাটার এই তৃণমূল বিধায়ক। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে আচমকা ইট, পাথর এবং ডিম ছোড়া হয়। এমনকি শাবল ও রড দিয়ে পিটিয়ে গাড়ির কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয় বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই অপ্রত্যাশিত এবং ভয়ানক ঘটনার পর সেই ভাঙা গাড়ি নিয়েই তিনি সোজা রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনে হাজির হন। কিন্তু সেখানে তাঁকে সাহায্য করার বদলে উলটে পুলিশ প্রশাসন তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো অভাবনীয় দৃশ্য দেখে রাজ্যজুড়ে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Advertisement

এই হা*মলার বিবরণ দিতে গিয়ে কুণাল জানান যে, শনিবারের ওই ঘটনায় রীতিমতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি এবং রডের আঘাতে তাঁর গাড়ির সামনের ও পিছনের উইন্ডস্ক্রিন সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ভাঙা কাচের টুকরো ছিটকে এসে তাঁর গায়েও লাগে এবং কাঁধে তিনি বেশ ভালোই আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হা*মলাকারীরা তাঁকে জোর করে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করারও চেষ্টা করেছিল। সরাসরি খু*নের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছেন যে, এত বড় একটি ভয়ানক ঘটনা ঘটে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশের দেখা মেলেনি। শুধু তাই নয়, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফ থেকেও তাঁর সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ইমেল মারফত রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এবং উত্তরপাড়া থানায় লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানান।

আরও পড়ুন: Samik Bhattacharya: জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্মভূষণ দেওয়া উচিত! নির্বাচন কমিশনারের ভূয়সী প্রশংসায় শমীক ভট্টাচার্য

হা*মলার ঘটনার পর উত্তরপাড়া থেকে সরাসরি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ভবানী ভবনে পৌঁছান এই বিধায়ক। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকর্তাদের কাছে গিয়ে হা*মলার শিকার হওয়া ভাঙা গাড়িটি সরাসরি দেখানো। কিন্তু ভবানী ভবনের সামনে পৌঁছাতেই এক অভাবনীয় বাধার সম্মুখীন হন তিনি। পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ওই ভাঙা গাড়ি নিয়ে তিনি কোনোভাবেই সদর দপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নির্দেশ শুনে স্বভাবতই পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কুণাল এবং তাঁর গাড়ির চালকের তুমুল বচসা বেধে যায়। তখন পুলিশ কর্তারা তাঁকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি চাইলে গাড়ি থেকে নেমে একা পায়ে হেঁটে ভেতরে যেতে পারেন। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় আসে যখন তিনি সত্যিই গাড়ি থেকে নেমে একা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।

Ad

কুণাল একা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই পুলিশ আধিকারিকরা ভবানী ভবনের মূল ফটকে সটান তালা ঝুলিয়ে দেন। ভেতরে ঢুকতে বাধা পেয়ে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রশ্ন তোলেন যে, তিনি তো এখানে নেমন্তন্ন খেতে আসেননি, বরং পুলিশের কাছে একটি হা*মলার নালিশ জানাতে এসেছেন, তাহলে তাঁকে কেন আটকানো হচ্ছে! তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, তাঁর ওপর যখন খু*নের চেষ্টা হচ্ছিল তখন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখেছে, আর এখন নালিশ জানাতে এলেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। জবাবে পুলিশ আধিকারিকদের বলতে শোনা যায় যে, ওপরতলা থেকে তাঁকে ভেতরে ঢোকার কোনো অনুমতি বা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই কথা শুনে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, ভবানী ভবন হলো রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর, সেখানে একজন আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে যেকোনো অফিসারের সঙ্গে কথা বলার অধিকার তাঁর রয়েছে।

আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সুপ্রিম কোর্টে মামলা! মুখ খুলুক কমিশন, সরব এনডিএ-ও 

গোটা ঘটনাটির নেপথ্যে পুলিশের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা সভা আটকাতেই এই পরিকল্পিত হুজ্জুতি এবং হা*মলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, লরি দিয়ে রাস্তা আটকে এবং নাকা চেকিংয়ের নামে মমতা ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গাড়ি বেছে বেছে হয়রান করা হচ্ছে। বর্তমান শাসকদলের এত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনমত থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের সভা আটকাতে এমন প্রাণঘাতী হা*মলার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সবশেষে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের হা*মলা, হুজ্জুতি বা ভয় দেখিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াইকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।

Advertisement Andaman Vibes

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img