নিউজ ডেস্ক, বাংলার আওয়াজ
MUMBAI: Mushtaq Khan বা বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান চরিত্রাভিনেতা মুশতাক খানের জীবনাবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে গোটা বলিউড তথা ভারতীয় বিনোদন জগতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র ৫৬ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মী—কাউকেই যেন বিশ্বাস করতে দিচ্ছে না। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। তাঁর অভাবনীয় অভিনয় দক্ষতা এবং বিশেষত হাস্যরসাত্মক চরিত্রগুলোর জন্য তিনি সব প্রজন্মের দর্শকের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। এদিন তাঁর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যম জুড়ে শোকের বন্যা বয়ে গিয়েছে। বিনোদন জগতের একাধিক শীর্ষ তারকা এবং পরিচালকরা এই গুণী অভিনেতার বিদায়ে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

জানা গিয়েছে, প্রবীণ এই অভিনেতা দীর্ঘ দিন ধরেই মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। প্রথমদিকে বিভিন্ন মহলে খবর ছড়িয়েছিল যে, তিনি সম্ভবত ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার জেরেই তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পরবর্তীতে অভিনেতার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী শিবম এই খবরের সত্যতা স্পষ্ট করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান যে, মুশতাক খান আসলে লিভার ক্যানসারের শিকার হয়েছিলেন এবং এই মারণরোগের কারণেই তাঁর মৃ*ত্যু হয়েছে। বিগত ১৫ দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় তাঁকে শহরের একটি নামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সমস্ত চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার মুম্বইয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
বলিউডে মুশতাক খানের অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল আজ থেকে চার দশকেরও বেশি সময় আগে। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত সিনেমা ‘অ্যালবার্ট পিন্টো কো গুস্সা কিঁউ আতা হ্যায়’-এর মাধ্যমে তিনি বড়পর্দায় নিজের অভিনয়জীবনের সফল সূচনা করেছিলেন। এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ চার দশকের বর্ণময় কেরিয়ারে তিনি হিন্দি ছবির জগতে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের বিখ্যাত সব ছবি যেমন ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কী মানতা নেহী’, ‘হম হ্যায় রাহী প্যায়ার কে’ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ‘হেরা ফেরী’, ‘মুঝসে শাদি করোগী’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’, এবং ‘ওহ মাই গড!’-এর মতো একাধিক মেগা ব্লকব্লাস্টার ছবিতে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সম্প্রতি ‘স্ত্রী’, ‘গদর ২’ এবং ব্লকবাস্টার ‘স্ত্রী ২’-এর মতো আধুনিক হিট ছবিতেও তাঁর নিখুঁত অভিনয় নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তাঁকে তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

মুশতাক খান তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও, সাধারণ দর্শকের কাছে তিনি বিশেষ ভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়েছিলেন তাঁর অসামান্য হাস্যরসাত্মক বা কমেডি চরিত্রগুলির জন্য। পর্দায় তাঁর নিখুঁত কমিক টাইমিং এবং সাবলীল অভিনয় মুহূর্তের মধ্যে দর্শকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলত। বিশেষ করে ব্লকবাস্টার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’-এ কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পটেকরের অভিনীত বিখ্যাত ‘উদয় শেট্টী’র দলের অন্যতম সদস্যের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় আজও সিনেপ্রেমী দর্শকের মনে তাজা রয়েছে। ওই ছবিতে তাঁর প্রতিটি সংলাপ এবং অভিব্যক্তি এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চরিত্রের নানা মজার দৃশ্য আধুনিক যুগের সমাজমাধ্যমে মিম হিসেবে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বড় তারকাদের ভিড়েও শুধুমাত্র নিজের অভিনয় প্রতিভার জোরে কীভাবে একটি পার্শ্বচরিত্রকে আইকনিক করে তোলা যায়, তা তিনি বারবার নিজের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন।
শুধুমাত্র বড়পর্দাতেই নয়, আশির দশক থেকে ছোটপর্দাতেও সমানতালে এবং নিয়মিত কাজ করে গিয়েছেন মুশতাক খান। টেলিভিশন ধারাবাহিকের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কালের আধুনিক ওয়েব সিরিজ়েও তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কখনও তিনি মুখ্য চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন, কখনও বা বড় তারকাদের ভিড়ে একটি ছোট পার্শ্বচরিত্রেই নিজের উপস্থিতি আলাদা করে জানান দিয়েছেন। কমেডি থেকে শুরু করে গম্ভীর নাটক, কমার্শিয়াল মশলা ছবি থেকে শুরু করে টেলিভিশনের রোজনামচা—সব মাধ্যমেই তিনি সমান সাবলীল ছিলেন। তবে বলিউডের এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক জগতে নিজের একটা পোক্ত জায়গা তৈরি করার পথ তাঁর জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের নানা ওঠাপড়া এবং বিনোদন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই কঠিন লড়াই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি অকপটে কথা বলেছেন। তাঁর এই চিরবিদায় বলিউডের জন্য নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় ক্ষতি।




