ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। আচমকা তুষারধস এবং তার জেরে সৃষ্ট হড়পা বানের তাণ্ডবে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশ। জানা গিয়েছে, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, নিখোঁজদের এই তালিকায় অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: মেটার বড় সিদ্ধান্ত! রাতভর বন্ধ থাকবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, টিনএজারদের জন্য দিনে মাত্র ২ ঘণ্টার ছাড়
সূত্রের খবর, ভায়াবহ তুষারধসের কারণে ভোটেকোশি নদীর অন্যতম উপনদী ‘লহেন্দে’-র স্বাভাবিক জলপ্রবাহ হঠাৎ করেই আটকে যায়। এর ফলেই এই মারাত্মক হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। বন্যা পরিস্থিতি প্রথম আছড়ে পড়ে চিন-নেপাল সীমান্তের রসুয়াগড়ি সংলগ্ন ‘তিমুরে’ এলাকায়। জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যেই জঙ্গল সাফারির জন্য বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র চিতওয়ান-সহ নেপালের একাধিক পৌরসভাকে কড়া হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল বৃহস্পতিবার এই বিপর্যয়ের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি জানান, হাজার হাজার পরিবার এই মুহূর্তে গৃহহীন এবং তাঁদের ঘরবাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সামগ্রিকভাবে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ভারতীয় পর্যটকদের খোঁজ পেতে ভারত ও নেপাল প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে।



