Pakistan Emergency Rule: মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারি ও রাজধানী ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি, চরম রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তান
Islamabad: পাকিস্তানের রাজনৈতিক আকাশে ফের ঘনীভূত হলো চরম অস্থিরতার কালো মেঘ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই (PTI) শাসিত উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আচমকাই জরুরি অবস্থা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার দেশের সংবিধানের নিরাপত্তা বিষয়ক দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা প্রয়োগ করে এই বিশেষ জরুরি অবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ইমরান খানের দলের দ্বারা পরিচালিত ওই প্রদেশের নির্বাচিত সরকার কার্যত বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেল। সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের চরম গাফিলতি এবং অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেই মূলত এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে। দেশের একটি নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার আকস্মিক ঘোষণার ফলে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বড়সড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Dhruv Rathee Released: ‘আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল’, ছাড়া পেয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে তোপ ধ্রুব রাঠীর
রবিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই দীর্ঘ বৈঠকের পরেই মন্ত্রিসভার প্রস্তাবিত সুপারিশে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও তিনি এই অনুমোদনের কথা নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের নিরন্তর লড়াই থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি তৈরি করছিল। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে প্রাদেশিক সরকারের বেশ কিছু বা সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই পিটিআই দলের বর্ষীয়ান আইনপ্রণেতা জুনেইদ আকবর সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন যে, খাইবার পাখতুনখোওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং ওই প্রদেশের দলের সভাপতিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়েছে।
![]()
কেন্দ্রীয় সরকারের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ ঠিক এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন পিটিআই নেতৃত্ব দেশের রাজধানী ইসলামাবাদে এক বিশাল প্রতিবাদ পদযাত্রা বা লং মার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দীর্ঘদিন জেলে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং বিশেষ করে দেশের যুব সমাজের কাছে সারা দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও রীতিমতো আকাশছোঁয়া। সেই জনপ্রিয় নেতাকে অবিলম্বে জেল থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবিতেই মূলত এই দেশব্যাপী পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সরকার এবং পিটিআই নেতৃত্বের মধ্যে একটি সুষ্ঠু আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে এবং সংঘাত এড়াতে এই পদযাত্রা গত সাতাশে সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে আগামী চৌঠা অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এই হঠাৎ জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে, গণতান্ত্রিক আলোচনার চেয়ে কঠোর হাতে বিরোধী আন্দোলন দমনের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।
এদিকে, ইমরান খানের দলের ডাকা এই বিশাল পদযাত্রাকে কোনোভাবেই রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে আগে থেকেই প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পিটিআই সমর্থকদের ইসলামাবাদে পৌঁছানো আটকাতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে নানা ধরনের কড়া এবং নজিরবিহীন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। রাজধানীর মূল প্রবেশপথগুলিকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিতে সেখানে বড় বড় এবং ভারী শিপিং কন্টেইনার দিয়ে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো গাড়ি বা মানুষের ঢল ভেতরে ঢুকতে না পারে। যেকোনো ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ ঠেকাতে শহরের আনাচে-কানাচে রাস্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, রেঞ্জার্স ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কার্যত এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। সরকার কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা দেখা দিলে কোনো রাজনৈতিক দল বা বিরোধী শক্তিকেই এতটুকু ছাড় দেওয়া হবে না।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই জরুরি অবস্থা জারির পর অত্যন্ত তীব্র এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন যে, সরকারের এই স্বৈরতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশে শুধুই রক্তপাত, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাপক আনুষঙ্গিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আলোচনার জন্য দলের তরফ থেকে সরকারকে যথেষ্ট সুযোগ ও সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথই খুঁজছিল। কিন্তু সরকারের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং দলের মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করার ঘটনা থেকে এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে, প্রশাসন কখনোই সত্যিকারের আলোচনা বা সমঝোতা করতে চায়নি, বরং তারা বিরোধী শূন্য রাজনীতি কায়েম করতে চায়। এই মুহূর্তে শাসকদল এবং বিরোধীদের এই চরম অনড় অবস্থানের জেরে গোটা পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।




