PM Modi Durga Puja Bengal Visit: ইডেনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান বাতিল, মহাঅষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
PM Modi Durga Puja Bengal Visit: আসন্ন শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও উৎসবের আবহে ১টি বিরাট চমকপ্রদ খবর সামনে এসেছে। দেবীপক্ষের সূচনা অর্থাৎ মহালয়ার পুণ্যলগ্নে নয়, বরং দুর্গাপুজোর একেবারে মূল উৎসবের মধ্যে বঙ্গে পদার্পণ করতে চলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেবীপক্ষের সূচনাতেই কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত ১টি অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে যে, মহালয়ার সেই বহুল চর্চিত অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। তার পরিবর্তে পুজোর একেবারে মধ্যগগনে অর্থাৎ মহাসপ্তমীর দিন রাজ্যে পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, মহাঅষ্টমীর পবিত্র সকালে তিনি হাওড়ার ঐতিহাসিক বেলুড় মঠে যেতে পারেন এবং সেখানে সনাতন ঐতিহ্যের কুমারী পুজো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারেন। বেলুড় মঠে গিয়ে তিনি কুমারী পুজো দেখার পাশাপাশি মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলিও প্রদান করতে পারেন বলে বিশেষ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফরসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা পিএমও-র তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়নি। ফলে পুজো চলাকালীন রাজ্যে তাঁর অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ই অক্টোবর মহালয়া। চলতি বছরের শারদোৎসবে মহালয়ার দিনটিকে ১টি অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে মা দুর্গার প্রতীকী চক্ষুদানের মাধ্যমেই এবার সমগ্র বাংলায় দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক ও বর্ণাঢ্য সূচনা ঘোষণা করা হবে। শুধু ইডেন গার্ডেন্সের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানই নয়, তার আগে মহানগরের বুকে ১টি বিরাট মেগা রোড শোরও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে শহরবাসীর মধ্যেও প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।

আলোকসজ্জায় আলো ঝলমল হয়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী রেড রোড ধরে পুজোর সুবিশাল শোভাযাত্রায় বাংলার ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নিজস্ব লোকশিল্প ও নৃত্যকলা তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। যা একই মঞ্চে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গোটা দেশের দরবারে তুলে ধরত। এছাড়াও ইডেন গার্ডেন্সের সবুজ গ্যালারি মুখরিত করে ১ হাজার মহিলার সমবেত উলুধ্বনি এবং ১ সঙ্গে ১০ হাজার ঢাকির ঢাকের আওয়াজে চারদিক কাঁপিয়ে তোলার ১টি অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের আশা ছিল, এই অভাবনীয় আয়োজন সরাসরি নাম তুলে নেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এছাড়াও সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রীর গোটা স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে পুজোর বিশেষ গান পরিবেশন করার কথা চূড়ান্ত ছিল। সেই মহাজমায়েতের মূল আকর্ষণ হওয়ার কথা ছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক মহলে ১টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ইডেন গার্ডেন্সের আয়োজক সংস্থা সিএবি বা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে ১টি জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। আর সেই বৈঠকেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, মহালয়ার দিন কলকাতায় উপস্থিত হতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাথমিকভাবে যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল—যেখানে তিনি চক্ষুদানের পাশাপাশি খোলা গাড়িতে চেপে গোটা স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করবেন—প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণে সেই গোটা পরিকল্পনায় এখন বড়সড় রদবদল ঘটাতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এই মেগা ইভেন্টের সম্পূর্ণ রূপরেখা নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

তবে মহালয়ার দিন প্রধানমন্ত্রী না আসায় উৎসবপ্রেমী বঙ্গবাসীর নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে মহালয়ার সেই মেগা উৎসবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বঙ্গে উপস্থিত হতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসবেন মহাসপ্তমীর দিন এবং পুজো পরিক্রমা ও ঐতিহ্যবাহী বেলুড় মঠ দর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবাসীর উৎসবের আনন্দে সরাসরি শামিল হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক আবহে বঙ্গবাসীর আবেগ ছুঁতে মহালয়া এবং দুর্গাপুজো—উভয় দিনেই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতবাহী। এখন দেখার বিষয়, পিএমও-র চূড়ান্ত সূচিতে নরেন্দ্র মোদীর বেলুড় মঠ সফর এবং পুজো কাটানোর বিস্তারিত রূপরেখা শেষ পর্যন্ত ঠিক কেমন চূড়ান্ত হয়।




