পরিকল্পনা করে বিজেপি কর্মীর প্রাণহানি নাকি পুজো কমিটির বিবাদ? বারুইপুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা

Published:

বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর মর্মান্তিক মৃ*ত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত ওই কর্মীর নাম বাপি প্রামাণিক। তাঁকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয় বলে পরিবারের তরফ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পরিবারের দাবি, বাপি প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় এলাকায় দলীয় সংগঠনের প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই অতীতেও তাঁকে বহুবার নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকী, বিরোধী দল করার অপরাধে প্রায় এক দশক ধরে তাঁকে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের স্পষ্ট অভিযোগ, সেই পুরনো রাজনৈতিক আক্রোশের জেরেই এবার পরিকল্পনা করে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। র*ক্তা*ক্ত এবং গুরুতর জখম অবস্থায় ওই বিজেপি কর্মীকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃ*ত্যু হয়। এই খবর এলাকায় পৌঁছতেই রাজনৈতিক মহলে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে।

তবে, পরিবারের তরফ থেকে রাজনৈতিক শত্রুতার অভিযোগ তোলা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একেবারে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সরাসরি যোগ নেই। স্থানীয় একটি পুজো কমিটি গঠন এবং তার দখলকে কেন্দ্র করে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও মারামারির জেরেই গুরুতর আহত হন বাপি প্রামাণিক, যা পরবর্তীতে মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে।

এই স্পর্শকাতর ঘটনার পর বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁদেরকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আপনার কী মত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।

Sougata Raha
Sougata Raha
রাজ্য ও জেলার প্রতিদিনের খবরাখবর সংগ্রহ এবং ক্রাইম বিটের দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img