Rathindra Bose Hospitalized: গান্ধী জয়ন্তীর অনুষ্ঠান সেরে ফিরতেই বিপত্তি, কেমন আছেন স্পিকার?
Rathindra Bose Hospitalized: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতির আঙিনা থেকে আচমকাই একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর সামনে আসছে। রাজ্য বিধানসভার নবনির্বাচিত স্পিকার তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রথীন্দ্র বসু হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জানা গিয়েছে যে, শুক্রবার রাতে আচমকা তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করায় বিন্দুমাত্র দেরি না করে তাঁকে তড়িঘড়ি কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি প্রথম সারির বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে। রাজ্যের একজন অত্যন্ত শীর্ষস্থানীয় সাংবিধানিক পদাধিকারীর এমন আচমকা অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চিকিৎসার পর আপাতত স্পিকারের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

আরও পড়ুনঃ Pakistan Fake Asif Exposed: লস্কর জঙ্গি ‘নকল’ আসিফকে সামনে এনে চরম হাসির খোরাক পাকিস্তান।
রথীন্দ্র বসুর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার দিনভর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটিয়েছেন। শুক্রবার বিধানসভায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে গান্ধী জয়ন্তী এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মদিন উদ্যাপন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিধানসভার স্পিকার হিসেবে তিনি নিজে সেই সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি দিনভর বিধানসভার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতেও তাঁকে অত্যন্ত সাবলীলভাবে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সমস্ত অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁর শারীরিক কোনো রকম অস্বস্তির লক্ষণ কারও নজরে আসেনি। কিন্তু সারাদিনের সেই সমস্ত ব্যস্ততা ও অনুষ্ঠান অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে শেষ করে যখন তিনি নিজের বাসভবনে ফিরে আসেন, ঠিক তখনই ঘটে যায় এই অনভিপ্রেত বিপত্তি। আচমকা এই শারীরিক অবনতিতে পরিবারের সকলেও ভয় পেয়ে যান।
![]()
বাসভবনে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি আচমকা বুকের বাঁ দিকে তীব্র এবং অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করতে শুরু করেন। তাঁর শারীরিক অস্বস্তি ক্রমশ বাড়তে থাকায় এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আর বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাননি। তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছনোর পরপরই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করে দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক দল ইতিমধ্যেই স্পিকারের ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম থেকে শুরু করে আরও বেশ কিছু অত্যন্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে আগামী কয়েকদিন তাঁকে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে হাসপাতালেই থাকতে হতে পারে। আপাতত বিপন্মুক্ত হলেও তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Baba Vanga Horoscope: বাবা ভেঙ্গার গণনায় শনিবার কাদের কপাল খুলছে? জেনে নিন ১২টি রাশির ভাগ্যফল।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে জয়লাভ করার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে তিনি বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গত ১৫ই মে তিনি সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। পেশাগত দিক থেকে তিনি একজন অত্যন্ত সফল এবং প্রতিষ্ঠিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি প্রত্যক্ষ এবং সক্রিয় রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই তাঁকে বিধানসভার স্পিকারের মতো সম্মানজনক পদে পৌঁছতে সাহায্য করেছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে তিনি রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে তেইশ হাজারেরও বেশি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম বার বিধানসভায় পা রাখেন। প্রথম বার বিধায়ক হয়েই বিধানসভার স্পিকারের মতো এমন একটি অত্যন্ত সম্মানজনক এবং দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতারই একটি বড় প্রমাণ। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর এই হঠাৎ অসুস্থতা স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রীরা তাঁর দ্রুত এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাচ্ছেন। সকলেই আশা করছেন খুব শিগগিরই তিনি সুস্থ হয়ে ফের বিধানসভার কাজে যোগ দেবেন।




