Rejinagar By Election: ‘আগামী কুড়ি বছর সরকার বদলাবে না’! রেজিনগরে সংখ্যালঘু সমাজকে বিশেষ বার্তা শমীকের
Rejinagar By Election: আসন্ন রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে। ভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শাসক এবং বিরোধী—সব শিবিরই জোরকদমে ময়দানে নেমে পড়েছে। আর এই চরম রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেই বুধবার রেজিনগরে এক বিশাল জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এদিন তিনি মূলত রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার সারতে এসেছিলেন। কিন্তু এই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে তিনি রাজ্যের সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের উদ্দেশ্যে যে বিশেষ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, তা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি দাবি করেন যে, আগামী কুড়ি বছর পশ্চিমবঙ্গে সরকারের কোনো পরিবর্তন হবে না, তাই সংখ্যালঘু মানুষদের অকারণে রাজনৈতিক ঝগড়ায় বা সংঘাতে না জড়িয়ে সরকারের পাশে থাকা উচিত এবং সার্বিক উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হওয়া উচিত।
এদিনের জনসভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীত এবং বর্তমানের বিভিন্ন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, বিগত দিনের সরকারগুলি কীভাবে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দিনের পর দিন পিছিয়ে রেখেছে এবং আধুনিক উন্নয়নের আলো থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, তা রেজিনগরের সাধারণ মানুষ খুব ভালো করেই জানেন। সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, শাসকদলের নেতারা শুধুমাত্র নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য তাদের উপযুক্ত লেখাপড়া এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি মারাত্মক অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়নের বদলে শুধুমাত্র তাঁদের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে দীর্ঘ দশক ধরে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই বঞ্চনার দিন চিরতরে শেষ হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ Parakiya Prem: পরকীয়া কতটা সঠিক? দাম্পত্যের বাইরে সম্পর্কের উপকারিতা, অপকারিতা ও আইনি দিক।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি তাঁর দীর্ঘ ভাষণে অত্যন্ত জোর দিয়ে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বা অশান্তি নেই। সাধারণ মানুষ শান্তিতেই বাঁচতে চায়, আর বিজেপির রাজনীতির মূল ভিত্তিটাই হলো উন্নয়ন এবং প্রগতি। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে কীভাবে উন্নয়নের এক নতুন জোয়ার এসেছে, সে কথাও তিনি তুলে ধরেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সমাজ প্রকৃত অর্থেই শিল্প চায় এবং ঘরের ছেলেদের জন্য সঠিক কর্মসংস্থান বা চাকরি চায়, তবে তাদের হাত থেকে বন্দুক বা অস্ত্র সরিয়ে সেখানে বই ধরাতে হবে। কারণ একমাত্র শিক্ষাই পারে একটি পিছিয়ে পড়া সমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে আলোর পথে বা প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ শিক্ষা ও অর্থনীতিতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
![]()
এদিনের হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক সভা থেকে তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিমকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন যে, এই সমস্ত বড় নেতাদের নিজেদের ছেলেমেয়েরা সবাই নামিদামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে। তারা কিন্তু নিজেদের সন্তানদের কখনোই সাধারণ মাদ্রাসায় পাঠায় না। অথচ যখন সাধারণ সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার প্রসঙ্গ আসে, তখন তাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে না দিয়ে ভুল বুঝিয়ে মাদ্রাসায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই দ্বিমুখী নীতির তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়েও তিনি মুখ খোলেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের ফর্মে কোথাও আলাদা করে লেখা নেই যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন এর সুবিধা পাবেন না। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমাজের সকল যোগ্য নাগরিককেই এই যোজনার টাকা দেওয়া হচ্ছে।

নিজের বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্বে এসে শমীক ভট্টাচার্য রাজনৈতিক ইফতার পার্টি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি একটি পুরনো প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে একবার একজন ইফতার পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই ধরনের মেকি নাটক করা তাঁর পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব নয়। সকালে নিজের বাড়িতে মাছ-ভাত খেয়ে বিকেলে ইফতারের পার্টিতে গিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের সামনে অভিনয় করা তাঁর নীতিবিরুদ্ধ। তিনি আবেগঘন সুরে বলেন, যেদিন তিনি সারাদিন তাঁর মুসলিম ভাইদের সঙ্গে উপবাস বা রোজা পালন করতে পারবেন, একমাত্র সেদিনই তিনি ইফতার পার্টিতে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি সরকারের সঙ্গে থাকলে সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলেদের আর সামান্য উপার্জনের আশায় ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে হবে না এবং সেখানে গিয়ে বাঙালি হিসেবে কোনো রকম আক্রান্ত বা হেনস্থার শিকার হতে হবে না। রাজ্যেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে তাঁর দল।




