Rejinagar By Election: ‘রেজিনগর সরকারের সাথেই থাকবে’, শাখারভের প্রচারে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু
Rejinagar By Election: আগামী ছয় অক্টোবর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে দলীয় প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রচার সারতে এসেছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই দিনের প্রচার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন যে, রেজিনগরের সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের পাশেই থাকবেন এবং সার্বিক উন্নয়নের পথকেই বেছে নেবেন। তাঁর এই বলিষ্ঠ বক্তব্য উপস্থিত হাজার হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনার সৃষ্টি করে। উপনির্বাচনের এই হাইভোল্টেজ প্রচার মঞ্চ থেকে তিনি যেমন নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন, তেমনই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে পিছপা হননি। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পারদ ততই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।

বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, রেজিনগরের মাটিতে এবার নিশ্চিতভাবে পদ্মফুল ফুটতে চলেছে। বিজেপি প্রার্থীর বিপুল জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এখানকার জয়ের ব্যবধান অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে এবং গত নির্বাচনে ফলতার ব্যবধানকেও অনায়াসে ছাপিয়ে যাবে। প্রার্থী শাখারভ সরকারের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করে তিনি বলেন, এটা এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা যে শাখারভ সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় প্রবেশ করবেন এবং এই ঐতিহাসিক জয় কেউ কোনোভাবেই আটকাতে পারবে না। তাঁর মতে, রেজিনগরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত, তাঁরা কোনো রকম সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক বিভাজন চান না, তাঁরা নিজেদের এলাকার প্রকৃত ও স্থায়ী উন্নয়ন চান এবং ঠিক সেই কারণেই তাঁরা বিজেপিকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন বলে তিনি স্থির বিশ্বাসী।

বিরোধীদের একযোগে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল সিপিএমকে সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন যে, যাঁরা একটানা চৌত্রিশ বছর ধরে এই রাজ্য শাসন করেছিল এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল, আজ বিধানসভায় তাঁদের মাত্র একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। দীর্ঘদিনের শরিক কংগ্রেসের অবস্থাও তথৈবচ, তাদের হাতে রয়েছে মাত্র দু’টি আসন। এরপর তিনি পনেরো বছর ধরে রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস এবং ওই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি অতীত বিধানসভা নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তিনি নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পনেরো হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সাধারণ মানুষ আর তাঁদের চাইছে না। এরপর তিনি তৃণমূল আমলের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি, যেমন টাকা চুরি, আবাস যোজনায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং চাকরি চুরির প্রসঙ্গ তুলে এনে দাবি করেন যে, এসবের জন্যই আজ রাজ্যে শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: India vs Pakistan Hockey: উনপঞ্চাশ সেকেন্ড বাকি থাকতে গোল! পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াডের ফাইনালে ভারত
রাজনৈতিক সৌজন্যের অভাব এবং বিরোধীদের কুরুচিকর মন্তব্যেরও এদিনের সভা থেকে কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে এক স্থানীয় বিরোধী নেতার মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, ওই নেতা নাকি প্রার্থনা করছেন যাতে ওপরওয়ালা তাঁকে তাড়াতাড়ি দুনিয়া থেকে তুলে নেন এবং রাজীব গান্ধী বা ইন্দিরা গান্ধীর মতো তাঁরও যেন মর্মান্তিক পরিণতি হয়। এই ধরনের অমানবিক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতির ময়দানে আদর্শগত লড়াই হবে, তীব্র তর্কবিতর্ক এবং সমালোচনা হবে, নির্বাচনে একজন জিতবে আর অন্যজন হারবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু চরম রাজনৈতিক শত্রুকেও কেউ এমন ভয়ংকর কথা বলে না। তিনি এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যের বিচারের সম্পূর্ণ ভার রেজিনগরের সচেতন এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের নেতিবাচক এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির কারণেই সাধারণ মানুষ বিরোধীদের দিক থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক আক্রমণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে একটি অত্যন্ত মানবিক দিকও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সভামঞ্চ থেকে জানান যে, দিনকয়েক আগে এলাকায় একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ছয় বছরের এক ছোট অবোধ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তিনি নিজে একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে সেই শোকস্তব্ধ পরিবারের কাছে গিয়ে, ওই শিশুকন্যার অসহায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানিয়ে এসেছেন। তবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কঠোরভাবে বলবৎ থাকার কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই মুহূর্তে সরকারিভাবে ওই পরিবারটিকে কোনো রকম আর্থিক বা প্রশাসনিক সহযোগিতা করতে পারছেন না। কিন্তু নির্বাচন সম্পূর্ণ মিটে গেলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে যাওয়ার পরপরই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ওই অসহায় পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন।




