Sayak Chakraborty: বিগ বস বাংলায় মেগা টুইস্ট! লো প্রোফাইল দীপেন্দু নয়, আজ কি বাদ যাচ্ছেন ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী?
KOLKATA: Sayak Chakraborty বা সায়ক চক্রবর্তীকে নিয়ে এবার বিগ বস বাংলার ঘরে তৈরি হল এক চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি। দীর্ঘ দশ বছর পর টেলিভিশনের পর্দায় ফিরে আসা জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’ (Bigg Boss Bangla) সিজন ৩-এর এই সপ্তাহের এলিমিনেশন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বিদেশি প্রতিযোগী আলেক্সান্দ্রা টেলরের মেগা বিদায়ের পর এবার এলিমিনেশনের খাঁড়া ঝুলছে টলিউডের পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তীর ওপর। ‘নিউজ ১৮ বাংলা’-র এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জল্পনা অনুযায়ী, দর্শকদের ভোটে পিছিয়ে থাকার কারণে চলতি সপ্তাহে বিগ বসের দুর্গ থেকে ছিটকে যেতে পারেন তিনি। প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে প্রবল ধারণা ছিল যে, শোয়ের অন্যতম ‘লো প্রোফাইল’ প্রতিযোগী এবং প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস হয়তো এই সপ্তাহে বিদায় নেবেন। কিন্তু সমস্ত হিসেবনিকেশ ওলটপালট করে দিয়ে এবার বিদায়বেলায় সায়ক চক্রবর্তীর নাম উঠে আসায় তাঁর অগণিত অনুগামী এবং নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাদার দরবার’-এ এবার কি তবে সত্যিই সায়কের বিদায়ঘণ্টা বাজতে চলেছে, তা নিয়েই এখন মেগা সাসপেন্স তৈরি হয়েছে।

সায়ক চক্রবর্তী বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত নাম। ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন এবং প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইউটিউবার হিসেবেও তাঁর লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে, যাঁরা তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের ভ্লগ দেখতে পছন্দ করেন। সেই বিপুল ফ্যান বেস এবং জনপ্রিয়তার ওপর ভর করেই তিনি বিগ বসের ঘরে এক অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর যে বিশাল প্রভাব রয়েছে, তার জেরে তিনি বিগ বস বাংলার গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত খুব সহজেই পৌঁছে যাবেন এবং হয়তো ট্রফিটাও নিজের নামে করতে পারবেন। কিন্তু রিয়্যালিটি শোয়ের চিত্রনাট্য যে সবসময় সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, সায়কের এই এলিমিনেশনের মেগা জল্পনা যেন তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। শোয়ের ফরম্যাট অনুযায়ী, ক্যামেরার সামনে যিনি যতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন এবং দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন বিনোদন দিতে পারবেন, তিনিই টিকে থাকবেন। আর এই জায়গাটিতেই সায়ক সম্ভবত কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিগ বসের নিয়মিত দর্শকরা।
বিগ বসের ঘরে সায়কের যাত্রা প্রথম থেকেই বেশ ঘটনাবহুল এবং চড়াই-উতরাইতে ভরা ছিল। শুরুর দিকে অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর বেশ ভালো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও, পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিশেষ করে শোয়ের অন্যতম প্রতিযোগী জয়িতা চ্যাটার্জির সঙ্গে তাঁর এক ভয়ংকর সংঘাতের প্রোমো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে সায়কের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সায়ক সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দর্শকদের কাছে তাঁর ইমেজ কিছুটা হলেও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল। এর পাশাপাশি রাজবীর দে, জিতু কামাল এবং পরবর্তীতে সৌরভ দাসের মতো হেভিওয়েট ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিরা ঘরে প্রবেশ করার পর বিগ বসের অন্দরের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়। এই ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগীদের আগ্রাসী মনোভাব এবং ক্রমাগত কূটকচালির সামনে সায়ক চক্রবর্তী যেন কিছুটা কোণঠাসা ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছিলেন। দর্শকদের একাংশের মতে, তিনি বিগ বসের ঘরে নিজের সেই চেনা ইউটিউব অবতার বা প্রাণবন্ত বিনোদনমূলক রূপটি পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। হয়তো সেই কারণেই ভোটিং লাইনে দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো একজন ‘লো প্রোফাইল’ প্রতিযোগীর থেকেও কম ভোট পেয়েছেন সায়ক।

দীপেন্দু বিশ্বাসকে ঘিরেও বিগ বস হাউজে কম সমালোচনা হয়নি। প্রথম থেকেই তাঁকে শোয়ের অন্যতম নিষ্ক্রিয় বা কম বিনোদন দেওয়া প্রতিযোগী হিসেবে ধরা হচ্ছিল। রাজবীর দে-র মতো ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগীরা দীপেন্দুকে সরাসরি ভর্ৎসনাও করেছিলেন তাঁর নীরব ভূমিকার জন্য। তাই উইকেন্ড এলিমিনেশনের তালিকায় যখন দীপেন্দুর নাম মনোনীত ছিল, তখন সবাই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন যে তাঁকেই এই সপ্তাহে বাড়ির রাস্তা দেখতে হবে। কিন্তু রিয়্যালিটি শোয়ের ইতিহাসে ‘আন-প্রেডিক্টেবল’ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনাই সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP)। দর্শকদের ভোটের যে লেটেস্ট ট্রেন্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে দীপেন্দু বিশ্বাস কোনো এক অজানা জাদুবলে সায়ক চক্রবর্তীর থেকে বেশি ভোট পেয়ে নিজেকে আপাতত সুরক্ষিত করে ফেলেছেন। আর সেই নির্মম ভোটের অঙ্কেই সায়ককে বিদায় নিতে হচ্ছে বলে টলিপাড়ায় প্রবল গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদি সত্যি সত্যিই সায়ক বিগ বসের ঘর থেকে এলিমিনেট হন, তবে এটি তাঁর অনুরাগী এবং ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারদের কাছে এক বিশাল বড় ধাক্কা হবে। তবে কেউ কেউ আবার মনে করছেন যে এটি বিগ বসের মেকারদের তৈরি করা একটি মেগা সাসপেন্স বা চমক হতে পারে, যাতে উইকেন্ড এপিসোডের টিআরপি (TRP) আকাশছোঁয়া হয়।
সব মিলিয়ে, ‘বিগ বস বাংলা’ সিজন ৩ এখন এক অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সায়ক চক্রবর্তীর এই সম্ভাব্য এলিমিনেশনের খবর শোয়ের ভেতরের অন্যান্য প্রতিযোগীদের কাছেও এক কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে পৌঁছবে। তাঁরা বুঝতে পারবেন যে, শুধুমাত্র আগের খ্যাতি বা সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার দিয়ে বিগ বসের ঘরে টিকে থাকা সম্ভব নয়, প্রতিদিন নতুন করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। এখন গোটা বাংলার চোখ নিবদ্ধ শনিবার ও রবিবারের ‘দাদার দরবার’ এপিসোডের দিকে। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন এলিমিনেশনের খামটি খুলবেন, তখন কি সত্যিই সায়ক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয় মোড় বা টুইস্ট দিয়ে তাঁকে আরও এক সপ্তাহের জন্য বাঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং অন্য কাউকে বিদায় নিতে হবে? আর যদি সায়ক সত্যিই ছিটকে যান, তবে বিগ বসের ঘরের ভেতরের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ বা জোট কীরূপ হবে, তা দেখার জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। রিয়্যালিটি শোয়ের এই নিষ্ঠুর কিন্তু আকর্ষণীয় খেলায় শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়, সেটাই এখন সবথেকে বড় দেখার বিষয়।




