Special Ration Package: ২ কোটি ১২ লক্ষ মানুষের জন্য অতিরিক্ত ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ১৫ই অক্টোবর থেকে মিলবে সুবিধা
Kolkata: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো একেবারে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে, আর এই উৎসবের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট বড় উপহারের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পুজো মানেই মিষ্টিমুখ এবং রকমারি খাবারের বিপুল আয়োজন, আর সেই আয়োজনে যাতে কোনোভাবেই ভাঁটা না পড়ে, তার জন্য রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এক অত্যন্ত বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। উৎসবের এই মরশুমে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে আর্থিক সুরাহা দিতে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান দামের হাত থেকে স্বস্তি দিতে রেশনে অর্ধেক দামে চিনি, ময়দা এবং সুজি দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস এবং স্বস্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। মূলত উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে যাতে খুশির পরিবেশ বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছেন রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।
খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এই বিশেষ রেশন প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ রেশন উপভোক্তা বা সাধারণ গ্রাহক এই বিশেষ উৎসবের প্যাকেজের সরাসরি সুবিধা লাভ করবেন। এই বিরাট সংখ্যক মানুষকে অর্ধেক দামে বা বিপুল ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার নিজেদের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১১৪ কোটি টাকা খরচ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মাথাপিছু ১ কেজি করে চিনি, ১ কেজি করে ময়দা এবং ২৫০ গ্রাম করে সুজি দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই বিরাট অঙ্কের আর্থিক ভর্তুকি রাজ্যের দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল বড় পাওনা, যা তাদের উৎসবের সীমিত বাজেটে অনেকটাই ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে প্রবলভাবে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ঠিক কবে থেকে রাজ্যের রেশন দোকানগুলোতে এই বিশেষ প্যাকেজ পাওয়া যাবে? খাদ্য দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে শুরু করে ১৭ই নভেম্বর পর্যন্ত একটানা এই স্পেশাল রেশন প্যাকেজ সাধারণ গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে রেশন ডিলারদের নিজস্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুজোর ছুটির কারণে দশমীর পর থেকেই মূলত এই বিশেষ রেশন প্যাকেজ গ্রাহকদের হাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তুলে দেওয়ার কাজ পুরোদমে শুরু হবে। এই দীর্ঘ এক মাস সময়সীমা দেওয়ার মূল কারণ হলো, যাতে প্রতিটি যোগ্য গ্রাহক কোনো রকম ভিড় বা হয়রানি ছাড়াই নিজেদের প্রাপ্য সামগ্রী অত্যন্ত সহজে সংগ্রহ করতে পারেন। রেশন ডিলাররাও এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বন্টনের জন্য নিজেদের দোকানে প্রয়োজনীয় মজুত এবং প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে খবর।
এই বিশেষ প্যাকেজের অধীনে সাধারণ গ্রাহকদের ঠিক কত টাকা খরচ করতে হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা খাদ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী, রেশন দোকান থেকে ১ কেজি চিনি কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হবে মাত্র ৩০ টাকা, যা খোলা বাজারের দামের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একইভাবে ১ কেজি ময়দার জন্য দাম ধার্য করা হয়েছে মাত্র ১৯ টাকা। তবে ২৫০ গ্রাম সুজির দাম ঠিক কত হবে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি, তবে তা যে খোলা বাজারের তুলনায় অনেকটাই সস্তা হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। উৎসবের মুখে বাজারে যখন এই সমস্ত সামগ্রীর দাম হু হু করে বাড়তে থাকে, তখন সরকারের এই অর্ধেক দামে সামগ্রী দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির প্রবল চাপ থেকে অনেকটাই রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, রাজ্যের বর্তমান সরকারের এই জনমুখী এবং কল্যাণকামী পদক্ষেপ উৎসবের মরশুমে এক অভাবনীয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে। রাজ্যের ২ কোটি ১২ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে খাদ্য দপ্তর দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ঘোষণা রাজ্যের দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে এক পরম আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত এই স্পেশাল রেশন প্যাকেজের সুবিধা অবাধে অব্যাহত থাকবে, যার ফলে উৎসবের অনাবিল আনন্দ প্রতিটি ঘরে ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ এখন শুধুমাত্র দশমীর পরের সেই বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যখন তাঁরা নিজেদের এলাকার রেশন দোকান থেকে এই অর্ধেক দামের উৎসবের সেরা উপহারটি হাতে পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।




