Supreme Court: ‘এত সাহস পান কোথা থেকে?’ বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে নোটিস পাঠানোয় উত্তরপ্রদেশের পুলিশকর্তাকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
NEW DELHI: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কড়া নির্দেশ অমান্য করে এক বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে নোটিস পাঠিয়ে চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশকর্তা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া এবং সহপাঠীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেটার নয়ডার এক এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওই নোটিস জারি করেছিলেন। বুধবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন, “একজন ম্যাজিস্ট্রেট কী ভাবে এ ধরনের নোটিস জারি করার সাহস পান?”
জানা গিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণে গৌতমবুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সি আইন পড়ুয়া অক্ষত ত্রিপাঠীকে গত ৪ সেপ্টেম্বর নোটিস ধরানো হয়। বুধবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। এই কথা শোনার পরই পুলিশকর্তা ও জেলাশাসকের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, এই পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ” আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে, কোনও আন্দোলনকারী পড়ুয়ার বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তি কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। কোনও ম্যাজিস্ট্রেটই সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করতে পারেন না। আমাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস কারও নেই।” যদিও শীর্ষ আদালতের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে নোটিস জারির পরের দিনই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবুও এই বেআইনি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলাশাসকের কাছে কড়া ভাষায় ব্যাখ্যা তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, বিক্ষোভে যোগ দেওয়াকে আইনের কোনও ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না এবং নতুন করে কোনও এফআইআর করা যাবে না। সেই নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েই প্রধান বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিস্মিত যে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরও একজন জেলাশাসক বা ম্যাজিস্ট্রেট কী ভাবে এমন বেআইনি নোটিস জারি করতে পারেন!”




