Suvendu Adhikari: ‘৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফল ভুগতে হবে!’ রেজিনগরের আগে হুমায়ুন কবীরকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari: ‘৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফল ভুগতে হবে!’ রেজিনগরের আগে হুমায়ুন কবীরকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

KOLKATA: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে এক চরম কড়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-এর প্রধান হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বিতর্কিত হুঁশিয়ারির সরাসরি জবাব দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে হুমায়ুন কবীর তাঁর দলের প্রচার বন্ধ করে দিয়ে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “ভোটের দিন যা হবে, হবে।” এই প্রচ্ছন্ন হুমকির প্রেক্ষিতেই এবার কড়া ভাষায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেউ যদি রেজিনগরের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে বা অশান্তি পাকানোর চক্রান্ত করে, তবে আগামী ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে এর চরম ফল ভুগতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা হুঁশিয়ারি আক্ষরিক অর্থেই প্রমাণ করে দিল যে তাঁর প্রশাসন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো রকম আপস করতে প্রস্তুত নয়। এই ঘোষণার পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিরোধী শিবিরগুলিও যথেষ্ট চাপে পড়ে গিয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাজ্যে এখন আর পূর্বতন সরকারের মতো গুন্ডামি বা তোলাবাজির রাজত্ব চলে না। প্রশাসন এবং পুলিশ এখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করছে। হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করেন যে ভোটের দিন জোরজুলুম করে বা পেশিশক্তি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট লুট করবেন, তবে তারা যেন সেই অলীক কল্পনা থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রশাসন সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই আইনশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘৬ অক্টোবর সন্ধ্যার’ উল্লেখটি রাজনৈতিক মহলে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন পুলিশ প্রশাসনের কাজে কেউ বাধা দিলে বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করলে, রাজ্য প্রশাসন কোনোভাবেই নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। এই কড়া বার্তার ফলে সাধারণ ভোটারদের মনেও নিরাপত্তা নিয়ে এক বিপুল স্বস্তি এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: Sayak Chakraborty: বিগ বস বাংলায় মেগা টুইস্ট! লো প্রোফাইল দীপেন্দু নয়, আজ কি বাদ যাচ্ছেন ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী? 

হুমায়ুন কবীরের মতো একজন পোড়খাওয়া এবং দাপুটে রাজনীতিবিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সরাসরি সংঘাত রেজিনগর উপনির্বাচনকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের নতুন দল গঠন করার পর থেকেই হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর দলের চারজন শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারি এবং নিজের বাড়িতে পুলিশের নোটিস যাওয়ার পর তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রচার থেকে পিছু হটেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেছিলেন যে, হুমায়ুনের এই পিছু হটা আসলে শাসকদলকে চাপে ফেলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ভোটের দিন তিনি হয়তো তাঁর দলের বিশাল বাহিনী নিয়ে ময়দানে নামবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই পাল্টা হুঁশিয়ারির মাধ্যমে হুমায়ুনের সেই ছক সম্পূর্ণভাবে বানচাল করে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের কাছে আসা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং কেউ যদি নিজে অপরাধ করে পুলিশের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে, তবে বাংলার সচেতন মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না।

Advertisement

আগামী ৬ অক্টোবর মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের মেগা মহারণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনটি শুধুমাত্র একটি বিধানসভার আসন দখলের লড়াই নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড়সড় মর্যাদার লড়াই। একদিকে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদধন্য আগ্রাসী বিজেপি প্রার্থী, অন্যদিকে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং তৃতীয় শক্তি হিসেবে ময়দানে রয়েছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে। এমন এক ত্রিমুখী এবং হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের কাছেও এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর রেজিনগর, শক্তিপুর এবং বেলডাঙা এলাকার সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছেন। গোটা এলাকা জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের রুটমার্চ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো রকম বহিরাগত দুষ্কৃতীদের প্রবেশ আটকাতে জেলার সমস্ত সীমানায় কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। প্রশাসন বদ্ধপরিকর যে রেজিনগরের মাটিতে কোনোভাবেই পুরনো আমলের বুথ জ্যাম বা ভোট লুটের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: ‘আমরা প্রচার করব না, ভোটের দিন যা হবে হবে!’ রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই পুলিশের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের 

সব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী বনাম হুমায়ুন কবীরের এই বাকযুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে। একদিকে হুমায়ুন কবীরের নীরব থেকে ব্যালট বাক্সে জবাব দেওয়ার রহস্যময় ব্লু-প্রিন্ট, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কড়া প্রশাসনের সাঁড়াশি চাপ—এই দুইয়ের সংঘাতে রেজিনগরের সাধারণ মানুষ কাকে বেছে নেবেন, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি কি হুমায়ুন শিবিরকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দিতে সক্ষম হবে? নাকি এই চাপানউতোরকে হাতিয়ার করে হুমায়ুন কবীর সাধারণ মানুষের সিমপ্যাথি বা সহানুভূতি আদায় করে নেবেন? আগামী ৬ অক্টোবর সারাদিন রেজিনগরের বুথে বুথে ঠিক কী চিত্র ধরা পড়ে এবং ভোটগ্রহণ পর্ব শেষে সন্ধ্যায় রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশ ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন গোটা বাংলার চোখ সেদিকেই নিবদ্ধ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই উপনির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কার একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

Ad

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img