Suvendu Adhikari: পুজোর আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! বাতিল ও অনুমোদিত আবেদন নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
KOLKATA: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক বিরাট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন। সম্প্রতি এক প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি এবং সুবিধাভোগীদের বর্তমান পরিসংখ্যান একেবারে স্বচ্ছভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, নির্দিষ্ট একটি জেলায় পঁচিশ থেকে ষাট বছর বয়সী মোট ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮১ জন মহিলা এই যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়ার পর এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জনের আবেদন অ্যাপ্রুভ বা অনুমোদিত হয়েছে। তবে নথিপত্রে গরমিল থাকার কারণে ১৭ হাজার ৪৫ জনের আবেদন বাতিল বা রিজেক্ট করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০ হাজার ৭১৪ জনের ভেরিফিকেশন এখনও পেন্ডিং রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের এই অভাবনীয় দ্রুততায় কাজ করার খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত জোর দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যাঁদের ভেরিফিকেশন ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আবেদন অ্যাপ্রুভ হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই পুজোর আগে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন। তিনি জানান যে, ইতিমধ্যেই ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সফলভাবে টাকা ক্রেডিট হয়ে গিয়েছে। পূর্বতন সরকারের প্রকল্পের সঙ্গে নিজেদের কাজের তুলনা টেনে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন যে, আগের সরকার মহিলাদের মাত্র পাঁচশো টাকা দিত এবং সেই টাকা পেতেই প্রায় নয় মাস সময় লেগে যেত। অন্যদিকে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পেরোনোর আগেই গোটা রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই বিরাট অঙ্কের টাকা সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে বয়স্কদের ভাতার পরিমাণও ধাপে ধাপে আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি মেগা আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর উপস্থিতিতে দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধন! থাকছে ড্রোন ও লেজার শো
শুধু নারীকল্যাণই নয়, রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রেও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বালিঘাট দুর্নীতি নিয়ে তিনি পূর্বতন সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানান যে, বর্তমান রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে রাজ্যের সমস্ত বালিঘাটগুলিকে সম্পূর্ণ আইনি পথে নিলাম করার নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, আগের জমানায় মাত্র পাঁচটি সরকারি বালিঘাট থাকলেও প্রায় পাঁচশোটি অবৈধ বালিঘাট রমরমিয়ে চলত এবং সেখান থেকে বেআইনিভাবে তোলা টাকা সরাসরি ক্যামাক স্ট্রিটের ঠিকানায় পৌঁছে যেত। এই বিশাল দুর্নীতির চক্রকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়ে রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি করা এবং সেই টাকা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই প্রশাসন এখন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বনির্ভর করতেও একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান যে, কাজের খোঁজে এরাজ্য থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এবার নিজ রাজ্যেই একশো পঁচিশ দিনের নিশ্চিত কাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকরা প্রায় ৩১৭ রকমের বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং কাজের বিনিময়ে তাঁরা সরাসরি ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা রোজগার করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে জল-জীবন মিশনের বিপুল টাকা লুঠ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, এবার সেই আটকে থাকা প্রকল্পেও সাধারণ মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি জব কার্ড হোল্ডার যাতে বছরে নিশ্চিতভাবে একশো পঁচিশ দিনের কাজ পান, তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ আবাস যোজনা এবং ভূমিহীনদের অধিকার নিয়েও এদিন অত্যন্ত বড়সড় প্রশাসনিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন যে, যাঁদের নিজেদের জমি নেই, তাঁদের অবিলম্বে সরকারি পাট্টা প্রদান করতে হবে, কারণ পাট্টা ছাড়া আবাস যোজনায় বাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। পূর্বতন সরকারের আমলে আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার সময় ব্যাপক দুর্নীতি এবং লুঠতরাজ হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেই দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই বর্তমান সরকার অত্যন্ত কড়া ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া চালিয়েছে এবং শুধুমাত্র যোগ্য উপভোক্তাদেরই বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় কিস্তির ষাট হাজার টাকা ইতিমধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, যাঁরা অতীতে আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের শুধু ধরাই হবে না, লুঠ হওয়া সমস্ত টাকা কড়ায়-গণ্ডায় ফেরতও নেওয়া হবে।




