Tripura Village Committee Election Result: অধিকাংশ আসনে জয়ী এনডিএ জোট, বিএসএফের গুলিতে মৃত ১ সমর্থক
Agartala: ত্রিপুরার অতি গুরুত্বপূর্ণ ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে কার্যত জয়জয়কার হলো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথার। রাজ্যের প্রধান শক্তিশালী দল হিসাবে উঠে এল মহারাজ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের এই দল। এই মেগা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ বিষয় হলো, ত্রিপুরা রাজ্যে একসময়ের অত্যন্ত দাপুটে এবং দীর্ঘদিনের শাসক দল সিপিএম এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই নির্বাচনে কার্যত ধুয়েমুছে সম্পূর্ণ সাফ হয়ে গিয়েছে। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার মোট ৫৮৭টি গ্রাম কমিটিতে এই অত্যন্ত হাইভোল্টেজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল উত্তেজনা ছিল। সাধারণ মানুষের বিপুল উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে এই নির্বাচনে প্রায় ৮১ শতাংশের মতো রেকর্ড ভোট পড়েছিল। রাজ্যের মোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে ২,৯৫০টি আসনে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বাকি ১,৬৪৪টি আসনে তিপ্রা মথা এবং বিজেপির প্রার্থীরা আগেই একেবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। এর পর সোমবার সকালে ত্রিস্তরীয় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট গণনা। সেই গণনার ট্রেন্ড সামনে আসতেই দেখা যায় যে, রাজ্যের প্রধান শক্তিশালী দল হিসাবে একেবারে উল্কার বেগে উঠে এসেছে মহারাজ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের দল তিপ্রা মথা। এই দলের বিপুল সাফল্যের কাছে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের একসময়ের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি সিপিএম এবং কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভিলেজ কমিটির ভোটে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এবং তিপ্রা মথা জোট বেঁধে লড়াই করেছিল, যার ফল তারা হাতেনাতে পেয়েছে। অধিকাংশ আসনেই অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে জয়লাভ করেছে এই শক্তিশালী এনডিএ জোট, যা বিরোধীদের কাছে ১টি বড়সড় ধাক্কা।

ভোট গণনার একেবারে শুরু থেকেই কার্যত রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই প্রবলভাবে এগিয়ে ছিলেন তিপ্রা মথার প্রার্থীরা। তাঁদের এই অভাবনীয় এবং একতরফা জয় রাজ্যের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে তাঁদের একচ্ছত্র আধিপত্যকেই আরও একবার প্রমাণ করল। এই বিপুল জয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য বিজয়ী প্রার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা মানিক সাহা। তবে এই ভোটের দিন এবং গণনার সময় এদিন রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় প্রবল রাজনৈতিক অশান্তি এবং হিংসা ছড়ানোর খবর পাওয়া গিয়েছে, যা রাজ্যের শান্ত পরিবেশকে কিছুটা হলেও বিঘ্নিত করেছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলাকালীন বিএসএফের গুলিতে ১ জন তিপ্রা মথা সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রবল চাঞ্চল্য এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও ত্রিপুরার ওয়ারেংবাড়ি এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে ১ জন হেভিওয়েট তিপ্রা মথা প্রার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এই সমস্ত রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রাণহানির ঘটনার পরই রাজ্যের সমস্ত স্পর্শকাতর এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে যাতে কোনো রকম রাজনৈতিক সংঘর্ষ না ঘটে, তার জন্য গোমতী জেলার কিছু অংশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) কড়াভাবে জারি করেছে প্রশাসন। বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা এই সমস্ত এলাকায় ক্রমাগত রুটমার্চ করছেন। সাধারণ মানুষকে অকারণে বাড়ি থেকে বের হতে বারণ করা হয়েছে এবং জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Arijit Singh India Tour: প্লেব্যাক থেকে অবসরের পর ৯ শহরের মেগা ট্যুর অরিজিৎ সিংয়ের! ব্রাত্য কলকাতাই।
ত্রিপুরার এই ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে ১টি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছেন তাবড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তিপ্রা মথার এই বিপুল উত্থান এবং বিজেপি-র সঙ্গে তাঁদের জোটবদ্ধ লড়াই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অস্তিত্বকে কার্যত বড়সড় সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। সিপিএম এবং কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগামী দিনে এই জোট সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ঠিক কী কী উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর থাকবে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের। আপাতত ত্রিপুরার অলিতে-গলিতে তিপ্রা মথার এই বিপুল জয়ের উৎসবই সবচেয়ে বেশি করে চোখে পড়ছে।
![]()



