West Bengal Bypoll Violence: সরকার বদলালেও বদলায়নি ভোটের চিত্র! নন্দীগ্রাম ও রিজিনগরে দিকে দিকে অশান্তি

Published:

West Bengal Bypoll Violence: বুথ জ্যাম, এজেন্ট তাড়ানো থেকে প্রার্থীর ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, উপনির্বাচনে প্রকাশ্যে পুরনো মেজাজ

Kolkata: রাজ্যে সরকার বদলেছে, ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু ভোটগ্রহণের দিনের সেই চেনা অশান্তি, রক্তপাত এবং আতঙ্কের পরিবেশ বিন্দুমাত্র বদলায়নি। আজ রাজ্যের ২ অত্যন্ত হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রিজিনগরে সকাল থেকে শুরু হওয়া জোড়া উপনির্বাচন যেন সেই পুরনো রাজনৈতিক সন্ত্রাসের স্মৃতিকেই আবার নতুন করে উসকে দিচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ঠিক যে যে মারাত্মক অভিযোগগুলো তুলে সরব হতো, আজ বর্তমান সরকারের আমলেও ঠিক সেই একই অভিযোগগুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে আসছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেগা ভোটগ্রহণ পর্বে দিকে দিকে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোটদানে বাধা দেওয়া এবং বুথ থেকে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসছে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার আজও যেন এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমাদের দেওয়া লাইভ লিঙ্কে ক্লিক করে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তের টাটকা খবরের আপডেট আপনারা সরাসরি জেনে নিতে পারবেন।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে আজ গোটা রাজ্যের নজর স্থির রয়েছে। কিন্তু সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে ব্যাপক অশান্তি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের খবর আসতে শুরু করেছে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটের ব্রেকিং আপডেট অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের দলের কোনো পোলিং এজেন্টকেই বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। শাসক দলের মদতপুষ্ট বাইক বাহিনী গত রাত থেকেই এলাকায় দাপাদাপি করছে এবং বিরোধী কর্মীদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও চরমে পৌঁছায় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে, যখন চণ্ডীবেড়িয়া সহ একাধিক এলাকায় বহিরাগতদের হামলা এবং ভোটদানে বাধার অভিযোগ সামনে আসে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে পুলিশ উল্টে অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে খোদ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের ওপরই নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতিকে পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করেছে।

West Bengal Name Change: রাজ্যের নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ রাখার দাবিতে বিধানসভায় নতুন বিল আনার কথা ঘোষণা করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য
West Bengal Name Change: রাজ্যের নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ রাখার দাবিতে বিধানসভায় নতুন বিল আনার কথা ঘোষণা করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য

আরও পড়ুনঃ West Bengal Name Change: ‘বাংলা’ নয়, রাজ্যের নাম হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’! আগামী অধিবেশনেই বিধানসভায় বিল আনছে বিজেপি।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে ভোটদান চলাকালীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বা আজুপ-এর সুপ্রিমো তথা দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ প্রশাসন আচমকাই আটকে করে এবং পরবর্তীতে সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে তাঁর গ্রেফতারির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিজিনগরের রাজনৈতিক পারদ একেবারে তুঙ্গে পৌঁছেছে। এছাড়াও সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর লাইভ আপডেট অনুযায়ী, রিজিনগরের একাধিক বুথে ভোটারদের আঙুলে কালি লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের নিজেদের পছন্দমতো ভোটটুকু আর দিতে দেওয়া হচ্ছে না। শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা এই মারাত্মক অভিযোগ প্রমাণ করে যে, ভোট লুঠের সেই পুরনো এবং ঘৃণ্য কৌশল আজও অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে এসেও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে না পেরে চরম হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

Advertisement

এই জোড়া উপনির্বাচনে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বড় এবং গুরুতর প্রশ্নগুলো উঠতে শুরু করেছে। একদিকে যখন শাসক দলের বাইক বাহিনী এবং বহিরাগত দুষ্কৃতীরা বুথের বাইরে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। অথচ অন্যদিকে সেই একই পুলিশ আবার ওভার-অ্যাকশন দেখিয়ে খোদ বিরোধী প্রার্থীকে নির্দয়ভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বেছে বেছে গ্রেফতার করছে। সাধারণ মানুষের মনে আজ এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে যে, সরকার বদল হওয়ার পর যদি পুলিশের এই দলদাস চরিত্র এবং একপেশে আচরণ বিন্দুমাত্র না বদলায়, তবে প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের আসল অর্থ কী দাঁড়াল? বিগত সরকারের আমলে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং অতিসক্রিয়তার যে দ্বৈত চরিত্র দেখা যেত, আজকের উপনির্বাচনেও ঠিক সেই একই চেনা চিত্র ফুটে উঠেছে, যা রাজ্যের সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মোটেও কোনো শুভ সংকেত নয়।

Sealdah Station Upgrade: শিয়ালদহ স্টেশনের মেগা ভোলবদল, তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র এবং যাত্রীদের জন্য স্লিপিং পড
Sealdah Station Upgrade: শিয়ালদহ স্টেশনের মেগা ভোলবদল, তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র এবং যাত্রীদের জন্য স্লিপিং পড

আরও পড়ুনঃ Sealdah Station Upgrade: শিয়ালদহ স্টেশনে তাকলাগানো চমক! তৈরি হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্স, গেমিং জোন ও স্লিপিং পড।

এত অশান্তি, ত্রাস এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সাধারণ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে সাহসের ভর করে বুথমুখী হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রথম পর্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম কয়েক ঘণ্টায় রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ১৮.০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ২০.৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভোটদানের হার কতটা বাড়ে এবং নতুন করে আর কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। সাধারণ ভোটারদের মনে এখনও ১টি চাপা আতঙ্ক কাজ করছে, যা তাঁদের ভোটদানে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ এবং হাইভোল্টেজ জোড়া উপনির্বাচনের প্রতিটি মুহূর্তের টাটকা খবর, ব্রেকিং আপডেট এবং বুথের ভেতরের আসল চিত্র বিস্তারিতভাবে জানতে আমাদের দেওয়া লাইভ লিঙ্কে ক্লিক করে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। আগামী ৯ই অক্টোবর মেগা গণনার দিন এই বেলাগাম সন্ত্রাসের জবাব ব্যালট বক্সে ঠিক কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তার জন্য গোটা রাজ্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

Advertisement

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img