West Bengal DA Arrears: বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা নবান্নের! এককালীন টাকা দিতে জারি বিজ্ঞপ্তি, জানুন কবে কত টাকা ঢুকবে
KOLKATA: West Bengal DA Arrears বা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অত্যন্ত বড় এবং মেগা সুখবর নিয়ে এল নবান্ন। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিলতা, আইনি লড়াই এবং ক্ষোভের অবসানে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের বর্তমান সরকার। দুর্গাপুজো এবং উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে, রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর থেকে বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই মেগা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিগত আট বছরের আটকে থাকা বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সম্পূর্ণ টাকা এককালীন বা একটি কিস্তিতেই মিটিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক বিপুল আনন্দের ঢেউ বয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের ন্যায্য পাওনা হাতে পাওয়ার এই খবরে রাজ্য সরকারের অন্দরমহল থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে এক প্রবল ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা সরকারি কর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে এক বিরাট মেগা জয় হিসেবে দেখছেন।

অর্থ দপ্তরের জারি করা এই মেগা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার টাকা এক ধাক্কায় মিটিয়ে দেওয়ার মেগা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নবান্ন। গত বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সর্বভারতীয় ক্রেতা মূল্য সূচক বা এআইসিপিআই (AICPI) মেনে সরকারি কর্মীদের এই ডিএ পাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তা প্রশাসনিক টানাপোড়েনে এবং নানা টালবাহানায় আটকে ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করে এক কিস্তিতেই সম্পূর্ণ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও এক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি কোষাগারে আর্থিক চাপ থাকলেও কর্মচারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সদিচ্ছারই এক অকাট্য প্রমাণ দিচ্ছে। এই বকেয়া মেটানোর ফলে সরকারের ওপর কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত মেগা আর্থিক দায়ভার এসে পড়বে।
বকেয়া ডিএ-র এই বিপুল পরিমাণ টাকা কবে এবং কীভাবে কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, সে বিষয়েও অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের গ্রুপ ‘এ’ (Group A), গ্রুপ ‘বি’ (Group B) এবং গ্রুপ ‘সি’ (Group C) পদমর্যাদার কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (GPF) বা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যে সমস্ত কর্মচারী গ্রুপ ‘ডি’ (Group D) পদে কর্মরত রয়েছেন এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে পেনশনভোগী হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া ডিএ-র টাকা কোনো ফান্ডে নয়, বরং সরাসরি তাঁদের সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ট্রান্সফার করা হবে। তবে এই টাকা প্রদানের আগে প্রতিটি দপ্তরের ডিডিও (DDO) বা হেড অফ অফিসকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রাপ্য টাকার নিখুঁত হিসাব যাচাই করে দেখতে হবে। আয়ের ওপর প্রযোজ্য আয়কর (Income Tax) কাটার পরই চূড়ান্ত বকেয়া অর্থের বিল ট্রেজারিতে পাঠানো হবে বলে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই হিসাবের গড়মিল বা মেগা আর্থিক ত্রুটি না ঘটে।

জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া এই বকেয়া ডিএ-র টাকা তোলার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট মেগা শর্ত বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের জিপিএফ-এ জমা হওয়া এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অর্থ আগামী ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত কোনোভাবেই তোলা বা উইথড্র করা যাবে না। অর্থাৎ, আগামী প্রায় দেড় বছর এই টাকা ফান্ডের মধ্যেই গচ্ছিত থাকবে এবং তার ওপর নিয়ম অনুযায়ী চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পাওয়া যাবে। তবে এই কড়া বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ মানবিক ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। যদি ২০২৮ সালের ৩১ মার্চের আগেই কোনো কর্মরত কর্মচারীর অবসর গ্রহণের বয়স হয়ে যায় (Superannuation), অথবা তিনি চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন (Resignation), কিংবা দুর্ভাগ্যবশত তাঁর মৃত্যু (Death) ঘটে, তবে সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই লক-ইন পিরিয়ডের নিয়ম আর কার্যকর হবে না। তখন সেই কর্মচারী বা তাঁর পরিবার সাধারণ নিয়ম মেনেই ফান্ডের সমস্ত বকেয়া টাকা তুলে নিতে পারবেন, যার ফলে আপৎকালীন সময়ে চরম মেগা স্বস্তি মিলবে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর এই মেগা প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করার জন্য নবান্নের তরফ থেকে প্রশাসনিক স্তরে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বা এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, যাতে বিল পাস করার ক্ষেত্রে কোনো অহেতুক বিলম্ব না হয়। এমনকী, অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করেই ট্রেজারিগুলি যাতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বিল প্রক্রিয়াকরণ শুরু করতে পারে, সেই যুগান্তকারী নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে মন থেকে স্বাগত জানিয়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর মতো সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলিও। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই এককালীন ডিএ প্রদানের উপহার বাংলার সরকারি কর্মচারীদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই এক বিরাট মেগা স্বস্তি। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এইচআরএমএস পোর্টালের মাধ্যমে সমস্ত জটিল হিসাব চূড়ান্ত করে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে এই বহুল প্রতীক্ষিত বকেয়া পাওনার টাকা ঢুকে যায়।




