West Bengal Govt Jobs: ৭৮ জন পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে সেকশন অফিসার ও গ্রুপ-ডি পদে সরাসরি নিয়োগের নির্দেশিকা জারি
Kolkata: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যের একদল বিশেষ মানুষের জন্য এক বিরাট এবং যুগান্তকারী সুখবর নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কোনো রকম লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে বেশ কিছু যোগ্য প্রার্থীকে। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন থেকে এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে যখন সরকারি চাকরির আকাল এবং দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে নানা মহলে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের এই দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা নিঃসন্দেহে এক বড়সড় ইতিবাচক পদক্ষেপ। সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে যে, কারা এমন সৌভাগ্যবান যাঁরা বিনা পরীক্ষাতেই সরাসরি এমন লোভনীয় সরকারি চাকরির সুযোগ পেতে চলেছেন। আসলে, রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্যই এই বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে সরকার।
![]()
রাজ্য সরকারের জারি করা ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে যে, রাজ্যের মোট ৭৮ জন পদকজয়ী প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে সরাসরি এই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া দপ্তরের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতেই এই ৭৮ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে সরকারি চাকরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সরাসরি নিয়োগ করা হবে। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘদিনের মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং কৃতিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের জন্য কোনো রকম গতানুগতিক লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হবে না। গত ৭ই অক্টোবর এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের কমন ক্যাডার উইং। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে যে, পদকজয়ী এই ৭৮ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে সরাসরি সেকশন অফিসার (Section Officer), আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (Upper Division Assistant), লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (Lower Division Assistant) এবং গ্রুপ-ডি (Group-D) পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে।

তবে এই সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ধাপ এবং নিয়মকানুন কঠোরভাবে পালন করতে হবে। নিয়োগপত্র হাতে তুলে দেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ওই ৭৮ জন প্রার্থীর সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্টস অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন বা নথি যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নিজস্ব এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ ‘ভেরিফিকেশন রোল ফর্ম’ (Verification Roll Form) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ওই পদকজয়ী প্রার্থীদের অবিলম্বে সরকারের ওই ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট ফর্মটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেই ফর্মটি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে হবে। ফর্ম পূরণ করার পর প্রার্থীদের তাঁদের নিজেদের শিক্ষাগত এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় নথির সেলফ-অ্যাটেস্টেড প্রতিলিপি বা ফটোকপি সহ ওই ফর্মের মোট ২টি করে সেট তৈরি করে নির্দিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে।
পূরণ করা ওই ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র কীভাবে জমা দিতে হবে, তারও একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট রূপরেখা ওই সরকারি নির্দেশিকায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, সরকারি ছুটির দিনগুলি ছাড়া অন্য যেকোনো কাজের দিন প্রার্থীরা সরাসরি নবান্নে গিয়ে নিজেদের ফর্ম জমা দিতে পারবেন। নবান্নের ৭ নম্বর তলার ৭০৩ নম্বর ঘরে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু করে দুপুর ৩টে পর্যন্ত এই ফর্ম এবং নথিপত্র জমা নেওয়ার কাজ চলবে। তবে যে সমস্ত প্রার্থীরা দূরবর্তী জেলাগুলিতে থাকেন এবং যাঁদের পক্ষে সশরীরে নবান্নে এসে ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ডাকযোগে বা স্পিড পোস্টের মাধ্যমেও ফর্ম পাঠানোর বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা জারির পর থেকে ঠিক ১৫টি কর্মদিবস বা ওয়ার্কিং ডে-র মধ্যে এই সমস্ত নথি নবান্নে জমা করতে হবে।

সবশেষে, এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের ঠিক কী কী ধরনের নথিপত্র জমা দিতে হবে, তারও একটি তালিকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদক জয়ের দাবির সমর্থনে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার দেওয়া আসল শংসাপত্রের বা সার্টিফিকেটের ফটোকপি অবশ্যই জমা দিতে হবে। এছাড়া, যে সমস্ত প্রার্থীরা সংরক্ষিত অর্থাৎ এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC) তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তাঁদের নিজস্ব কাস্ট সার্টিফিকেটের কপিও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। শারীরিক প্রতিবন্ধী বা ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপড শ্রেণির প্রার্থীদেরও উপযুক্ত মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রের কপি জমা দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তালিকায় থাকা ওই ৭৮ জনের মধ্যে যদি কোনো প্রার্থী ইতিমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত থাকেন, তবে তাঁকে অবিলম্বে তাঁর বর্তমান কর্মরত দপ্তর এবং নিয়োগকর্তাকে বা এমপ্লয়ারকে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্রীড়ামহল।




