Bidyadhari Boat Accident: মাঝনদীতে আচমকা উল্টে গেল বাইচের নৌকা! বিদ্যাধরীতে হাবুডুবু ২০ প্রতিযোগী, অল্পের জন্য রক্ষা

Published:

Bidyadhari Boat Accident: মাঝনদীতে আচমকা উল্টে গেল বাইচের নৌকা! বিদ্যাধরীতে হাবুডুবু ২০ প্রতিযোগী, অল্পের জন্য রক্ষা

SANDESHKHALI: Bidyadhari Boat Accident বা সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কানমারি এলাকায় বিদ্যাধরী নদীতে আয়োজিত একটি ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার এক ভয়াবহ এবং লোমহর্ষক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাংলার সংস্কৃতি এবং উৎসবের মরশুমে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে নৌকা বাইচ শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি এক অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আবেগপূর্ণ বার্ষিক ইভেন্ট। এই রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা চাক্ষুষ করার জন্য প্রতি বছরই দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। কিন্তু এদিন সেই আনন্দঘন এবং উচ্ছ্বাসমুখর মুহূর্তই আচমকা এক চরম বিপর্যয়ের রূপ নেয়। নদীর জলের প্রবল তোড় এবং হঠাৎ করে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে মাঝনদীতে সম্পূর্ণভাবে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় প্রতিযোগীদের একটি বিশালাকার নৌকা। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ২০ জন প্রতিযোগী বিদ্যাধরীর গভীর জলে ছিটকে পড়ে বাঁচার জন্য আপ্রাণ হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। চোখের সামনে এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার দর্শনার্থীর মধ্যে চরম আতঙ্ক, চিৎকার এবং শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত বরাতজোরে এবং স্থানীয় মানুষদের অবিশ্বাস্য তৎপরতায় এক বড়সড় মর্মান্তিক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এদিন কানমারি এলাকার বিদ্যাধরী নদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই বিশেষ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। নদীর দুই তীরে উৎসবের মেজাজে উপস্থিত ছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা। প্রতিযোগিতা চলাকালীন প্রথমদিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং অনুকূল থাকলেও, আচমকাই চারপাশের আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ হতে শুরু করে। আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি নদীর বুকে তীব্র এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ফলে বিদ্যাধরী নদীতে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় বড় বড় এবং বিপজ্জনক ঢেউ। প্রতিযোগীরা নিজেদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে নৌকাটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররোষ এবং নদীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সামনে তাঁরা নিজেদের বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারেননি। একটি বিশালাকার ঢেউ সজোরে এসে আছড়ে পড়ে প্রতিযোগীদের নৌকার ওপর। সেই প্রচণ্ড ধাক্কায় দীর্ঘাকার নৌকাটি সম্পূর্ণভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের নিমেষে মাঝনদীতে উল্টে যায়।

আরও পড়ুন: Mahua Moitra: ‘ক্রিমিনাল’ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দিল্লির থানায় অভিযোগ মহুয়ার! এ ভাবে এফআইআর হয় না, জানাল পুলিশ 

নৌকাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে থাকা প্রায় ২০ জন প্রতিযোগী বিদ্যাধরী নদীর উত্তাল এবং গভীর জলে পড়ে যান। আচমকা ঘটে যাওয়া এই চরম বিপর্যয়ে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং খরস্রোতা নদীতে প্রাণ বাঁচাতে মাঝনদীতেই হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই খুব ভালো সাঁতার জানলেও, হঠাৎ ধেয়ে আসা বিশাল ঢেউয়ের দাপটে এবং তীব্র স্রোতের বিপরীতে নিজেদের ভাসিয়ে রাখা তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন এক লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিযোগীদের এই অসহায় এবং মৃত্যুমুখী অবস্থা দেখে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ দর্শক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আর এক মুহূর্তও কালবিলম্ব করেননি। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও তাঁরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত প্রতিযোগীদের উদ্ধার করার জন্য নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্থানীয়দের এই অসামান্য তৎপরতা, নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং উপস্থিত বুদ্ধির জেরেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে অনেক প্রতিযোগীকে নিরাপদে পাড়ে তুলে আনা সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষের এই মানবিকতা আক্ষরিক অর্থেই সেদিন একাধিক মূল্যবান প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছে।

Ad

মাঝনদীতে ঘটা এই দুর্ঘটনার খবর স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনের কানে পৌঁছাতে খুব একটা বেশি সময় লাগেনি। খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের তরফ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় একটি আধুনিক উদ্ধারকারী লঞ্চ নিয়ে আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এবং জোরকদমে বাকি প্রতিযোগীদের জল থেকে তোলার কাজ শুরু করেন। একদিকে স্থানীয় মানুষদের মরিয়া প্রচেষ্টা এবং অন্যদিকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের লঞ্চ নিয়ে চিরুনি তল্লাশি—এই যৌথ ও দ্রুত তৎপরতার ফলেই বিদ্যাধরীর বুকে এক ভয়াবহ প্রাণহানির হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই ভয়াবহ নৌকা দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ উদ্ধারকাজ শেষে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগীর নিখোঁজ হওয়া বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা উপস্থিত সকলের কাছেই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ক্লান্ত এবং আতঙ্কিত প্রতিযোগীদের পাড়ে আনার পর দ্রুত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয় এবং বর্তমানে তাঁরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: ‘ভোট চুরি হয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে’, ৭ চক্রান্তকারীর তালিকা প্রকাশ করে মোদী-জ্ঞানেশকে তোপ রাহুলের 

তবে এই গোটা ঘটনার পর উদ্ধারকাজ সফল হলেও বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যা সরাসরি প্রশাসন এবং আয়োজক কমিটির ভূমিকার দিকেই আঙুল তুলছে। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়া দপ্তর আগে থেকেই বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল এবং আকাশ অত্যন্ত মেঘলা ছিল। এমন একটি খারাপ আবহাওয়া এবং সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা জানা থাকা সত্ত্বেও, কেন এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীদের মনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের কি নদীপথে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো আগাম কোনো প্রস্তুতি ছিল না, নাকি শুধুমাত্র সাময়িক বিনোদনের স্বার্থে এতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলো—সেই প্রশ্ন এখন কানমারির সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বা আয়োজকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো বিবৃতি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। উৎসবের আবহে ঘটা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে বড় কোনো বিনোদন হতে পারে না।

Advertisement Andaman Vibes

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img