Taslima Nasrin: বাংলাদেশে হিন্দু ব্যবসায়ীর প্রাণহানির পর ‘জেহাদিস্তান’ বলে চরম কটাক্ষ তসলিমা নাসরিনের
DHAKA: Taslima Nasrin বা নির্বাসিত প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন ওপার বাংলার সংখ্যালঘুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ফের একবার চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করে সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। বাংলাদেশে ফের এক হিন্দু ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশে একের পর এক সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া অবিচার এবং তাঁদের প্রাণহানির ঘটনা গোটা বিশ্বকে চিন্তায় ফেলেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ম*রদেহ ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর এই ঘটনার রেশ ধরেই তসলিমা নাসরিন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি কড়া পোস্ট করে বাংলাদেশকে সরাসরি ‘জেহাদিস্তান’ বলে চরম কটাক্ষ করেছেন। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর পোস্টের পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নতুন করে মেগা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছে ওপার বাংলায়? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এই মর্মান্তিক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি জলাশয়ে ভাসতে থাকা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি ম*রদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ কেউই ওই নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে, ওই নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র। তাঁর বয়স আনুমানিক পঞ্চাশ বছর। জানা গিয়েছে, নিহত নিরঞ্জন চন্দ্রের আদি বাড়ি বাংলাদেশের ত্রিশাল উপজেলায়। পেশায় তিনি ছিলেন একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ওই এলাকায় যৌথ মালিকানায় একটি জুয়েলারি বা গয়নার দোকান চালাতেন। একজন সাধারণ ও পরিচিত ব্যবসায়ীর এমন মর্মান্তিক পরিণতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে আসল কারণ কী এবং কারা এই ব্যবসায়ীর প্রাণহানির জন্য সরাসরি দায়ী, সেই বিষয়ে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বৃহস্পতিবার রাত দশটা পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় লিখিতভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে ওই নিহত ব্যক্তির পরিচয় উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। পুলিশ জানিয়েছে, জল থেকে উদ্ধার হওয়া ওই ড্রামের ভেতরে থাকা ম*রদেহটির প্যান্টের পকেট থেকে একটি বিশেষ টোকেন পাওয়া যায়। ওই টোকেনটি ছিল ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের। সেই টোকেনের মাধ্যমে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পুলিশের তরফ থেকে দ্রুত যোগাযোগ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিহতের আসল পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী সুমিতা রানি এবং ছেলে জয় মর্গে গিয়ে ম*রদেহটি শনাক্ত করেন। নিহতের স্ত্রী সুমিতা জানিয়েছেন যে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিরঞ্জন নিখোঁজ ছিলেন এবং ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে শেষবারের মতো স্টেডিয়াম এলাকায় দেখা গিয়েছিল।

পুলিশ এই প্রাণহানির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানালেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বরাবরই তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার এবং মৌলবাদীদের আস্ফালন নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সরব হয়েছেন। এবারও তিনি নিজের ফেসবুক পাতায় এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন যে, তিনি জানতে পেরেছেন নিহত ওই ব্যক্তি ত্রিশালের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এরপরই তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সব হিন্দুকে কি এভাবেই মেরে ফেলা হবে? সব হিন্দুর জমি কি জোর করে দখল করে নেওয়া হবে? তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা পয়সা লুট করে নেওয়া হবে এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে? তসলিমা অত্যন্ত বিস্ফোরক ভাষায় লেখেন, “আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্তানে। কোনও সুস্থ ও সভ্য মানুষ তো ওই হিংস্র, বর্বর ও অসভ্য মুসলমানের দেশে বাস করতে পারবে না। সম্ভব নয়।” তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশছাড়া হওয়ার পর থেকেই সেদেশে সংখ্যালঘু অধিকার কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর মহম্মদ ইউনুসের আমলেও কট্টরপন্থী জামাতের দাপটে পদ্মাপাড়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর একের পর এক প্রবল উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপক অত্যাচার চলেছে। সেখানে বারবার প্রাণহানি এবং নি*র্যাতন-এর মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকী হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসাকেন্দ্র এবং সনাতনি মন্দিরগুলিতেও চরম পরিস্থিতি তৈরি করেছে মৌলবাদীরা। এই লাগামহীন অরাজকতার বিষয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিও একাধিকবার মুখ খুলেছে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেদেশে ভোটে জিতে বিএনপি নতুন সরকার গঠন করলেও, বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার যে আজও এক চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা নিরঞ্জন চন্দ্রের মতো সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার মধ্যে দিয়ে আরও একবার জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গেল।




