Srijit Mukherji: সৃজিতের হাত ধরে পর্দায় ‘শাকচুন্নি’! ১টি বিরাট চমক দিলেন পরিচালক
Srijit Mukherji: টলিউডের প্রথম সারির পরিচালকদের কথা উঠলেই একেবারে ওপরের দিকেই থাকে তাঁর নাম। আর এবার পুজোর বক্স অফিসে ঝড় তুলতে তিনি নিয়ে আসছেন তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ইতিমধ্যেই এই ছবির প্রচারঝলক বা ট্রেলার দর্শকদের মধ্যে বিপুল প্রশংসা অর্জন করেছে এবং প্রত্যাশার পারদ অনেকটাই চড়িয়েছে। আর ঠিক এই পুজোর পর্দায় ঝড় তোলার প্রাক্কালেই বাঙালি দর্শকদের জন্য আরও একটি বিরাট এবং চমকপ্রদ খবর নিয়ে এলেন প্রখ্যাত এই পরিচালক। জনপ্রিয় লেখক অর্ণব রায়ের লেখা রোমহর্ষক ও নিখাদ বাঙালিয়ানার গল্প ‘শাকচুন্নি’-কে এবার রূপোলি পর্দায় নিয়ে আসতে চলেছেন Srijit Mukherji। মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি তিনি এই গল্পের স্বত্ব বা কপিরাইট কিনে নিয়েছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই টলিপাড়ায় এবং সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, কারণ তাঁর হাত ধরে সাহিত্যের পাতা থেকে পর্দায় কোনো গল্প ফুটে ওঠা মানেই সেখানে নতুন কিছু দেখার সুযোগ থাকে।

বইয়ের পাতা থেকে উপন্যাস কিংবা কোনো বিখ্যাত গল্পকে সিনেমা বা সিরিজের আকারে সাধারণ দর্শকের পাতে তুলে ধরতে তাঁর জুড়ি মেলা সত্যিই ভার। অতীতের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, ‘চৌরঙ্গী’, ‘কাকাবাবু’, কিংবা ‘ব্যোমকেশ’-এর মতো বিখ্যাত সব সাহিত্যকর্মকে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে পর্দায় রূপান্তর করেছেন। আর সেই কারণেই এই পরিচালক যখন নতুন কোনো গল্পের স্বত্ব কেনেন, সেটা পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে আপামর বাঙালি দর্শক। ‘শাকচুন্নি’-র ক্ষেত্রেও যে সেই উন্মাদনার কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এই প্রজেক্ট প্রসঙ্গে Srijit Mukherji নিজেই বেশ কিছু অজানা কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বহুদিন ধরেই লেখক অর্ণব রায়ের লেখা নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে ছিল তাঁর। এমনকি প্রথমদিকে তাঁদের দুজনের ‘মহাভারত মার্ডার্স’ নিয়েই একসঙ্গে কাজ করার কথা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণবশত এবং পারিপার্শ্বিক কিছু অসুবিধার জন্য সেই প্রজেক্টটি আর বাস্তবায়িত হয়ে ওঠেনি। এরপর ‘যাত্রিক’ নামক একটি গল্প অবলম্বনেও কাজ করার খুব ইচ্ছে ছিল তাঁর, কিন্তু সেই পরিকল্পনাও স্থগিত থাকে। তবে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছেটা কখনোই হারিয়ে যায়নি।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালে সাহিত্যিক অর্ণব রায়ের একটি নতুন গল্প প্রকাশিত হয়, যার নাম ছিল ‘শাকচুন্নী’। এই গল্পটি বাজারে আসার পর পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। Srijit Mukherji জানিয়েছেন যে, এই গল্পটি পড়ার পর তিনি আক্ষরিক অর্থেই মুগ্ধ হয়ে যান। গল্পের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বাঙালিয়ানা, রহস্য এবং রোমাঞ্চ তাঁকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করেছিল। আর সেই ২০২৪ সাল থেকেই তিনি এই গল্পটিকে পর্দায় তুলে আনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গত দুই বছর ধরে তিনি বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা এবং নামিদামি ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে এই গল্পটি নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এই গল্পের প্লট শুনে যথেষ্ট উৎসাহও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বেশ কিছু আইনি এবং স্বত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজটি তখন শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও তিনি এই গল্পের আশা ছেড়ে দেননি, বরং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করে গিয়েছেন।
অবশেষে ২০২৬ সালে এসে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। মঙ্গলবার বিকেলে এই নতুন কাজের সুখবর দেওয়ার পর Srijit Mukherji সম্পূর্ণ কপিরাইট বা স্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়টিও খোলসা করেছেন। তিনি জানান যে, ২০২৬ সালে ‘শাকচুন্নি’-র কপিরাইটের একটা বড়সড় বিষয় আটকে ছিল। এই জনপ্রিয় গল্পটির স্বত্ব অন্য একটি প্রযোজনা সংস্থাকে দেওয়া ছিল, যার ফলে তিনি নিজে এটি নিয়ে কাজ এগোতে পারছিলেন না। অবশেষে সম্প্রতি সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পরিচালকের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাচকাট’ (Matchcut) ‘শাকচুন্নী’-র সম্পূর্ণ স্বত্ব কিনে নিয়েছে। এই স্বত্ব কেনার ফলে এখন আর এটি নিয়ে কাজ করতে কোনো বাধা রইল না। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তাঁরা এই দুর্দান্ত গল্পটিকে হয় বড়পর্দায়, না হয় কোনো ওয়েব সিরিজের আকারে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছেন।

এই দুর্দান্ত খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত স্বয়ং লেখক অর্ণব রায়ও। নিজের লেখা গল্প প্রিয় পরিচালকের হাত ধরে পর্দায় আসতে চলেছে, এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, বহুদিন ধরেই তাঁর Srijit Mukherji-র সঙ্গে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে ছিল, যা অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। লেখক আরও জানান যে, তাঁর লেখা ‘শাকচুন্নি’ আদ্যোপান্ত নিখাদ বাঙালিয়ানার একটি গল্প, যেখানে বাংলার মাটির গন্ধ এবং লোককথার এক অপূর্ব মিশ্রণ রয়েছে। আর তাঁর মতে, এই ধরনের জটিল এবং বাঙালিয়ানায় ভরপুর গল্পকে ভালোভাবে ক্যামেরায় এবং পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য এই পরিচালকই হলেন একেবারে উপযুক্ত ব্যক্তি। পুজোর বক্স অফিসে ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ কতটা সফল হয়, সেটা তো সময়ই বলবে, তবে ‘শাকচুন্নি’-র মতো একটি থ্রিলারধর্মী লোককথার বিষয়বস্তু যে আগামী দিনে দর্শকদের নিরাশ করবে না, তা এখনই বলে দেওয়া যায়। দর্শকরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কবে এই প্রজেক্টটি তার আসল রূপ নিয়ে পর্দায় হাজির হবে।



