Reliance Investment in Bengal: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রিলায়েন্স কর্তাদের বৈঠক! বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা
Reliance Investment in Bengal: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে গিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে এসেছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঝটিকা সফরের সময়েই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছিল যে, বাংলায় আম্বানি গোষ্ঠীর বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেই জল্পনা এবং প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ দিতে এবার সরাসরি নবান্নে হাজির হলেন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর শীর্ষ আধিকারিকরা। বুধবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আম্বানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি দলের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে প্রশাসনিক ও শিল্প মহলে দারুণ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের যুবসমাজের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি এবং পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণই এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: INDIA Alliance Meeting: ইভিএম নয় ব্যালট চাই! দিল্লিতে বড় আন্দোলনের ডাক ‘ইন্ডিয়া’ জোটের
বুধবার নবান্নে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তা তরুণ ঝুনঝুনওয়ালার নেতৃত্বে দশ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও তাঁদের দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকটির গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা স্পষ্ট হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের উপস্থিতিতে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত মিশ্র, পূর্ত দপ্তরের সচিব অন্তরা আচার্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা, বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব শান্তনু বসু, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের সচিব সুভাঞ্জন দাস, পরিবহণ দপ্তরের সচিব রবি ইন্দর সিং এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন। বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের একই টেবিলে বসিয়ে এই যৌথ আলোচনা নিশ্চিত করেছে যে, শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র প্রদানে সরকার কোনো বিলম্ব করতে চায় না।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রিলায়েন্স গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা, বিনোদন ও চলচ্চিত্র শিল্প, আধুনিক নগর পরিকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। বিশেষ করে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাংলায় এক নতুন বিপ্লব আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি টলিউড তথা চলচ্চিত্র শিল্পকে আধুনিক পরিকাঠামো প্রদান এবং নতুন স্টুডিও নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এই সমস্ত বিনিয়োগ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটাই বিষয়—আর তা হলো রাজ্যের স্থানীয় ছেলেমেয়েদের জন্য বিপুল সংখ্যক সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

এর আগে বুধবার দিনের শুরুতে ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি প্রকাশ্য মঞ্চে ঘোষণা করেছিলেন যে, রিলায়েন্সের একটি বিরাট প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসছে এবং তাঁদের সঙ্গে রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদী কণ্ঠে মন্তব্য করেন যে, রিলায়েন্স গোষ্ঠী বাংলায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করবে এবং এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রুখে নিজের রাজ্যেই যাতে যোগ্য যুবকরা রুটিরুজির সংস্থান করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে তিনি বার্তা দেন।

যদিও এই মেগা প্রকল্পের অধীনে ঠিক কত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে কিংবা কোথায় কোথায় এই প্রকল্পগুলি গড়ে উঠবে, সেই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের এই আলোচনার পর খুব শীঘ্রই প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি ও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কর্পোরেট সংস্থার এমন সক্রিয় পদক্ষেপে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বাংলার সাধারণ মানুষ। সঠিক সময়ে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে এবং শিল্পবান্ধব পরিকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বাংলা আগামী দিনে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।




