Shamik Bhattacharya on Anubrata Mondal: অনুব্রতর অফিসে হামলা একটি দুর্বল চিত্রনাট্য! বারাসতের সভা থেকে কড়া আক্রমণ শমীকের

Published:

Shamik Bhattacharya on Anubrata Mondal: অনুব্রতর অফিসে হামলা একটি দুর্বল চিত্রনাট্য! বারাসতের সভা থেকে কড়া আক্রমণ শমীকের

Shamik Bhattacharya on Anubrata Mondal: বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে এবং বাড়িতে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে যাওয়া হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। গত বুধবার তাঁর কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের হামলা চালানোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তিন যুবককে আটকও করেছিল। কিন্তু সিউড়ির ওই তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় আটক হওয়া ওই তিন যুবককে রাত পেরোতেই পুলিশ অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে ছেড়ে দেয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির হাতে শাসকদলের বিরুদ্ধে সমালোচনার নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতে আয়োজিত একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই পুরো ঘটনাটিকে সামনে রেখে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বামফ্রন্টকে একযোগে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার বর্তমান সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

Advertisement S Bhattacharya

বারাসতের এই বিশেষ রাজনৈতিক সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন। বীরভূমের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গটি টেনে এনে তিনি অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন যে, এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি আসলে একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক এবং একটি অত্যন্ত দুর্বল রাজনৈতিক চিত্রনাট্যের অংশ। তিনি তাঁর ভাষণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, অনুব্রত মণ্ডলের মতো একজন প্রতাপশালী নেতার পার্টি অফিসে বা বাড়িতে এভাবে দিনের আলোতে ঢুকে আক্রমণ করা যায়, এটা আগে কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। অথচ আজ সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ঠিক সেটাই ঘটানো হলো। তিনি দাবি করেন যে, শাসকদলের মদতেই কয়েকজন যুবক অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকল এবং বেরিয়ে যাওয়ার সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে গেল। এই গোটা ঘটনাটি বিজেপির বদনাম করার জন্য সাজানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

IMG 20261001 WA0042
West Bengal Industry Land: শিল্পায়নের জমি জট কাটাতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের! রাজ্যজুড়ে বন্ধ কারখানার জমির তালিকা তৈরি করছে নবান্ন।

আরও পড়ুনঃ West Bengal Industry Land: শিল্পায়নের জমি জট কাটাতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের! রাজ্যজুড়ে বন্ধ কারখানার জমির তালিকা তৈরি করছে নবান্ন।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় শুধুমাত্র বীরভূমের ঘটনাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং শক্তি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন। জাতীয় রাজনীতিতে এবং সংসদীয় ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন যে, জাতীয় স্তরে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি বা সম্মতি জানাতে গেলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন থাকা সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে সেই নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব আগের থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শমীক ভট্টাচার্যের এই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

Advertisement

আগামী দিনে রাজ্যে আসন্ন একাধিক বিধানসভা উপনির্বাচনের লড়াইকে সামনে রেখে শমীক ভট্টাচার্য শাসক এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির উদ্দেশ্যে এক খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতার কথা উল্লেখ করে বিজেপি সভাপতি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন যে, বর্তমানে বাংলার মাটিতে সিপিএমের যেমন রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতাও আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন যে, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল, সিপিএম এবং রাজ্যের সমস্ত বিরোধী শক্তি যদি একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়, তাহলেও ভোটের ফলাফল বেরোলেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে আসল রাজনৈতিক শক্তি কার কাছে রয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছেন।

Annapurna Yojana Camp: সরকারি জনকল্যাণ শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ এবং সরকারি আধিকারিকরা
Annapurna Yojana Camp: সরকারি জনকল্যাণ শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ এবং সরকারি আধিকারিকরা

আরও পড়ুনঃ Annapurna Yojana Camp: ফের অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের সুযোগ! কাল থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু জনকল্যাণ শিবির।

নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী শমীক ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন যে, উপনির্বাচনে বিজেপির জয় কেউ আটকাতে পারবে বিধায়ক। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন যে, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় সত্তর শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের নিঃশর্ত সমর্থন নিয়ে বিজেপি যেমন বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে, ঠিক তেমনই হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও বিজেপির বিজয় একেবারে নিশ্চিত। রাজ্যের প্রতিটি কোণায় এখন বিজেপির পক্ষে সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্যের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট নেতা দিলীপ সিং এবং ডক্টর রাজেশ কুমার-সহ আরও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই সভার মধ্যে দিয়ে বিজেপি যে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement Andaman Vibes

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img